• Blogtog

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শত্রুপক্ষের খবর দিতে ফিরে আসেন নিজের ব্যাটালিয়নে-কার্গিল যুদ্ধের বিজয় দিবস



সিনেমায় আমরা অনেকবার দেখেছি পর পর গুলি খেয়েও হিরো কি সুন্দর লড়াই করে যাচ্ছে এবং প্রাণেও বেঁচে গেছে । কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নেই , তাই না ?


ভুল, এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতবর্ষের বুকে যার সাক্ষী থেকেছে কার্গিল যুদ্ধ । বিশ্বের সবচেয়ে বীর সৈনিকদের তালিকায় প্রথম দশে রয়েছেন তিনি ।


বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় যুদ্ধে যাওয়ার ডাক আসে তার । নতুন সংসার ফেলে তিনি চলে যান ভারত মায়ের সেবা করতে , যেখানে তিনি জানেন তিনি হয়তো আর ফিরে নাও আসতে পারেন । তখন যুদ্ধের শেষ পর্যায় । তারিখটা ছিল ২০সে জুলাই , ১৯৯৯ , দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল টাইগারহিলকে শত্রু মুক্ত করার । তিনি এবং তার সাথীরা কোনো পরিণামের আশা না করেই ব্রতী হলেন সেই কাজে ।


পড়ুনঃ


টানা ২ রাত্রি শত্রুর খোঁজ চলছে , এমন সময় হঠাৎ গুলিবৃষ্টি শুরু হয় । পাল্টা উত্তর দেন তিনি এবং তার সাথীরা । তবে শত্রুপক্ষ উঁচুতে সুবিধাজনক জায়গায় থাকায় ওই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল । একে একে তার সাথীদের গুলিবিদ্ধ দেহ লুটিয়ে পড়লো মাটিতে । তবে তিনি পিছিয়ে যান নি । ৮ জন শত্রুর বিরুদ্ধে একই লড়াই চালিয়ে যান যাদের ২ জনকে গুরুতর আহত করতে সক্ষম হন তিনি । যার জন্য শত্রু পক্ষ পিছিয়ে যায় তবে ফিরে আসে আরো শক্তি নিয়ে আরো সেনা নিয়ে । কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা তার শরীর বিদ্ধ করেছিল ১৯টি বুলেট । ঠিক শুনেছেন , ১৯ টি গুলি লাগার পরও তিনি লড়াই করে চালিয়ে গেছেন । গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি ফিরে আসেন নিজের ব্যাটালিয়নের কাছে যাতে তিনি শত্রুপক্ষের খবর তাদের দিতে পারেন । সেদিন তার বিক্রমের কাছে হার মানতে হয়েছিল মৃত্যুকে ।


তার বিক্রমের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক সন্মান পরমবীর চক্র গ্রহণ করেন তিনি । সবচেয়ে কম বয়সী সৈনিক হিসেবে তিনি এই সন্মান অর্জন করেন । পরবর্তীতে ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁকে যশভারতী সম্মানে সম্মানিত করে । মূলত , তিনিই হলেন টাইগারহিল জয়ে মূল কান্ডারি । তিনি হলেন ব্রিগেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব ।


পড়ুনঃ



Read more from this writer.

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.