• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

১৯৮০ সালের ২৪শে জুলাই স্তব্ধ হয়ে গেছিলো সারা কলকাতা। ৩৯ বছর পরেও কমেনি মহানায়কের গ্ল্যামার


শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ১ সপ্তাহ আগে ফোন করেছিলেন সুচিত্রা সেন-কে। মহানায়কের সে ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছিলো।

কলা কুশলী চিত্র চরিত্র পরিচালক গল্পের ভিড় লেগেই থাকে টলি পাড়ায়, তবে মহানায়কের শূন্যস্থান আজও পূরণ হলোনা। ১৯৮০ সালের ২৪শে জুলাই স্তব্ধ হয়ে গেছিলো সারা কলকাতা, টালিগঞ্জ থেকে ক্যামাক স্ট্রিট, ভবানীপুর হয়ে কালীঘাট জুড়ে ছিলো শুধু জনসমুদ্র। হাজারো প্রেয়সীর হৃৎস্পন্দনে ভাটা টেনে, হাজারো মানুষের ভালোবাসার নাওয়ে চেপে ফিরিঙ্গি সেদিন পাড়ি দিয়েছিলেন নক্ষত্রের দেশে।


মার কাছে অনেকবার ইতিউতি শুনেছি সেই মর্মান্তিক দিনের কথা। দিদিমা নাকি সেদিন দোর দিয়েছিলেন। পাড়ার বেশ কয়েকটি ঘরে সেই দুপুরে হেসেল বন্ধ ছিলো। দাদু ও তাঁর বন্ধুরা নাকি গিন্নিদের আর বেশি ঘাটায়নি সেদিন। তবে, এ গল্পের শেষে প্রতিবারের মতো আমার একটাই প্রশ্ন থাকতো -

কিভাবে তিনি এত মহিলাকে দুর্বল করে দিতে সক্ষম ছিলেন? আর মা'র সেই এক উত্তর, "মহানায়কের ছিলো এক ভুবন ভোলানো হাসি, অপার সজ্জনতা আর চিরস্থায়ী রোম্যান্টিসিজম।"


আসলে, ঠিক কতটা সজ্জন ছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার? একটা ছোট্ট গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। ১৯৬৬- এর কোনো এক সময়ের ঘটনা, সেদিন সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'নায়ক' ছবির প্রিমিয়ার রয়েছে ইন্দিরা সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে। আগেরদিন মানিকবাবু, উত্তম কুমারকে ফোনে করে বলেছিলেন অবশ্যই আসতে। এই প্রস্তাবে একটু দোটানায় পড়ে যায় মহানায়ক, কারণ তিনি জানতেন যে তার পরিস্থিতি মানুষকে উত্তাল করে তোলে। এ কথা সত্যজিৎবাবু কে বলায় তিনি খানিক আদেশ করেই বলেন যে এটি একটি 'সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ছবি' এবং সে যেনো অবশ্যই আসে। পরদিন দুপুরে, ভবানীপুর থেকে ব্যারিকেড করে মহানায়ককে তার চেভ্রোলেট ইম্পলা গাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ততক্ষনে চাউর হয়ে গেছে তাঁর আসার কথা এবং যথারীতি মানুষের উত্তেজনার পারদ তখন আকাশ ছুঁই ছুঁই। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, হল ম্যানেজারকে রায় বাবুর কাছে আবেদন করতে হয় উত্তম কুমারকে একবার স্টেজে আনার জন্যে, এই অবস্থার স্থিতি আনার উদ্যেশ্যে। উত্তম কুমার স্টেজে এসে হাত নাড়ার সাথে সাথে শান্ত হয়ে যায় জনগণ এবং তিনি সকলের কাছে আবেদন করেন যে তারা যেন মন দিয়ে সিনেমাটি দেখে এবং ভুলে না যায় যে এটি একটি 'সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ছবি'।



দিদিমা নাকি সেদিন দোর দিয়েছিলেন। পাড়ার বেশ কয়েকটি ঘরে সেই দুপুরে হেসেল বন্ধ ছিলো। দাদু ও তাঁর বন্ধুরা নাকি গিন্নিদের আর বেশি ঘাটায়নি সেদিন।


কেবল সজ্জনই নন, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তও ছিলেন তিনি।


কথায় আছে, প্রতিভার আয়ু যত কম তত মঙ্গল। উত্তম কুমারের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই ছিলো, আর হয়তো ঠিক সেই কারণে প্রতিভার আড়ালে লুকোনো গশিপের মাত্রা ছাড়ানোর আগেই তিনি পরলোক গমন করেন। যদিও তাঁর ৫৩ বছরের জীবনে, সে সংখ্যা কম কিছু ছিলোনা। একাধিক নায়িকার সাথে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। আর হবে নাই বা কেন, অমন রোম্যান্টিসিজম এড়ানো কি চাড্ডিখানি কথা!


