• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

আইনের উর্ধ্বে, দেশভ্রমণে লাগেনা পাসপোর্ট - অদ্ভুত কিছু ক্ষমতার অধিকারী ইংল্যান্ডের রানি

এক যে আছেন রানী



একখানা নয়,দুখানা জন্মদিন হয় ইংল্যান্ডের রানির


রানীর মতন রানী বটে তিনি। তাই একখানা নয়,দুখানা জন্মদিন হয় তার। হবে না‘ই বা কেন? তিনি যে কুইন এলিজাবেথ! বোম্বাগড়ের রাজার মতন অতটা না হলেও,ওনার জন্য এমন কিছু নিয়ম-কানুন বলবত্ আছে, যেগুলো সত্যি সত্যি একটু বিদঘুটে।


রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ আইনের উর্ধ্বে। আদালতে কোন বিষয়েই কোন প্রমাণ তাঁকে দাখিল করতে হয় না। যদিও সম্প্রতি এই একুশে আইনটিতে কিছু প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে। রানীকে কোন রকম ডাইরেক্ট ট্যাক্স দিতে হয় না। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই রানী দিব্যি গাড়ি চালাতে পারেন—কোন ট্রাফিক পুলিশের সাধ্য নেই তাঁকে আটকায়। এমনকি তাঁর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নেই। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই কোন বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর,তাকে আইনের রূপ দিতে রানীর স্বাক্ষর—মাস্ট, মাস্ট, মাস্ট!



তিনি আইনের উর্ধ্বে। রানীকে কোন রকম ডাইরেক্ট ট্যাক্স দিতে হয় না।


ইংল্যান্ডের চার্চের প্রধান হলেন রানী আর তাই তাঁকে ‘ডিফেন্ডার অব দ্য ফেইথ অ্যান্ড সুপ্রিম গভর্নর অব দ্য চার্চ অব ইংল্যান্ড’ নামেও ডাকা হয়। ব্রিটেনের উচ্চকক্ষে লর্ড নিয়োগের ক্ষমতা আছে রানীর। তবে এই ব্যক্তিকে মনোনীত করতে নির্বাচিত মন্ত্রীদের পরামর্শ নিতে হয়।গ্রেভ কনস্টিটিউশনাল ক্রাইসিস’ পরিস্থিতিতে রানী মন্ত্রীদের পরামর্শ না শুনেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


পড়ুনঃ পুজোর প্যাঁচে হাঁদা-ভোদা


কেবল দেশের মধ্যেই নয়,সারা বিশ্বেই তাঁর ক্ষমতার আঁচ পৌঁছে যায় নিমেষে। পাসপোর্ট রাখতে হয় না তাঁকে। পাসপোর্ট ছাড়াই মর্জি মতন,এদেশ ওদেশ ঘুরে বেড়াতে পারেন রানী এলিজাবেথ। অস্ট্রেলিয়ার হেড অব স্টেট হওয়ার কারণে সে দেশের সরকারপ্রধানকে বরখাস্ত করতে পারেন রানী। ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়া অবস্থানরত রানীর প্রতিনিধি স্যার জন কের সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন। একই ক্ষমতাবলে রানী যেসব দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিগা, বারবুডা, বাহামাস, বারবাডোস, কানাডা, গ্রেনাডা, জ্যামাইকা, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেইন্ট লুসিয়া, সেইন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, সলোমন আইল্যান্ডস এবং টুভালু হেড অব স্টেট।



প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন বিভিন্ন দেশের


এমন প্রসাশনিক নিয়মের সংখ্যা অনেক আছে। কয়েকদিন আগেও রানী রাইট টু ইনফরমেশনের আওতার বাইরে ছিলেন। এখনও বেশ কিছু মজাদার ক্ষমতা তিনি ভোগ করেন। যেমন,টেমস নদীর সব রাজহাঁসের মালিক রানি এলিজাবেথ। এ নদীতে যেসব হাঁস ঘুরে বেড়াবে তা সব রানীর।প্রতি বছর রাজহাঁস শুমারী হয় টেমসে। চিহ্নিত করে রাখা হয় রাজ পরিবারের সব রাজহাঁস। কেবল রাজহাঁস নয় ,গোটা জলধারা এবং জলজ প্রাণীর মালিক রানী। রানীর অধীনে আছে তিমি, ডলফিন এবং অন্যান্য প্রাণী। এই নিয়ম কিং এডওয়ার্ড দ্বিতীয় এর আমল চালু আছে। জলজ প্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই নিয়মের চালু হয়েছিল।


রানীর ব্যক্তিগত কবিও আছে। ব্রিটিশ সোসাইটির মাধ্যমে রাজকবির নিয়োগ হয়। তার বাৎসরিক বেতন ২০০ পাউন্ড। সঙ্গে এক পিপে ক্যানারি ওয়াইন বোনাস।


রানী গুনীরে দেন মান আর সে মান আপনি ফিরে পান।

ব্রিটেনের জমির মালিকদের ‘কুইট-রেন্ট’ নামে বিশেষ এক ধরনের ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। শুলজলেম্যুইর ক্যাসলের জমির মালিকদের নিউ ইয়ারস ইভ এর সময় তিনটি পোর্ট গ্লাস প্রদান করতে হয় রানীকে। গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে হলেও ফোলিসের জমির মালিকদের বরফের একটি বল প্রদান করতে হয় রানীকে। সিটি অব গ্লসেস্টারকে জমির জন্যে রানীকে বিপুল পরিমাণে ইল পাই শস্য প্রদান করতে হয়। গ্রেট ইয়ারমাউথকে ১০০টি হেরিং মাছ দিয়ে ২৪টি পেস্ট্রি তৈরি করে শেরিফকে পাঠাতে হয়। শেরিফ তা লর্ড ম্যানরের কাছে পাঠান। আর সেখান থেকে সেই পেস্ট্রি চলে যায় রানীর কাছে ।



ব্রিটেনের জমির মালিকদের ‘কুইট-রেন্ট’ নামে বিশেষ এক ধরনের ট্যাক্স প্রদান করতে হয়।


সব দেখেশুনে সত্যজিতের এক লিমেরিকের কথা মনে পরে যাচ্ছে।


"ওই যে দ্যাখো খ্যাঁক কুকুরের ছানা

ক্যাম্বোডিয়ার বাজার থেকে কেনা

মেম সাহেবের পোষা

করলে পরে গোঁসা

জ্যাম রুটি খায়,একশো উনিশ খানা। "


জানি না রানীর পোষা কুকুরের অভিমানের গাঢ়ত্ব কতটা,তবে রানীর যখন এত্ত দাপট,তখন রানীর কুকুর জ্যাম পাউরুটি কেয়ে গোঁসা ভাঙবে,এতে আর অবাক হওয়ার কি আছে।