• Blogtog

আনলক ব্রেকডাউন - প্রতিভা মন্ডল দাশগুপ্ত


আরে এ ভোলা ! ওই যে ওই ইলিশ টা ! দেখ তো কত ওজন হচ্ছে ! আর ওই ট্যাংরা গুলো ! নানা ছোট ছোট গুলো , ছোট গুলো দে ! আর ভেটকীর ফিলে দে তো গোটা দশেক ।


রবিবারের ব্যাস্ত সকাল , প্রায় দুমাস লোকডাউন এর পর আজ আনলক স্টেজ ওয়ান এর পর্বে ছাড় পেয়ে মাছ প্রেমী বটুকেশ্বর ওরফে বটুক বাবু ছুটে এসেছেন তাঁর প্রিয় লেক মার্কেট এর মাছের বাজারে । এতদিন বাড়ি বন্দি থেকে বাড়ির দুয়ারেই স্বাদ হীন কাটা পোনা , বাটা আর পুঁটি মাছ খেয়ে খেয়ে জিভে ছাতা পড়েগেছে । আজ এতদিন পর প্রিয় মাছের বাজারের আঁশটে গন্ধ প্রাণ ভরে নিতে পেরে ভারি ভালো লাগছে তাঁর ।


-আর এ দাদা তাড়াতাড়ি করুন না ! কতক্ষন লাগাবেন ?

দেরি হচ্ছে দেখে প্রায় তিন মিটার দূরে দাঁড়ানো মাস্ক পরিহিতা ভদ্রমহিলা তাড়া লাগলেন বটুক বাবুকে ।

- সব মাছ কি উনি একাই কিনবেন নাকি? আমরা ও তো দাঁড়িয়ে আছি রে বাবা ! বলুন তো কি আশ্চর্য লোক !


ভদ্রমহিলা র থেকে আর ও তিনমিটার দূরে দাঁড়ানো আর এক ভদ্র লোক সুর জুড়লেন তাঁর সাথেই । তাঁর ও পিছনের জন হয়তো কিছু বললেন , ওতো দূরত্ব ভেঙে সে গালি আর কানে পৌছালো না বটুক বাবুর ।


অন্যদিন হলে হয়তো দুকথা শুনিয়ে দিতেন বটুক বাবু , কিন্তু আজ টাটকা ইলিশ আর ভেটকি পেয়ে মনটা এতো খুশি যে ' জাস্ট ইগনোর ' বলে জোরে শ্বাস ছেড়ে রাগ ঝেড়ে ফেললেন ।

মাছ কিনে সোজা ক্যাবলা র কাছে । ক্যাবলা গুণী ছেলে , লেকমার্কেট এর এক কোনে আঁশ বঁটি , ছুরি নিয়ে বসে ছোটবেলায় মায়ের কাছে রপ্ত করা বিদ্যেটি কাজে লাগিয়ে দিব্বি ব্যাবসা করে খাচ্ছে । বটুক বাবুর মাছ কাটালে একমাত্র কেবলার কাছেই । খুঁতখুঁতে গিন্নিও দিব্বি খুশি হয়ে যায় ক্যাবলা আঁশ ছাড়ানো দেখে ।

ওওও বাব্বা ! এখানেও যে লাইন ! তবু বটুক বাবুর উৎসাহের খামতি নেই ! করোনা বিধি তে 'সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিঙ' মেনে দিব্বি দশ-বারো জনের পর লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন ।

-আর এ বাবু ! এতদিন পর আপনার দর্শন পেলাম যে ! তা বাড়ি তে সব ভালো তো !

বহুকাল পর বটুক বাবুকে দেখে আকর্ণ দন্ত বিকশিত করে বলে ওঠে ক্যাবলা ।

-হ্যা রে সব ভালো , খুব ভালো । এই দেখ ! আজ কত ভালো ভালো সব মাছ পেয়েছি !

এই বলে সহাস্য বদনে মাছের থলিটি উপুড় করে দিলেন ক্যাবলার সামনে । বড়ো বড়ো আমেরিকান কই , ভেটকীর ফিলে , ট্যাংরা , পমফ্রেট , বোয়াল , চিতল ইত্যাদি ইত্যাদি... আর সবার মাঝে রাজার মতো বিরাজ মান দেড় কেজির চকচকে রুপালি ইলিশ টি যা দেখে ক্যাবলা সহ আসে পাশে র লোক জনের ও লোভী চোখ গুলো চিক চিক করে উঠলো । আড়চোখে তাই দেখে মাস্কের আড়াল এ থাকা গোঁফ জোড়া টি একবার সগর্বে পাকিয়ে নিলেন বটুক বাবু ।


মাছের পর্ব চুকতে ঢুকতেই হয় সবজি বাজারেও । সেখানে থেকে বড়ো দুই থলি শাকসবজি কিনে দাঁড়ালেন অটোর লাইন এ । চোখে পড়লো একটা সর্ষের তেলের বিজ্ঞাপন । এক বাঙালি বাবু বাজার করে ধুতির কোঁচা হাতে নিয়ে ফিরছেন , আর পিছনে ভৃত্যের মাথায় ঝুড়িতে সমস্ত বাজার করা সামগ্রী । আহা ! যদি তিনিও পারতেন এরকম একটি ভৃত্য রাখতে !

- নিউ আলিপুর - পেট্রোলপাম্প - তারাতলা..

যাক বাবা ! এতক্ষনে একটা অটো এলো । ভারি ভারি তিনটে থলি বাগিয়ে তাড়াতাড়ি অটো তে উঠতে যাবেন এমন সময় অটো ওয়ালা বলে উঠলেন - সরি কাকা... ওনলি দুজন ।... তারপর চোখ টিপে একটা ছিঁচকে মার্কা হাসি হেসে ভটভট করে অটো ছেড়ে মিলিয়ে গেলো রাসবিহারী র দিকে ।

জুনের শেষ সকাল , প্রখর সূর্যের তাপে , গরমে তাঁর পাঞ্জাবী র ভিতরে হাজার খানেক ঘামের নদ নদী প্রবাহিত হচ্ছে, তার উপর তিন তিনটে বাজারএর ব্যাগের ওজন ! এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর ভীষণ । কিন্তু পরবর্তী অটো না আসা অবধি উপায় ও নেই ।

- মা করোনা নামে কিছু দিন বাবু ! মা করোনা আপনার পরিবারকে উদ্ধার করবে !

- ইক্কক ! এই এই !... এ আবার কি রে বাবা !

ঘ্যান ঘ্যানে বাচ্চা ছেলের কণ্ঠে আজব বুলি শুনে আঁতকে এক লাফে পিছিয়ে এলেন বটুক বাবু।

ময়লা শতছিন্ন জামা পরিহিত একটি বছর দশেকের বাচ্চা ছেলে , হাতে একটি ছোট্ট সিংহাসন এ সবুজ লাল করোনা র ভাইরাস রুপী দুটি ছোট ছোট মূর্তি , ফুল -চন্দন এ চর্চিত ।

-মা করোনা আপনার ভালো করবেন বাবু ।

মেয়েটি এবার বটুক বাবুর পাঞ্জাবী র কোন ধরে আলতো করে টান মারলো।

- এই এই করিস কি ! ছাড় ! ছাড় !

আর ও দুপা প্রায় লাফিয়ে পিছিয়ে এলেন তিনি।

- দিন না বাবু দুটো টাকা ! মা কোরোনার আশীর্বাদ এ আমরাও একটু খেয়ে পরে বাঁচি ।

বটুক বাবুর তিন তিনটে বাজার ভর্তি ব্যাগ এ করুন দৃষ্টি হেনে বললো ছেলেটি । পাছে নজর দেওয়া মাছ খেয়ে বাড়ি শুদ্ধ লোকের পেট ব্যাথ্যা হয় তাই ব্যাগ গুলো কে যতটা পারা যায় আড়াল করলেন বটুক বাবু।

- এই মা করোনা টা আবার কি ! এটা একটা রোগ, জানিস না ? তাকে আবার তুই ঠাকুর বানিয়ে পুজো করছিস !

