• Blogtog

পর্ব ২: ঠাকুর বংশের ইতিহাস



পূর্বে যা ঘটেছে : https://www.blogtog.net/post/history-of-tagore-family


সনৎ কুমার বসু

[শ্রদ্ধেয় প্রশান্ত কুমার পালের "রবিজীবনী"-

কবিগুরুর জীবনী -বিষয়ক আকর গ্রন্থগুলির অন্যতম।তাঁর সেই রচনা থেকে সংগৃহীত সংক্ষিপ্ত নির্যাস ধারাবাহিক ভাবে ব্লগটগে প্রকাশের আয়োজন করা হল।প্রশ্ন উঠবে মূল পুস্তক সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও এর সংক্ষিপ্ত নির্যাসের প্রয়োজন হল কেন? আসলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্ত,সময়াভাব এবং অন্যান্য বহুবিধ কারণে দীর্ঘপাঠে অনেকক্ষেত্রে পাঠকের অনীহা পরিলক্ষিত হয়।অথচ এমন একটু মূল্যবান পুস্তক-পাঠের প্রয়োজনীয়তা বাঙালি জীবনের একটি অপরিহার্য কর্মপথ বলে আমাদের বদ্ধমূল ধারণা।

তাই এই সংক্ষিপ্ত নির্যাস যদি পাঠক কূলকে আকর্ষণ করে তবেই এই সংকলনের সার্থকতা প্রতীয়মান হবে।এ ছাড়াও বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে মূল পুস্তকের সুলভ প্রাপ্তির সুযোগ তো বহাল রইলই।

এই রচনাতে শ্রদ্ধেয় প্রশান্ত কুমার পালের মূল রচনার লিখিত পাঠের সকল তথ্যাদি এবং বানান-বিধি সম্পূর্ণভাবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

আমরা শ্রদ্ধেয় প্রশান্ত কুমার পালের পরিবার ও পরিজনের কাছে কৃতজ্ঞ রইলাম।

শুভাঞ্জন বসু

সম্পাদক]


পঞ্চানন ঠাকুরের দুই পুত্র জয়রাম ও রামসন্তোষের সঙ্গে ইংরেজ বণিকদের মেলামেশা থাকায় তাঁরা কিছু কিছু ইংরেজি জানতেন, তা ছাড়া ফারসি ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তখন পঞ্চাননের চেষ্টায় জয়রাম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পে - মাস্টারের অধীনে প্রধান কর্মচারী নিযুক্ত হন। কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর ইংরেজদের অধীনে আসার পর ১৭০৭ (১১১৪)-এ এই অঞ্চলে প্রথম জরিপ কাজ শুরু হয়।


তখন রালফ্ সেল্ ডন ছিলেন কালেক্টর। এই কাজে দুজন আমীনের প্রয়োজন হলে পঞ্চাননের অনুরোধে সেল্ ডন, জয়রাম ও রামসন্তোষকে এই পদে নিযুক্ত করেন। জয়রাম পে- মাস্টারের অধীনের কাজটিও বহাল রাখেন। এই ভাবে তারা ধীরে ধীরে বিত্তশালী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ক্রীত জমিগুলো তারাই জরিপ করেন।


এই সূত্রে প্রতিবেশী গ্রামগুলির অধিকাংশ ভূ ভাগের মালিক নবদ্বীপাধিপতি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে জয়রামের ঘনিষ্ঠতা জন্মায়। জয়রাম যখন নিজগৃহে "রাধকান্ত" নামে বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করেন, তখন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দেবসেবার জন্য নিজের জমিদারির মধ্যে ৩৩১ বিঘা নিষ্কর জমি তাঁদের দান করেন।


এর থেকে বোঝা যায়, নতুন পদবী-প্রাপ্ত পতিত পিরালি ব্রাহ্মন ঠাকুরগোষ্ঠী ধনসম্পদ ও মান মর্যাদার দিক থেকে কলকাতার নতুন সমাজে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে থাকেন।


