• Blogtog

মধ্যপ্রদেশের যুবক PUBG খেলতে গিয়ে জলের বদলে খেয়ে ফেললো অ্যাসিড


সুরজ রায়।

মধ্যপ্রদেশের যুবক PUBG খেলায় এতই মত্ত ছিল যে জলের বদলে খেয়ে ফেলে অ্যাসিড-ঘটছে আরও মর্মান্তিক ঘটনা

ছোটবেলা থেকেই মানুষের মোবাইল বা অ্যনিমেটেড গেমস-এর প্রতি একটা দুর্বলতা থেকেই গেছে ,

সে মি. মারিওই হোক বা নোকিয়া মোবাইলের সেই কিংবদন্তি স্নেক গেম । আর টেকনোলজি যত উন্নত হয়েছে তত বাজারে এসেছে নতুন নতুন সব গেম । ছোট থেকে বড় যে কোনো বয়সের মানুষের মধ্যেই এই গেম খেলার প্রবণতা বেড়েই চলেছে দিনর পর দিন । শুধু তাই নয় রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে, খাওয়ার সময়, পড়ার সময় বা পড়া শেষেও একটু ফোন খুলে গেম খেলা চাই-ই চাই ।


সম্প্রতি ভারতের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মোবাইল অনলাইন গেম PUBG , যার পুরো নাম PLAYERS UNKNOWN BATTLE GROUND . বাজারে আসার সাথে সাথেই এই গেমের সফলতা আকাশছোঁয়া । নর্থ কোরিয়ান কোম্পানি টেনসেন্ট বাজারে নিয়ে আসে এই গেমটি । মূলত PUBG একটি মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন ব্যাটেল গেম । ১৪ থেকে ৩০ এর মধ্যে যাদের বয়েস , তাদের মধ্যে এই গেম খেলার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় । তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আসক্তিতে পরিণত হতেও দেখা গিয়েছে , যার পরিণতি হয়েছে ভয়ঙ্কর । শেষ কয়েক মাসে যেসব তথ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া গেছে সেই অনুযায়ী কয়েকটি ঘটনা হলো এই রকম ,



হরিয়ানার ১৭ বছরের এক কিশোর গেম খেলতে না দেওয়া এবং তার মোবাইল কেড়ে নেওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে


■ তেলেঙ্গানার ২০ বছর বয়সের এক ছেলে অনবরত ৪৫ ঘন্টা PUBG খেলার কারণে প্রাণ হারায় । ডাক্তারদের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর ঘাড়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তার মৃত্যু ঘটে ।


■ মুম্বাইতে দুজন যুবক গেম খেলার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যায় । তাদের মধ্যে একজনের বয়েস ২২ বছর আর অন্য জনের বয়েস ২৪ বছর ।


■ মধ্যপ্রদেশের এক যুবক PUBG খেলায় এতটাই মত্ত ছিল যে সে ভুল বসত জলের বদলে অ্যসিড খেয়ে ফেলে ।


■ এক যুবক ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে অসফল হয় কারণ সে উত্তর পত্রে বিষয়ভিত্তিক উত্তরের লেখার পরিবর্তে PUBG খেলার পদ্ধতি শুরু থেকে শেষ অব্দি লিখে আসে ।


■ হরিয়ানার ১৭ বছরের এক কিশোর গেম খেলতে না দেওয়া এবং তার মোবাইল কেড়ে নেওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে ।


এছাড়া , সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার , মেন্টার ব্রেকডাউন , লেখা পড়ায় অমনোযোগী , পরীক্ষা না দেয়া সহ আরো বহু অভিযোগ প্রত্যেকদিন উঠে আসছে এই গেমের বিরুদ্ধে । এই সব কারণের জন্য আস্তে আস্তে PUBG-এর প্রতি এক বিরূপ মানসিকতা তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে । এখনো পর্যন্ত দেশের ৫টি রাজ্যে এই গেমটিকে ব্যান করা হয়েছে । অন্য দিকে জাতীয় শিশু অধিকার দপ্তর সারা দেশে PUBG বন্ধ করার জন্য বারংবার দাবি জানিয়ে চলেছে ।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বদমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে সুনামও রয়েছে এই গেমটির । দেশের অনেক যুবক যুবতী PUBG-এর মাধ্যমে কর্ম সংস্থানের রাস্তা খুঁজে পেয়েছে (Youtube online streaming), কারণ PUBG আসার আগে পর্যন্ত অনেকের জানা ছিলোনা যে গেমের অনলাইন স্ট্রিমিং করেও উপার্জন সম্ভব । অচেনা মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক সুন্দর বন্ধুত্ব । এমনকি PUBG-র সুবাদে ভিনদেশের মানুষের সাথেও কথা বলার সুযোগ হয় মাঝে মাঝে । তবে সত্যি বলতে গেমের সুফলের থেকে কুফলেরই সংখ্যা বেশি , যে কারণে কিছু সংখ্যক মানুষের সমর্থন পেলেও বেশিরভাগ মানুষের কাছে চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে এই PUBG । কিন্তু গেম ব্যান করে দেয়া কখনোই উপরিউক্ত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হতে পারে না কারণ পূর্বে অনেক মোবাইল বা কম্পিউটার গেমের ক্ষেত্রে একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে মানুষকে । সামাজিক সচেতনতা হলো এক মাত্র পথ যার মাধ্যমে অনলাইন গেমিং সংক্রান্ত এই সমস্যাগুলোর ধীর তবে স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

57 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.