ঝেঁজিয়ে উঠলেন বটুক বাবু।

- পুজো করতে শুরু করলাম বলেই না দুটো খেতে পাচ্ছি ।

- মানে? কি রকম ?

- এই যে এতদিন কি সব নকডান ফকদান ছিল , কাজ ছিল না , খেতেও পাইনি । তারপর একদিন স্বপ্নে মা করোনা এলেন । আমাকে বললেন আমার পুজো শুরু কর পৃথিবী তে । ওনার আদেশ এ তাই শুরু করলাম করলাম , এক সপ্তাহ পর একে একে সব খুলতে লাগলো , আর এখন দেখুন , সব কিছু খুলে গেলো ,

বাচ্চা ছেলেটি সগর্বে লোক শুনিয়ে শুনিয়ে 'মা কোরোনার' মাহাত্ম প্রচার করতে লাগলো ।

- ছেলে একদম একদম ঠিক কথা বলেছে দাদা । ওর কথায় যবে থেকে করোনা মাতা র পুজো দিতে শুরু করি তবে থেকেই লকডাউন এক এক করে আনলক হতে শুরু করে । আর ততো আমার ব্যাবসা ও চড়চড় করে বাড়তে শুরু করেছে ।

উল্টো দিকের ফুলের দোকানের মালিক তাঁর বিপুল কর্মব্যস্ততার মধ্যেও বাচ্চাটির কথায় সমর্থন জানায় । এতক্ষনে বটুক বাবুর চোখ পড়ে তাঁর ফুলের দোকানটিতে । এতদিন এই দোকানে রংবেরঙের গোলাপ মল্লিকা জারবেরা র স্তবক , বিবাহের মালা , গাঁদা র মালা দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন , আজ যেন হঠাৎ কোনো মন্ত্রবলে সব রং উধাও হয়ে শুধু রাশি রাশি সাদা ফুলের পসরা সাজানো , রাশি রাশি বেল , জুঁই রজনীগন্ধা র মালা স্তূপীকৃত । মৃত দেহ , শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন এর জন্যে ছোট বড়ো হরেক রকম ডিজাইন এর ফুলের রিং , স্তবক ইত্যাদি থরে থরে সাজানো দোকান জুড়ে , আর দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে একটি লাইন চলে গেছে বহুদূর পর্যন্ত । ব্যাস্ত হাতে খদ্দের সামলাচ্ছে দোকানের পাঁচ ছয়টি কর্মচারী । এর আগেও বটুক বাবু বহুবার এই দোকান থেকে গিন্নির বৃহস্পতি বারের ফুল বা বিয়েবাড়ির জন্যে পুষ্পস্তবক কিনেছেন , কিন্তু আজ দোকানের কলেবর দেখে তাঁর ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হল ।

- হ্যালো ! হ্যা হ্যা শোনা যাচ্ছে বলুন , কিসে ? করোনা য় ? হ্যা হ্যা হয়ে যাবে , কোনো চাপ নেই । তবে চার্জ ডাবল । ঠিক আছে ঠিকানা বলুন । দু ঘন্টায় গাড়ি, ফুল, সহ সব উপকরণ নিয়ে আমার ছেলেরা পৌঁছে যাবে বাড়িতে ।

এর মধ্যেই ফুলের দোকানের মালিকের ফোনালাপ এর টুকরো টুকরো কথা কর্ণগোচর হল বটুক বাবুর । তিনি জিজ্ঞাসু চোখে দোকানদারের দিকে তাকাতেই দোকানদার হেসে বললেন

- এটা আমার নতুন একটা বিজনেস বলতে পারেন । করোনা য় মৃত দের অন্তিম যাত্রার সমস্ত ব্যবস্থা করছি আমরা । একদম ফুল সাজানো গাড়ি থেকে শ্মশান অবধি, সব কিছু সুন্দর ভাবে করে দি। কি বলবো মশায় ! লকডাউন খুলতে না খুলতেই রোজ প্রায় একশো দেড়শো করে অর্ডার আসছে ! সাধে কি বললাম দাদা, মা কোরোনার কৃপায় আজ আমার ভাগ্য খুলে গেছে !