মহানায়িকার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিলো গভীর বা বলা যেতে পারে আত্মিক। ঠিক যেমন, রিনা ব্রাউন আর কৃষ্ণেন্দুর সম্পর্ক ছিলো 'সপ্তপদী' সিনেমায়। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সেই টান অনুভব করেছিলেন মহানায়ক। তাঁর বিবাহজীবন, স্ত্রী, সুপ্রিয়া দেবী, সকলের ঊর্ধে স্থান ছিলো মহানায়িকার। রামলাল নন্দী (ছায়াবানি প্রোডাকশনের কর্ণধার অসিত চৌধুরীর ভাইপো) টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মৃত্যুর ১ সপ্তাহ আগেও উত্তম কুমার টিভিতে 'আলো আমার আলো' দেখে ফোন করেছিলেন সুচিত্রা সেন কে। নায়িকা সেদিন, "আমি ব্যস্ত, পরে কথা হবে" বলে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর 'উতু' (এই নামেই উত্তম কুমারকে সম্বোধন করতেন মহানায়িকা) কে আর ফোন করেননি তিনি এবং তাদের কথা অধরাই থেকে যায় এ জন্মের মতো। তার কারণ কি বিদ্বেষ নাকি অভিমান?


পড়ুনঃ



আরও শোনা যায়, ১৯৫০ সালে ২০টি সিনেমা করেছিলেন উত্তম-সুচিত্রা, তবে সেই সংখ্যা ক্রমে কমতে থাকে ৬০,৭০,৮০-র দশকে। তার একান্ত কারণ হয়তো সুপ্রিয়া দেবী। ১৯৬৩ সালে মহানায়ক নিজের ভবানীপুরের বাসস্থান ছেড়ে, সুপ্রিয়া দেবীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ওখানেই থাকতেন। তবে, সুপ্রিয়া দেবীকে বঞ্চিত থাকতে হয় মহানায়কের শেষকৃত্যের থেকে। ওনাকে ঢুকতে দেওয়া হয়না উত্তম কুমারের ভাবনীপুরের বাড়িতে।


কিন্তু শুধু সুচিত্রা-সুপ্রিয়া নয়, তাঁর রোম্যান্টিসিজমের আঁচ পৌছেছিলো সাবিত্রী দেবীর কাছেও। জি 24 ঘনটার এক টক শো তে, এডিটর অনির্বান ভট্টাচার্য্যের সাথে কথা বার্তায় সাবিত্রী জানিয়েছিলেন যে তিনি উত্তম কুমারকে ভালোবাসতেন, তবে মহানায়কের ঘর ভাঙার স্বপ্ন তিনি জেগে জেগেও কোনোদিন দেখেননি। তাই হয়তো তাদের প্রেমটা হয়ে ওঠেনি বা সেই ভালোবাসাকে সম্পর্কের তকমা দেওয়া সম্ভব নয়। সাবিত্রী দেবী এও বলেন যে উত্তম কুমার নাকি পসিজিভ ছিলেন সাবিত্রী দেবীকে নিয়ে। নায়িকার বিয়ের সম্বন্ধ এলেই, তিনি নিজের উদ্যোগে গিয়ে তা ভেঙে দিয়ে আসতেন।


এই গসিপের শেষ হয়না। মানুষের মৃত্যুর পর শত গসিপ হাজারে পরিণত হয়। তবে, এসবের ঊর্ধ্বে উঠে উত্তম কুমার মহানায়ক ছিলেন। আজও হয়তো বেলভিউ ক্লিনিকের দেওয়াল গুলো নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে, এইদিনে, ৩৯-বছর আগে, শেষ হয়ে গিয়েছিল এক ঐতিহ্য। সোনার দশকের তবে সেই কি পতনের শুরু!




Read More from this writer.

তথ্য সূত্র: