• Blogtog

অ্যাাসিডোফিলিক ক্যাপসুল ও টেনিদা | সৌরদীপ বর্দ্ধন


সৌরদীপ বর্দ্ধন



এ্যাই এ্যাই ! চেচিয়ে উঠল টেনিদা ,”হামকো এক ঠোঙ্গা বাদামদিয়ে যাও”।এই চরম বাজে অভ্যাস টেনিদার ,ট্রেনে যেতে যেতেযা পারবে তাই গিলবে ,শুধু ট্রেন কেন,পাড়ার মোর টু ড্রয়িংরুম,ব্যাপারখানা একই।এখন বাদাম তার আগে সরভাজা আর লুচি আর মাংসের পর্ব শেষ,এরপরের টার্গেট যে কি এখনি কেউ বুঝতে পারছে না। সেদিন চাটুজ্জেদের রকে বসে হাবুল যেইবলে উঠল ‘বাড়িতে বইসা থাইকতে থাইকতে যে পায়ে খিলধইরা গেল টেনিদা’, ওমনি টেনিদা বসে গেলেন ভাবতে,শেষে কোপ পড়ল ক্যাবলার ঘাড়েই ।এবারের গন্তব্য তাই ঠিক হল গিরিডি,ক্যাবলার দূরসম্পর্কের মামিমার বাড়ি।আর সেকারণের সবাই আজ ট্রেনে আর সেইসাথে টেনিদার মুখ চালানোটা হাঁ করে দেখে যাচ্ছে সবাই।তবে হাবুল পেয়েছে ২টি বাদাম,হাজার হোক আইডিয়াটা প্রথম ওরই ছিল ! বাকিদের শিকে ছেড়েনি।দুপুর ১ট নাগাদ মামিমা, মামিমা হাঁক ছাড়া ক্যাবলার পেছন পেছন ঢুকল প্রত্যেকে,সবার পেছনে টেনিদা অবশ্যি। আর সেখানেও টেনিদার স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে ছক্কা হাঁকালো মানে ওই আর কি বাকি তিনজনের সমান ভাত,খানদশেক মাছ ভাজা,৫ বাটি মাংস ,১৫ টা চমচম।বাকিরাকোনোরকম দুটি গিলে উদ্ধার হল।বিকেলে মামা বললেন একটুবেরিয়ে আসতে বোধহয় দুপুরের পরিবেশনার জ্বালা কাটিয়ে ওঠার সময় চেয়ে নিলেন। বাকিদের পেটের অবস্থা হতাশাজনক। দুটি করে মাংস দিয়ে বাকিটা গেছে টেনিদার পাতে,ক্যাবলা রীতিমত ফুসছে।

এদিকে প্রফেসার শঙ্কু অনেকদিন পর বেরিয়েছেন বিকেল বেলা,সাধারণত উশ্রির ধারটা তার সকালবেলাতেই ভাল লাগে বেশি।প্রতিবেশী অবিনাশবাবু একপ্রকার জোর করেই নিয়ে এলেন,তাছাড়া নতুন অ্যাসিডাফোলিক ক্যাপসুল গান টার এক্সপেরিমেন্টট পুরোপুরি সফল বলা যায় কিনা এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ তার আছে।কারণ তিনি প্রায়ই লক্ষ করে দেখেছেন যে এখন মানুষ অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া,প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাদ্যগ্রহন নিয়েও চিন্তিত,তাই তিনি এ ক্যাপসুল আবিস্কার করেছেন তবে প্রয়োগ করেননি, সমস্যাটা সাইড এফেক্ট টা নিয়েই.. এই ভাবতেই ভাবতেই কিছুটা নদীর ধার ঘেষে যাচ্ছিলেন তিনি।হঠাট ঘটল সমাপতন,যেন জগত টা পুরোপুরি উলটে গেছে।হুশ ফিরলে ব্যাপারটা বোঝা গেল সামনের ছোকড়াদের দলের একজন উটকোমত ঢ্যাঙ্গা ,খান ১৫ কলা খেয়ে খোসাটা ছুঁড়ে ফেলেছে তারফলেই এই সমাপতন।অবিনাশবাবু এসে তুললেন সাথে প্যালা ,ক্যাবলা।অবিনাশবাবু একহাত নিতে এগিয়ে এলেন প্রায়,টেনিদা তখনো পায়ের ওপর পা রেখে বসে, যেন দেখ আমায় প্রশ্ন করা যাবে না এরম।

- ‘তুমি এইভাবে খোসা ফেলছ কেন হে ছোকড়া,জান উনি কে,তাছাড়া এ কেমন অসভ্যতা ?’কৌন ছোকড়া ,তাছাড়া ওই টেকো বুড়ো যে রাস্তা ছেড়ে এপথ দিয়ে যাবেন সেকথা কে জানবে’ চেঁচিয়ে উঠলো টেনিদা,আমি হলাম পটলডাঙ্গার টেনি ,আমাকে চালাকি দেখাচ্ছেন’। প্রফেসার এমনিতে ঠাণ্ডা মাথার মানুষ আজ জানি কেন টেকো কন্সেপ্টটায় তিনি বড্ড অসন্তুষ্ট হয়ে পড়লেন।তিনি হলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসার ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু,সে টেকো ঠিক তাই বলে এভাবে বলবে,মানে এতটা বিশ্রীভাবে! মোক্ষম সময়ে ভাবনাটা মাথায় এলো ।পকেট থেকে ক্যাপ্সুল গান থেকে ক্যাপ্সুল তাক করে ছুড়ে দিলেন পটলডাঙ্গার টেনিদার দিকে,দ্রুত বেরিয়ে এলেন অবিনাশবাবুকে বগলদাবা করে,’আরে মশাই হলট না দিয়েই।


এরপরের ঘটনাক্রম এরকম,রাতে একপ্রকার পাখির আহার করলে টেনিদা, পরদিন গেল সেই ব্যাজার মুখেই যেন জগতসংসার তার ঘাড়ে এসেই পড়েছে।মাঝে মাঝে বাথরুমের শরণাপন্ন হচ্ছে আর বলে উঠছে’ প্যালারে,আরে ক্যাবলা হাবুল আমি বোধহয় আর এযাত্রা বাঁচবো না রে, যা ধরেছে, ছাড়ছে কই?।আসল ঘটনার তখনো বাকি অর্থাৎ তারপরের দিনই সকালের ট্রেনে বাড়ি পালাল পটলডাঙার টেনি! টেবিলে সাজানো আলুর দম,লুচি আর মিষ্টান্ন দেখে ২ দিনে ধরে প্রায় না খেতে পারা হাবুল সেনই বলে উঠল’


ডি লা গ্র্যান্ডি মেফিস্টোফেলিস’,
‘ইয়াক ইয়াক’

চেঁচিয়ে উঠলো প্যালা আর ক্যাবলা।

আজ একবার যে কোনোভাবেই হোক খোঁজ নিতে হবে প্রফেসারের। ক্যাপসুলের সাইড এফেক্টটা নিয়ে এখনো কিছুটা এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।



0 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.