• Blogtog

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল স্বামীর তাই নিজের হাসপাতালে গরিবদের চিকিৎসা করেন বিনামুল্যে


লড়াই করা মানুষের ধর্ম । সভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষ লড়াই করে আসছে । কখনো বাঁচার জন্য , কখনো আধিপত্যের জন্য আবার কখনো নিজেকে প্রমাণ করার জন্য । আর এমনই একজন লড়াকু মানুষ হলেন পশ্চিমবঙ্গের সুভাষিণী মিস্ত্রি ।


৭১ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তান নিয়ে তিনি পড়েছিলেন অথৈ সাগরে । কিন্তু তাতে কি , তিনি তো হার মানার মানুষ ছিলেন না । নিজের তিন সন্তানকে অনাথ আশ্রমে রেখে তিনি ঝাঁপ দিলেন জীবন যুদ্ধে । তখন তার সাথী ছিল বড় মেয়ে উত্তরা(৯ বছর) । বাসা বাড়ির কাজ , চায়ের দোকানে কাজ , জমিতে চারা বোনা বা ঢালাইয়ের কাজ সব কিছুই করেছেন তিনি । অবশেষে শুরু করলেন সবজি বিক্রির কাজ আর এই কাজই তাকে খুঁজে দিয়েছিল বাঁচবার পথ। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল তার স্বামীর তাই নিজের নিজের দীর্ঘ পরিশ্রমের টাকায় জমি কিনে ১৯৯৬ সালে তৈরি করে নিজের স্বপ্নের হাসপাতাল । নাম দিয়েছিলেন হিউম্যানিটি হসপিটাল । তবে সুভাষিণী দেবীর হসপিটাল হিসেবে এটি বেশি পরিচিত । এই হাসপাতালে গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসার শুব্যবস্থা রয়েছে । সুযোগ সুবিধার দিকে থেকেও পিছিয়ে নেই তার এই হাসপাতাল ।


পড়ুনঃ


সাধারণ মানুষ আর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে ওনার এই হাসপাতাল এখন তিনতলা । তবে শুধু একটা নয় সুন্দরবনেও নিজে উদ্যোগে তৈরি করেছেন দ্বিতীয় হিউম্যানিটি হাসপাতাল । তবে ৮০ বছরের এই যোদ্ধা তো আর থেমে থাকার মানুষের মধ্যে পড়েন না । তার স্বপ্ন হলো এই হাসপাতাল গুলোকে আরো বড় করে তোলা আর আধুনিক সুবিধায় সজ্জিত করা । তার ছোট ছেলে অজয় বর্তমানে এই হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছেন আর আর মেয়ে সুফলা একজন নার্স হিসেবে রোগিদের সেবা করে চলেছেন ।


তার এই মানব কল্যাণের কাজকে স্বীকৃতি দিয়েছে ভারত সরকার । পদ্মশ্রী পুরুষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে সুভাষিনি দেবীকে । আসলে নিজের উপর দৃঢ় বিশ্বাস আর স্বপ্ন পূরণেরঅদম্য ইচ্ছে থাকলে কোনো কাজই অসম্ভব নয় । আর সুভাষিণী মিস্ত্রির মতো মানুষেরা সকলের কাছে এটা বার বার প্রমান করে দিয়েছেন ।


পড়ুনঃ


  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.