• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

প্রায় একশ বছর পুরনো কলকাতার কিছু বিখ্যাত খাবারের দোকান এখনো রমরমিয়ে চলছে


পশ্চিমবঙ্গের আর এক নাম ভোজ-রাজ্য বলা যেতে পারে। Source: idiva.com

পশ্চিমবঙ্গের আর এক নাম ভোজ-রাজ্য বলা যেতে পারে। না না, ভুটানের ভোজ রাজার কথা বলছি না। এ ভোজ ভুরিভোজ!


সেই সত্য যুগ থেকে শুরু করে ত্রেতা যুগ পেরিয়ে কলিযুগ অবধি চলে আসছে খানাখাজানা নিয়ে নানান এভোলিউশন।

আর এই যুগে বাঙালী জাতি খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারটাকে নিয়ে বেশ একটা এক্সপেরিমেন্ট চালাচ্ছে।


তবে, আজ খাবার নয় খাবারের দোকান নিয়ে জানাবো আপনাদের, সেই যাকে বলে লেসার-নওন (lesser-known) ফ্যাক্টস।

হয়তো এই দোকান গুলোর নাম অনেকেই শুনেছেন আবার বা অনেকে শোনেননি। একবার চোখ বোলাতে ক্ষতি কি?


১. অনাদি কেবিন (এস্প্ল্যানেড মেট্রোর কাছেই)


অনাদি কেবিন (এস্প্ল্যানেড মেট্রোর কাছেই)

৯৪ বছরের এই দোকানটিকে একটা স্থাপত্য বললেও বোধহয় বিশেষ ক্ষতি নেই। সেই ১৯২৫ সালে বলরাম যানা অনাদি কেবিনের নির্মাণ করেন। তাঁর ছেলের নামে নামকরণ হয় "অনাদি"। সেই সময় রেস্তোরাঁর চাইতে কেবিন শব্দটির প্রচলন ছিলো বেশি। ছোটো কিছু খোপের মতো বসার জায়গা এবং প্রত্যেকটির প্রাইভেসি রক্ষার খাতিরে থাকতো পর্দা। বিশেষত, এই পর্দা সেই সময় মহিলাদের জন্যে বানানো কারণ তারা আর পাঁচটা অপরিচিত ভদ্রলোকের সাথে রেস্তোরাঁয় বসে খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন না। মোগলাই পরোটা সাথে আলুর ফ্রাই করা তরকারি ও শসার স্যালাড এই অনাদি কেবিনের বিশেষ আকর্ষণ।


২. দিলখুসা কেবিন (সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের খুব কাছে)



দিলখুসা কেবিন (সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের খুব কাছে)

কাটলেট প্রেমী হলে একবার ঢুঁ মারা আবশ্যক। ১১৭ বছরের পুরনো এই কেবিন রেস্তোঁরাটা আজও স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে খুবই প্রিয়। বংশের চতুর্থ জেনেরসন এই কেবিনটিকে কেমন যত্নের সাথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে তা একান্তই দর্শনীয়। অনাদি কেবিনের মতো একই উপলক্ষ্যে কেবিন সিস্টেম শুরু করা হয়েছিল এই দোকানটিতে, তবে কয়েক বছর আগেই তা উঠিয়ে আর পাঁচটা রেস্তোরাঁর গড়ন দেওয়া হয়েছে এটিকে। এখানকার ডিমের চপ সবচেয়ে প্রশংসনীয়। মেনু কার্ডে "Spanish Croquette" নামে পাবেন এই এগ-ডেভিলটি। এছাড়াও মটন কাটলেট ও ফিশ কাটলেট এখানে অত্যন্ত জনপ্রিয়।


৩. মিত্র কেবিন (শোভাবাজার মেট্রোর সামনেই)


মিত্র কেবিন (শোভাবাজার মেট্রোর সামনেই)

এই রেস্তোরাঁটি মিত্র ক্যাফে নামে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়। যদিও শোভাবাজারের দোকানটি ১০৯ বছরের পুরনো, এখন এর অনেকগুলো শাখা খোলা হয়েছে শহর জুড়ে। ১৯১০ সালে এই কেবিনটি মুম্বাইয়ের প্যারিস ক্যাফের আদলে বানানো হয়েছিলো। খাবারের আদবে ব্রিটিশ শাসনের গন্ধ থাকলেও স্বাদে তা একেবারেই বাঙালিয়ানায় মোড়া। চিকেন কবিরাজির মিত্র ক্যাফের এক ঐতিহ্য ও বিশেষত্ব। আজও বহু ছাত্রছাত্রী কলেজ পড়ুয়াদের ভিড় লেগেই থাকে দোকানটিতে। একবার পা দিলেই মনে হবে একরাশ কচিকাঁচা বাবা মাদের লেগাসিটা বয়ে চলছে।


৪. এ্যলেন কিচেন (শোভাবাজারে মেট্রোর একদম কাছে)


এ্যলেন কিচেন (শোভাবাজারে মেট্রোর একদম কাছে)

শোভাবাজারের মিত্র ক্যাফের ঠিক বিপরীতে তাকালেই চোখে পড়বে ১৩২ বছরের পুরনো এ‍্যলেন কিচেন। ১৮৮৭ সালে এ্যলেন নামক এক স্কটিশ ভদ্রলোক এই রেস্তোরাঁ তৈরি করেন চিতপুরে। পরে জায়গা পাল্টে তা চলে আসে উত্তর কলকাতার খোদ বাঙালি পাড়ায়। ক্রমে হাত বদল হয়ে রেস্তোরাঁর সমস্ত দায়িত্ব ভার চলে আসে এক বাঙালি ভদ্রলোকের কাছে এবং তবে থেকে তার পরিবার আজও বাঁচিয়ে রেখেছে সেই অতিহ্য। মার্বেল পাথর আর কাঠের তৈরি টেবিল এই দোকানের এক বিশেষত্ব। খাদ্যপ্রেমীরা বলেন এ্যলেন কিচেনের প্রন কাটলেট টেস্ট না করাটা এক দারুন মিস!


বর্ষার বৃষ্টি ভেজা বিকেলগুলোতে একবার ঢুঁ মারবেন নাকি এই রেস্তোরাঁগুলিতে? চাইনিজ মোগলাই তো চলতেই থাকবে, বাঙালির বাঙালিয়ানার স্বাদ পেলে ক্ষতি কি!!


এমন আরো কিছু তথ্য আসছে শীঘ্রই....।

428 views