• Blogtog

নাইটিঙ্গিল আর ফিলোমেলা - এক চরম নিষ্ঠুর প্রতিশোধের গল্প



হাসি বোধহয় কান্নার মলাট। মলাটের আড়ালে যেমন বইয়ের প্রচ্ছদ ঢাকা থাকে,তেমনই হাসির গভীরে কান্নার হাহাকার থাকে। চ্যার্লি চ্যাপলিন কে দেখুন চোখের জল লুকিয়ে রাখতে,বৃষ্টিতে হাঁটতেন।


সুকুমার রায়ের মজার হাসির দুনিয়াতেও সেই চিরন্তন মৃত্যু ভাবনা উঁকি দিয়েছিল— ঘনিয়ে এল ঘুমের ঘোর,গানের পালা সাঙ্গ মোর। মৃত্যর জন্য আকুতি জীবনানন্দেরও ছিল জানি,সেই রেশ ধরে পাতা ওলটাচ্ছিলাম এলিয়টের।


ওয়েস্টল্যান্ডের পাতায় পাতায় সেই বিষণ্নতা। বসন্তকে নিষ্ঠুরতম বলে শুরু করলেন কবি। পড়তে পড়তে যখন সেই কাঁটার আসনে বসা রমনীর ড্রয়িংরুমে এলাম,পালটে গেল গতিপথ। পেলাম ফিলোমেলার গল্প।


আগে পড়িনি। সেই কোন কালের গল্প অথচ কেমন মিলে যায় আজকের সাথে। অনেকে হয়ত জানে,তবুও গল্পটা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। প্রন্স আর ফিলোমেলা দুই বোন। রাজা টেরাসের সাথে বিয়ে হল প্রন্সের। কিন্তু স্ত্রীর বোনের প্রতি আসক্ত টেরাস একদিন সুযোগ বুঝে বনের ভেতর ধর্ষণ করল ফিলোমেলাকে। কি অদ্ভূত দেখুন,সেদিও টেরাস ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিল ফিলোমেলাকে। অপমানে নিজের জিভটাই কেটে ফেলে ফিলোমেলা। কিন্তু সেই যন্ত্রনার আখ্যান লিখে ফেলে নিজের হাতে সেলাই করা নকশি কাঁথায়,আর তা পাঠিয়ে দেয় বোনের কাছে। এরপর চরম নিষ্ঠুর প্রতিশোধের গল্প। নিজেরই ছেলেকে রান্না করে টেরেসের পাতে পরিবেশন করে প্রন্স। ক্রোধোন্মত্ত টেরাস ধাওয়া করে কুঠার হাতে। প্রানপনে পালাতে পালাতে যখন প্রান ধরা পরে যাওয়ার উপক্রম,মেটামরফোসিস হয়। প্রন্স হয়ে যায় সোয়ালো আর ফিলোমেলা নাইটেঙ্গিল। অভিশপ্ত টেরেশ হয়ে যায় হুপি। কাকতালিও হলেও সত্যি মেয়ে নাইটেঙ্গিল গাইতে পারে না আর পুরুষটি মেলাঙ্কলি সুর তোলে।


এমন আরও কিছু ব্লগ

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.