• Blogtog

'কোন দেশে গরু খেলে খুন করা হতো কিন্তু রেপিস্টের কোনো শাস্তি হতো না' | ইতিহাসের প্রশ্নে উত্তাল বাংলা

শুভাঞ্জন বসু

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১০ই জুন, ৩০১৯ মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষায় এবার উঠে এসেছে আউট অফ সিলেবাসের প্রশ্ন। যার ফলে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে জমে উঠেছে ক্ষোভ। গার্জিয়ানরাও নেমে এসেছে রাস্তায়, ছোটছোট ছেলে মেয়েদের মনে নোংরা মনোভাব ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্যে। ইতিহাসের প্রশ্ন পত্রে এবার প্রশ্ন আসে - 'আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে কোন দেশে, গরুর মাংস খেলে খুন করা হতো কিন্তু রেপিস্টের কোনো শাস্তি হতো না?' উত্তরে সবাই লিখেছে ভারতবর্ষ। যেই দেশের ইতিহাস নিয়ে চর্চা ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। উচ্চ শিক্ষা মধ্য পর্ষদ থেকে ইতিমধ্যেই ক্ষমাসূচক মেইল পৌঁছে গেছে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর কাছে। পর্ষদের প্রধান জানান- 'আমরা ভুল স্বীকার করছি। গত বছরই আমাদের কাছে চিঠি আসে বিংশ এবং একবিংশ শতকের ভারতের ইতিহাস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুছে ফেলতে। কারণ মানুষের মনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। আমাদের অগ্রজরা এত নিষ্কর্মা ছিল ভাবলেই আমাদের মন গুলিয়ে ওঠে। শোনা যায় তখন সভ্যতা বা সংস্কৃতি দিয়ে নয় ধর্মের ভিক্তিতে মানুষে মানুষে ভাগ হতো। ধর্মের ভিক্তিতেই মারামারি কাটাকাটি হতো। এমনকি কোর্টের সিদ্ধান্তও ঠিক হতো ধর্মের ভিক্তিতে। প্রাচীন নথি থেকে এমনও নিদর্শন পাওয়া গেছে যেখানে দেশনায়কের মধ্যেও কেউ কেউ রেপ, খুন, সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত ছিল। সাধারণ মানুষও ছিল নীরব। স্যোসাল মিডিয়া নামক মিথ-এর ওপর বিশ্বাস ছিল এবং তাতেই মানুষ বিক্ষোভ করতো। এখনও আমরা বুঝতে পারিনা, মিডিয়া কী ভাবে স্যোসাল হতে পারে! যাইহোক আমাদের প্রাচীন ইতিহাসে শিশুদের রেপের কথাও লেখা আছে। এই যদি ইতিহাস হয় তাহলে সেই ইতিহাস মুছে ফেলাই ভালো। আমরা চাইনা আমাদের আগামী প্রজন্ম এসব জেনে বড় হোক। তাদের শৈশব আরো দীর্ঘায়ু করতে এই প্রস্তাব আমরা মেনে নিয়েছি নিঃশর্তে।' এবার মাধ্যমিকের প্রথম ছাত্রীর বাবাকে যখন ফোনে ধরা হয় তখন তিনি জানান- 'আমাদের পিতামহের কাছে শুনেছি ভারতবর্ষের ইতিহাস। তারপর নিজেরাই ইচ্ছে করে ভুলে গেছি। শালগ্রামশিলার অন্যতম উদাহরণ ছিল তারা। পৃথিবীর সমস্ত কিছুকে বিজ্ঞাপন করে দিয়ে মিডিয়া দ্বারা পরিচালিত করতো বিশ্ব। সে আর্মি হোক বা নারী বা আদর্শ বা ক্রীড়া। সব কিছুই বিজ্ঞাপন আর পণ্য। শোনা যায় এই পণ্যই নাকি বিক্রি করা হতো ভোটের আগে এবং সাধারণ মানুষ তা বসে বসে গিলতো। এসব জানার কোনো মানে নেই। আর আমরাও চাইনা আমাদের ভবিষ্যৎরা এসব শিখে বড় হোক।' গতবছর সরকার থেকে নির্দেশনামা জারি করা হয়েছে ১৯০০ থেকে ২১০০, এই দুশো বছরের সমস্ত ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে মুছে ফেলতে। এখনো গবেষণা চলছে ২১০০ সালের পরবর্তী ইতিহাস নিয়ে। আশা রাখি আমাদের পূর্বপুরুষেরা তারপর থেকে ইতিহাস আর কালিমাক্ত করেনি।

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.