এই বলে মা করোনাকে করজোড়ে প্রণাম করে বাচ্চা ছেলেটির হাতে একটি দশটাকার নোট গুঁজে দিলেন দোকানদার । তার পর বটুক বাবুর দিকে একটি বিসনেস কার্ড এগিয়ে দিতে দিতে বললেন

- এই যে এই কার্ড টা রাখুন । কাজে আসবে ।

বটুক বাবুর দুহাত এ ব্যাগ দেখে দোকানি ভদ্রলোক কার্ড টা একটি বাজারের থলির মধ্যেই ঢুকিয়ে দিয়ে মুহূর্তেই আবার কর্মব্যাস্ত দোকানের ভিতর অন্তর্হিত হলেন ।

-লে বালিশের কভার , পাশ-বালিশের কভার ! বাবু পাশ বালিশের কভার লাগবে ?

একটি লিকলিকে ঢ্যাঙা ছোকরা চোখে লোফার মার্কা সানগ্লাস এঁটে , মুখে মাস্ক বেঁধে সুর করে হেঁকে হেঁকে পাশবালিশের কভার বিক্রি করছে । বটুক বাবুর প্রায় গায়ে পড়ে একটা পাশবালিশের কভার এগিয়ে দিয়ে বললো সে ।


অনেক দিন ধরেই গিন্নি অভিযোগ করছিলো বিল্টুর পাশবালিশের কভার টা ছিঁড়ে গেছে । লকডাউন থাকায় সেটা আর কিনে ওঠা হয়নি।অটো যখন আসতে দেরি ই করছে সেই ফাঁকে একঝলক দেখে নেওয়া যেতে পারে কভার গুলো । কি জানি হয়তো এক আধটা পছন্দ ও হয়ে যেতে পারে ।

- কত করে দিচ্ছ ভাই ?

- 100 টাকা একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি ।

এই বলে লাল সবুজ নীল হলুদ বিভিন্ন রঙের কয়েকটা কভার বের করে বটুক বাবুকে দেখাতে শুরু করলো সে । ডিজাইন দেখে চমকে উঠলেন বটুক বাবু !মিয়ানো গলায় বললেন

- আর কিছু নেই ভাই ?

- বলেন কি মশায় ! এসব হল এবারের হিট আইটেম ! একদম হট কেকের মতো বিকোচ্ছে । দিয়ে কুলোতে পারছিনা । ডেইলি একশো দেড়শো পিস বিক্রি করছি । যেই এতে পাশবালিশ পুরে দেবেন অমনি আপনার পাশবালিশ হয়ে যাবে করোনা পাশবালিশ । এবার করোনাকে পাশবালিশ করে আপনিও দিব্বি ঘুমাতে পারবেন । কি হল বাবু ? আর এ দেখুন শুধু ! দেখতে পয়সা নি না ! এই যে এটা এটা দেখুন ! এই গ্রীন টা সব চেয়ে বেশি চলছে..


এই বলে সে একটা করোনা ছাপ বিদঘুটে সবুজ কভার তুলে ধরলো এক্কেবারে বটুক বাবুর মুখের সামনে । বটুক বাবু দেখলেন ছাপা গুলো নিছক ই ছাপা নয় , লক্ষ লক্ষ করোনা র ভাইরাস সদৃশ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব তাতে বিচরণ করছে । সেগুলি ক্রমেই বাতাসে ভাসতে ভাসতে ধেয়ে আসছে বটুক বাবুর দিকে । ভয়ে একপা দুপা করে পিছিয়ে যাচ্ছেন তিনি , আর ততই এগিয়ে আসছে কভার বিক্রেতা ছেলেটি ।


- নিউআলিপুর , পেট্রোলপাম্প , তারাতলা...

ঠিক এমন ই সময় হাঁক পাড়তে পাড়তে হাজির একটি অটো । সেই ডাকে বটুক বাবু র যেন ধড়ে প্রাণ এলো । থলি পত্র বাগিয়ে পিছন ফিরে ছুটলেন অটো ধরার জন্যে । অটো তে উঠতেই যাবেন ঠিক এমন

- সরি কাকা.. ওনলি দু জন ।

পূর্ব পরিচিত স্বর ও বচনভঙ্গি তে চমকে উঠলেন বটুক বাবু, আরে ! এতো আবার সেই পূর্বের অটো চালক টি ই !

- ও বাবু বালিশের কভার টা দেখলেন না যে ! একটা নিয়ে গিয়ে দেখুন , আবার কিনতে আসবেন পরে । ও বাবু !

ভয়ঙ্কর পাশবালিশ বিক্রেতার ডাকে বটুক বাবু আতঙ্কে আর পিছন ও ফিরলেন না । তিনি হাত জোড় করে অটো ওয়ালা কে বললেন

- নিয়ে চলো ভাই , যা ভাড়া চাইবে তার চেয়ে বেশি দেবো ।

- সরি কাকা ! কেস খেতে রাজি নই ।

এই বলে পূর্বের ন্যায় ভটভট করে অটোর স্টার্ট শুরু করো সে ।

- আর এ বাবু সবুজ টা না হয় লাল টা দেখুন , একদম হেব্বি কোয়ালিটির । সকাল সকাল বউনি না হয় আপনার শুভ হাতে হোক । একটা নিন । পঞ্চাশ এ দেবো । আচ্ছা আচ্ছা চল্লিশ ই দিন।

নাছোড়বান্দা পাশবালিশ এর কভার বিক্রেতা ঢ্যাঙা ছোকরা তার বীভৎস দর্শন কভার গুলো নিয়ে ক্রমশঃ এগিয়ে আসছে বটুক বাবুর দিকে । এদিকে অটো ওয়ালা ও প্রায় চলতে শুরু করেছে । উপায় না দেখে বটুক বাবু প্রাণের ভয়ে অটোর পিছনে পিছনেই দৌড়াতে শুরু করলেন ।

- বাঁচাও ! ও ভাই নিয়ে চলো ভাই ! বাঁচাও ভাই এখান থেকে ! বাঁচাও আমাকে !......


- কি গো ! কি হল তোমার !ওগো শুনছো ! কি হল গো ? এই বিল্টু তাড়াতাড়ি দেখ এসে ! তোর বাবা কেমন গোঙাচ্ছে ঘুমের ঘোরে ! এই বিল্টু !

গিন্নির ডাকে ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসলেন বটুক বাবু । শুকনো গলায় কোনো মতে গিন্নি কে বললেন

- জ..জল.. একটু জল ।

গিন্নি তাড়াতাড়ি জলের গ্লাস টা এগিয়ে দিয়ে চিন্তিত মুখে জিজ্ঞাসা করলেন

- বাজে স্বপ্ন দেখলে বুঝি ?

বটুক বাবু কোনো উত্তর না দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে গিন্নির মুখের দিকে চেয়ে থাকলেন শুধু ।

- মা.. ছ... লাগবে... মাছ... ট্যাংরা আছে সরপুঁটি আছে পাবদা আছে অন্ধ্রের রুই....


বটুক বাবুর কানে এলো বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁকে যাওয়া পাড়ার মাছ ওয়ালা কেষ্টার কণ্ঠস্বর ।

- এই এই মাছ ওয়ালা মাছ ওয়ালা কে ডাকো ডাকো ।

বালিশের পাশে রাখা হাই পাওয়ার এর চশমা টা চোখে দিতে দিতে গিন্নি কে বললেন তিনি ।

- কিন্তু তুমি তো বললে আজ লেক মার্কেট এ যাবে মাছ কিনতে ! আমি তো সেই মতো.....

গিন্নির কথা শেষ হলো না , ততক্ষনে লুঙ্গির উপর ফতুয়াটা গলাতে গলাতে বটুক বাবু ছুটেছেন কেষ্টা কে ডাকতে ডাকতে..

- ওরে কেষ্টা. ... দাঁড়া রে ! দাঁড়া ভাই আসছি আমি । কি কি মাছ এনেছিস রে আজ... ?


................. সমাপ্ত...............


ছবি: ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য

116 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.