• Blogtog

BloorEnd Young Steet থেকে যাত্রা শুরু, মাসির বাড়ি Central Island- কানাডায় রথযাত্রা


সাগরপারে রথযাত্রা। ছবি- আনর্ঘ গড়াই
পায়েল সরকার বসু।

সকাল থেকে ফেবু খুলেই দেখি লোকজন রথের ছবি তে ভরিয়ে দিয়েছে। আমিও বেশ গরম কফি র কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় বসে পরপর ফটো লাইক করা শুরু করলাম।


মনটা মাঝে মাঝেই নস্টালজিয়ায় ভরে যাচ্ছিল। রথের মেলার পাঁপড় ভাজা, জিলিপি, গজা সবাই যেন আমাকে আকুল ভাবে ডাকছিল। আমিও বেশ কিছুক্ষণর জন্য ছোটবেলায় ফিরে গেছিলাম। নিজের হাতে রথ সাজানো ,তারপর পাড়ার বন্ধুদের সাথে রথ নিয়ে বেরোনো , সব বাড়ি গিয়ে প্রসাদ দিয়ে আসা আর বিনিময়ে ৫০ পয়সা করে পাওয়া । এই আনন্দের কোনো তুলনা নেই। কিন্তু কি আর করা যাবে ! বড় হওয়ার সাথে সাথে ছোটবেলার এই মুহূর্তে গুলো ও হারিয়ে যায়। হঠাৎ ফেবুর নোটিফিকেশন এ আমার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটলো। চেক করতেই দেখি আগামী 13Th july টরন্টো তে রথযাত্রা procession আছে।


পড়ুনঃ কুয়াশায় ভেজা বন পথে, প্রেমিকা বলতে কেবল নির্জনতা | চুম্বন তো আগেই রাঙিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে


ব্যাস ব্যাস , আমাকে আর পায় কে ! উত্তেজনায় লাফিয়ে ঘরে ঢুকলাম। বর তখন কাজে ব্যস্ত। তার মধ্যেই ওকে ডেকে খবরটা দিলাম। ও রাজি যাবার জন্য।



প্যারেডটা শুরু হয় Bloor end young স্ট্রিট থেকে । ছবি- আনর্ঘ গড়াই


দেখতে দেখতে মাঝের কয়েকটা দিন কেটে গেল। এখানে সব ইন্ডিয়ান ফেস্টিভ্যাল মোটামুটি উইকেন্ডেই পালন করা হয় , যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে। নির্ধারিত দিনে আমরা আমার স্কুলের বন্ধুদের গ্রুপ এর সাথে একসাথে বেরিয়ে পড়লাম।


প্যারেডটা শুরু হয় Bloor end young স্ট্রিট থেকে । আমাদের বাড়ির একেবারেই কাছে। তারপর আস্তে আস্তে সেই প্যারেড লেক ontario-র অভিমুখে এগিয়ে যায়। প্রায় ৩ কিমি মতো যায় processionটা। রথযাত্রা ঘিরে মানুষের উদ্দীপনা দেখে দারুন লাগছিলো। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো উৎসব টা শুধু ভারতীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।। বিভিন্ন দেশের মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।


৩টে রথের সামনেই হরেকৃষ্ণ হারেরাম গান চলছিল আর তার সাথে বিভিন্ন ধরণের নাচ। সবচেয়ে আগের রথে ছিল বলরাম মাঝে সুভদ্রা আর শেষ রথে জগন্নাথ। প্রায় ৫ হাজার মানুষ এতে অংশ গ্রহন করেছিল আর টরন্টো পুলিশ অসামান্য দক্ষতায় ভিড় আর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করলো। আমরাও বেশ কন্ঠীধারীদের সাথে নাচতে নাচতে এগিয়ে চললাম।



লেকের মাঝে সেন্ট্রাল island এ জগন্নাথের মাসির বাড়ি। ছবি- আনর্ঘ গড়াই

লেকের মাঝে সেন্ট্রাল island এ জগন্নাথের মাসির বাড়ি। স্টিমারে করে ৩ ভাই বোন কে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো। islandএ আগে থেকেই উৎসবের আয়োজন করা ছিল। সকলের জন্য ফ্রী'তে নিরামিস ভোগ আর সাথে cultural অনুষ্ঠান। কপাল থাকলে ভোগের খাবারে খিচুড়ি মিলতে পারে নয়তো ডাল,ভাত আর পনিরের তরকারি (যাতে শুধু আলুই দেখা যায়,পনীর নিরুদ্দেশ) দিয়েই রসনার তৃপ্তি করতে হবে।


পড়ুনঃ নাঙ্গা পর্বত: বহু বছর ধরে এই পর্বত ছিল অভিযাত্রী দের কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মতন


আলটিমেটলি দিনের শেষে বাঙালি তোঃ তাই খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে আমরা বেশ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ শুরু হলো মেঘ ভাঙা বৃষ্টি। প্রায় দু ঘন্টা একটানা বৃষ্টি তে ভিজে আমরা ঘরে ফেরার তোড়জোড় শুরু করলাম । রথে বৃষ্টি হবে না তাই কখন ও হয়!


তা সে যতই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাও। বৃষ্টি টা কিন্তু নিখাদ ভালবাসা আর রথের উপরী পাওনা !



ধন্যবাদঃ পায়েল সরকার বসু, অনর্ঘ গড়াই, সায়ন্তন বসু এবং মধুরাকা দাসগুপ্ত

Image Curtesy: Anargha Ghorai

60 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.