• Blogtog

বিজয়া রায় বলেছিলেন নায়িকার standard মেলেনা সত্যজিতের সাথে- কার্যত কর্মহীনা হয়ে পড়েন মাধবী


সুতনুকা চট্টোপাধ্যায়।

প্রেম এক আজব জিনিস বটে।

কবে কোথায় কখন কার সাথে কে প্রেমে পড়ে যায় তা সত্যি বোঝা দায়। বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এক্সট্রা ম্যারাইটাল এফ‍্যায়ার নিয়ে অনেক কানা-ঘুষো শোনা যায়। নতুন নয়, সোনার দশক বা তারও আগে বারবার ঘটেছে এমন ঘটনা, শোনা গেছে বহু নায়ক-নায়িকা-পরিচালকের সম্পর্কের কথা।


কিছুদিন আগে, এক রবিবার 'সংবাদ প্রতিদিনে'র 'কফি হাউস' পাতাটায় চোখ বোলাতে গিয়ে দেখি মাধবী মুখোপাধ্যায় সাক্ষাৎকার বেরিয়েছে। ছুটির দিন, হাতে সময় অঢেল, ভাবলাম পড়েই ফেলি। গুছিয়ে চা-টা নিয়ে বসে যেই পাতাটা খুললাম মনে হলো নিজের চোখ কেই বিশ্বাস করতে পারছিনা।


তড়িঘড়ি পড়া শুরু করলাম। সত্যজিৎ রায় নাকি মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সাথে এক প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন হঠাৎই। এই ঘটনা 'চারুলতা' সিনেমা বেরোনোর ঠিক পরবর্তী সময়ে। পরপর ২টি সিনেমা করেছেন সত্যজিৎ রায় ও মাধবী মুখার্জী - 'মহানগর (1963)' ও 'চারুলতা (1964)।' দুটোই সাংঘাতিক ভাবে সাফল্য পেয়েছিলো। নায়িকা প্রশংসিত হয়েছিলেন তাঁর অভাবনীয় অভিনয়ের জন্য। আর চিত্রকার তো ভগবানদত্ত। এর পরের বছরই মুক্তি পায় মাধবী মুখোপাধ্যায় অভিনীত সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'কাপুরুষ (1965)।' সেটি তুলনামূলক কম হলেও সাফল্য পেয়েছিলো ভালোই।


পড়ুনঃ জঙ্গল বাঁচিয়ে উল্টে সরকারের বিরুদ্ধে কেস করে জিতল আমাজনের আদিবাসীরা


'চারুলতা' সিনেমায় সত্যজিৎ বাবু ঠিক তাঁর মনের মতন করে সাজিয়েছিলেন চারুকে। শোনা যায়, পরবর্তীকালে 'ঘরে বাইরে' করার সময় স্বাতীলেখা চ্যাটার্জীকে উনি চারুর ধাঁচে গড়ে তুলেছিলেন। ক্যারেক্টরটি নাকি মানুষটি, কার প্রতি বেশি টান ছিলো চিত্রকারের?


এ কথা জানাজানি হওয়ার পর বিজয়া রায় ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত পরিচালক ও প্রোডিউসারের সাথে একান্তে দেখা করেন। আবেদন করেছিলেন যাতে তারা মাধবী মুখোপাধ্যায়কে তাদের চলচিত্রে স্থান না দেয়। কার্যত নায়িকার জীবনে ইতি টেনে দেন সেই সময়কার টলিউডের ফার্স্ট-লেডি।


পরবর্তীকালে বিজয়া দেবী তার আত্মজীবনীতে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। 'আমাদের কথা' প্রকাশিত হয় কলকাতায়, ২৮-এ এপ্রিল। এর আগে তার আত্মজীবনী ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতো 'দেশ' পত্রিকায়। এই জীবনবৃত্তান্তে তিনি সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করেন তাঁর স্বামীর এই সম্পর্কের কথা। তিনি বলেন যে তাঁর স্বামী, অর্থাৎ সত্যজিৎ রায়ের, সাথে নায়িকার স্ট্যান্ডার্ড একেবারেই মেলেনা। যদিও তিনি কোনো নায়িকার নাম নেননি, তবুও সঠিকভাবে বুঝে নিতে তেমন কোনো অসুবিধা হয়নি কারুর। দীর্ঘ ১০ বছর এই সম্পর্কের কথা সেই সময় প্রত্যেক লোকমুখে এক গভীর আলোচ্য বিষয় ছিলো।


পড়ুনঃ ১৯১৩ সালে সমারসেটে ব্লাকার খুঁজে পেলেন হবহু আরেক মোনালিসা


দোষ-গুন বিচার করা এক্ষেত্রে অসম্ভব। প্রেম বড়ই অদ্ভুত! যাইহোক, 'কাপুরুষের' পর সত্যজিৎ রায় আর মাধবী দেবীর সাথে সিনেমা করেননি। বিজয়া দেবীর সাথে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকে। রায় পরিবারে ফিরে আসে শান্তির প্রতিচ্ছবি। তবে, এসবের আড়ালে চোখ এড়িয়ে যায় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের অবস্থা, ওনার পরিস্থিতি। ভালোবাসা দিয়ে তো আর পেট ভরেনা। তাও, সেই ভালবাসা তাঁর;' হয়নি। কর্মহীনা হয়ে পড়েন তিনি।


মহানায়ক সেইদিন পাশে না দাঁড়ালে হয়তো নায়িকা একরাশ ব্যক্তিত্বর মধ্যে হারিয়েই যেত। হ্যাঁ, ঠিকই! উত্তম কুমার সেই সময় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সাথে পরপর ৭টি সিনেমা করেন, যা তিনি আর কোনো নায়িকার সাথে করেননি। কমবেশি প্রতিটি ছবি সাফল্য পায়। তাঁদের জুটিও বেশ প্রশংসিত হয় সিনেমাপ্রেমীদের দ্বারা। মানুষের ভালোবাসা ও নায়িকার সাফল্যের আড়ালে হারিয়ে যায় সেই বহু আলোচিত সত্যটি। আজ এত বছর পর, নায়িকা নিজের মুখে এ কথা স্বীকার করেন 'প্রতিদিনে'-র 'কফি হাউসে'-র আড্ডায়।


তথ্য সংগৃহিত: https://m.telegraphindia.com/7-days/if-you-say-something-you-must-speak-out-the-whole-truth-or-else-don-t-say-anything-at-all/cid/579152


প্রতিদিন সংবাদপত্রের 'কফি হাউস'


এমন আরও কিছু ব্লগ

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.