• Blogtog

‘আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের লেখায় তার স্বকীয়তার ছাপ ফুটে উঠল না'- একথা মানলেন না রাধারানি। শুরু নতুন লড়াই


রাধারানি দেবী
শ্রাবস্তী পাঠক।

একাদশ বর্ষীয়া রাধারানি বলেছিলেন বন্ধুদের। ঊনবিংশ শতকের আগল ভাঙার ডাক যখন বিংশ শতকে একটু একটু করে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে সেইরকম এক সন্ধিক্ষণে দমকা হাওয়ার মত এসেছিলেন রাধারানি। ১৯২৯, ২৪ শে নভেম্বর জন্মেছিলেন।


তেরো বছরে বিধবা হওয়া এই কন্যা আঠাশ বছর বয়েসে বিয়ে করেছিলেন সেকালের বিখ্যাত কবি নরেন্দ্র দেবকে (আর তাঁদেরই বিখ্যাত কন্যা নবনীতা দেবসেন)। পুরুষ অধ্যুষিত সাহিত্য সভায় এক নারীর প্রবেশ করায় সমর্থন করেননি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও। কেননা তাহলে পুরুষের ‘জিভে লাগাম’ পরাতে হবে।


পড়ুনঃ

নিজেকে আয়নায় প্রথমবার দেখে আঁতকে ওঠা থেকে অ্যাসিড দগ্ধ মহিলাদের জন্যে NGO- লক্ষ্মীর লড়াই


শরৎচন্দ্রের স্নেহধন্যা রাধারানি নানান সময়ে তাঁর সান্নিধ্য ও সাহচর্য্য লাভ করেছেন। কিন্তু সাহিত্য সভায় প্রবেশাধিকার পাননি জীবনভর। তারই বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন। আন্তরিক এই বিপ্লব বাইরে এসেছিল প্রমথ চৌধুরীর কথার পর।


প্রমথ বললেন ‘.....আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের লেখায় তার স্বকীয়তার ছাপ ফুটে উঠল না’। একথা মানলেন না রাধারানি, বললেন, ‘শিল্পীর মধ্যে পুরুষ ও নারীর উচয় সত্তাই থাকে’। শুরু হল নতুন পরীক্ষা। অপরাজিতা ছদ্মনামে লিখতে লাগলেন একের পর এক কবিতা। সাথে লিখতে লাগলেন রাধারানিও। অপরাজিতার কবিতা আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখার সূচনা করল, ‘মেয়েদের সাহিত্য’। এক নারী, লিখতে গিয়ে হলেন দুটি সত্তা।


এমনকি রবীন্দ্রনাথের সাথে পত্রমিতালী গড়ে তুললেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেউ তাঁর পরিচয় পেলেন না। তিরিশের দশকে নরেন্দ্র দেবকে বিয়ের সময়ের সময় আত্ম-সম্প্রদান করলেন। বাঙালী মেয়ের এ এক আলাদা নবজাগরণ।


পড়ুনঃ

৬৫% মেয়েরা তাদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই body shaming এর শিকার হয়


তথ্যসূত্রঃ

১। অপরাজিতা তুমি, নবনীতা দেবসেন, রোববার, প্রতিদিন, ১৪ জুলাই, ২০১৯.

২। অপরাজিতা রাধারাণী, আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৮ মে, ২০১৯। লেখকের নাম মনে নেই।

Read More from this writer


  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.