জয়রামের দুইস্ত্রী- গঙ্গা ও রামধনি। রামসন্তোষের স্ত্রী সিদ্ধেশ্বরী। জয়রামের চারটি পুত্র - আনন্দীরাম, নীলমণি, দর্পনারায়ণ, গোবিন্দরাম।


১৭৫৬(১১৬২) - এ জয়রামের মৃত্যু হয়। ব্যোমকেশ মুস্তাফি লিখেছেন, জয়রাম ও রামসন্তোষ আমীনীকার্য্যে বিলক্ষণ দশটাকা উপার্জন করিয়া ধনসায়র (বর্তমানে ধর্মতলা) নামক স্থানে বাড়ী, বৈঠকখানা, জমাজমী এবং এখন যেখানে ফোর্ট উইলিয়ামের পুরোনো কেল্লা, যা বর্তমানে ডালহৌসির জি.পি.ওর কাছে অবস্থিত ছিল সেটি জুন ১৭৫৬ - এ নবাব সিরাজদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে তা ধ্বংস করেন।

এই সময় ঠাকুর পরিবারকে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।এরপর ২৩জুন ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধে ক্লাইভের হাতে নবাবের পরাজয় ঘটলে মীরজাফর নবাব হন এবং কলকাতা জয়ের ক্ষতিপূরণ স্বরূপে যে টাকা দেন ইংরেজ কোম্পানিকে, জয়রামের পুত্র নীলমণি তার থেকে ১৮ হাজার টাকা পান।


নীলমণি বাসস্থান পরিবর্তনের প্রয়োজনে ডিহি কলকাতা গ্রামে জমি কিনে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ২০শে পৌষ ১১৭১(পয়লা জানুয়ারি ১৭৬৫) তারিখে কালেক্টরির নিজ অধিকারভুক্ত জমি থেকে দু বিঘা তেরো কাঠা জমি বার্ষিক ৭৸৶৪ গন্ডা সিক্কামুদ্রা খাজনায় বসবাসের জন্য পাট্টা করে নেন। এই জমিরই পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ি সমেত সাড়ে দশ কাঠা জমি জনৈক রামচন্দ্র কলুর কাছ থেকে ৫২৫ টাকায় ক্রয় করেন ১৬ই চৈত্র ১১৭১সালে।এইভাবে ১১৭১ বঙ্গাব্দের শেষ দিকে(১৭৬৫) পাথুরিয়া ঘাটায় ঠাকুর - পরিবারের বসবাসের সূত্রপাত।


কয়েক বছর পরে ২৫ অগ্রহায়ণ ১১৭৬(ডিসেম্বর ১৭৬৯) এইসব জমিরই সংলগ্ন চুঁচুড়া-বাসী জগমোহন দাস(সাহা) - এর ঘরবাড়ি সমেত দুবিঘা সাত কাঠা জমি ৯০০০ টাকায় ক্রয় করেন।সব-কটিরই দলিল নীলমণি ঠাকুরের নামে ছিল।


এইসব ঘটনার সময় বা তার কিছু আগে থেকেই নীলমণি ঠাকুর কোম্পানীর অধীনে চাকুরী গ্রহণ করেন। ১১৭২(বাং) - এ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা - বিহার - উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করার পর নীলমণি উড়িষ্যার কালেক্টরের সেরেস্তাদার হয়ে উড়িষ্যায় যান এবং সেখান থেকে রোজগারের টাকা ভ্রাতা দর্পনারায়নের

কাছে পাঠাতে থাকেন।


দর্পনারায়নও হুইলারের দেওয়ান ,নিমক ও বাজারের ইজারাদার, জমিদারির পত্তনিদার রূপে এবং অন্যান্য ব্যবসার সূত্রে বিরাট ধনসম্পদের অধিকারী হন। ব্যবসা- বাণিজ্যের দ্বারা আর্থিক উন্নতিতে দর্পনারায়ন ও তাঁর পুত্রেরা তুলনামূলক ভাবে অনেক এগিয়ে ছিলেন। তাঁদের উদ্যমও ছিল বেশি।



(...ক্রমশ)

55 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.