• Blogtog

'জয় শ্রীরাম' থেকে 'বল শালা জ্যায় শ্রীরাম' - নবযুগের রামায়ণ



রামায়ণ – একটি পৌরাণিক ইতিহাস


একবিংশ শতকের ‘নবযুগের রামায়ণ' অর্থাৎ “বল শালা জ্যায় শ্রী রাম” - না বলিলে কেলিয়ে অযোধ্যায় পাঠানো এবং তৎসহ আরো কিছু ট্রেন্ড দেখিয়া যথাসম্ভব উত্তেজিত নারদ মুনি ( পাঠক - রুশ শব্দ নারদ এর অর্থ হলো জনগন । এবার আপনার প্রতিনিধি আপনি বেছে নেবেন , ধন্যবাদ ) প্রজাপতি ব্রহ্মার নিকট আসিয়া রামায়ণের ডিটেইলস হিস্টরি জানতে চাহেন । কিন্তু পৌরাণিক দুর্ভাগ্যবশত ব্রহ্মার বয়স বাড়িয়া গিয়েছেন এবং তিনি “ কামনাইতাইল্যাধখাইসিস " রোগে ভুগছেন।


অগত্যা নিজের ঢেঁকি চাপিয়া নারদ “সময় যাত্রা” করে আমাদের নিয়ে এলেন পৌরাণিক নদীর তীরে । যেখানে একটি গাছের নীচে ধ্যানমগ্ন ঋষি বাল্মীকি , এবং তাঁর মাথার উপর গাছে দুটি পাখি রতি ক্রিয়ায় মগ্ন ।


বাকিটা পাঠকের জানার কথা। ভিলেন শিকারীর অনৈতিক কাণ্ডের জন্য বাল্মীকি পৃথিবীর আদিশ্লোক বলে উঠলেন ।


“ মা নিষাদ প্রতিষ্ঠান ......কামমোহিতম । ”


বাল্মীকির শোক থেকে জাগ্রত হলো এ শ্লোক । তবে আদি শব্দটি থেকে নারদের মনে হলো এই রামায়ণের বীজ আদিতে কোথায় ছিল তা খুঁজে বের করতে হবে । তাই সে আবার ঢেঁকি চড়ে পাড়ি দিলো বৈদিক যুগে । এসেই ঋগ্বেদ হাতে নিয়ে বসে পাতা উল্টাতে লাগলো । বিনগো! স্পষ্ট নারদ দেখতে পাচ্ছে


“ সীতাহরণ ও রাবণ বধ রূপক কাহিনীর বীজ ঋগ্বেদের মধ্যে নিহিত আছে । সেখানে সীতা কৃষির অধিষ্ঠাত্রী দেবী । সীতা পৃথিবীর কন্যা এবং পৃথিবী বিবর মধ্যে অন্তর্হিতা হয়েছিলেন । তাঁর স্বামী রাম ইন্দ্রবৃত্র বিরোধের ইন্দ্রের এবং রাবণ বৃত্রর রূপক । বৃত্র ইন্দ্র শত্রু তাই রাবণের পুত্র মেঘনাদের নাম ইন্দ্রজিৎ । রামের সঙ্গে রাবণের যুদ্ধের প্রধান সহায় মারুতি হনুমান , অন্যদিকে বৃত্রর সাথে ইন্দ্রের যুদ্ধে ইন্দ্রের প্রধান সহায় মরুৎ ....... ”


পড়ুনঃ



নারদের কপালে ঘাম , মনে অনেক প্রশ্ন । গলা শুকিয়ে কাঠ হওয়ার আগে ভিজিয়ে নিয়ে আবার ভাবতে বসে নারদ বুঝলো “ প্রাচীনতম ইতিহাস ও মহাকাব্যের বীজ বেদের মধ্যেই আছে । " যেহেতু বেদ কেবলমাত্র পুরোহিত সমাজের মধ্যে প্রচলিত ছিল , তাই চারণকবিদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়তে থাকে রাজা ও বীর মানুষদের জীবনী , বীরত্বগাঁথা , যুদ্ধের বিবরণ এবং অনেক কাহিনী , পরবর্তী কালে যাদের মধ্যে থেকে মহাকাব্যের উপাদান পাওয়া যায় ।


এবার বোধহয় নারদের মাথা ঘুরছে , কারন প্রখ্যাত পন্ডিত ডঃ বেবর এইমাত্র ই-মেইল করে জানিয়েছেন যে বৌদ্ধ দশরথ জাতকের মধ্যে রামকথার মূল রূপ নিহিত আছে , কিন্তু সেখানে সীতাহরণ এবং রাবণের সাথে যুদ্ধের কোনো উল্লেখ নাই .....। অতএব রামায়ণ শব্দটির বিশ্লেষণ গিয়ে এখন ‛ রামের অয়ন অর্থাৎ রামের পর্যটন ' পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না , কারণ কবি বাল্মীকির কাব্য প্রতিভার দ্বারা পূর্ণাঙ্গ রামায়ণ রূপে বিকশিত হয়ে গেছে । মিলন ঘটেছে ইতিহাসের সাথে পুরাণের । সাত কাণ্ডে বিভক্ত রামায়ণে রয়েছে চব্বিশ হাজার শ্লোক । যার মধ্যে মিশে আছে তৎকালীন সময়ের গন্ধ । তবে রামের নাম না বলায় রাম কাউকে খুন করেছে এমন দৃষ্টান্ত নারদ এখনো পায় নি ।


নারদ একবার ডঃ লাসেন -র কাছে শুনেছিলেন রামায়ণের কাহিনী আর্যদের দক্ষিণাত্য বিজয়ের রূপক মাত্র । এই জয়যুদ্ধ বাল্মীকির আছে খুবই আপন হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক কারণ পৌরাণিক দপ্তরের খবর যে কবি ঋষি বাল্মীকি এককালে রত্নাকর নামে দস্যুবৃত্তি করে থাকতেন পরে তিনি ভালো মানুষ হন । সুতরাং আর্য অনার্যের যুদ্ধগাঁথা তাঁর কাছে একটি সফ্ট কর্নার এ নিয়ে দ্বিধা থাকা উচিত নয় ।


রামায়ণ আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে বাল্মীকি রচনা করেছেন ঠিকই তবে এই মহাকাব্য বাঙালীর ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন কৃত্তিবাস ওঝা মহাশয় । অতএব পাঠক , আপনার নিকট এখন চারজন রাম দাঁড়িয়ে । প্রথম যিনি ইতিহাস কে রিপ্রেজেন্ট করছেন , দ্বিতীয়জন একজন কবির মহাকাব্যিক সত্তার পরিচায়ক , তৃতীয়জন যিনি বাঙালীর ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছেন অনুবাদ সাহিত্যের যুগে এবং চতুর্থজন যিনি কিছু গুজব আর অশিক্ষা দিয়ে তৈরি করছে ভেদাভেদ । পছন্দ আপনার , আপনি বেছে নিন আপনার পয়েন্ট অফ ভিউ । কারন রাম ও রাবণ প্রাচীন আর্য ও অনার্য সভ্যতাকে তুলে ধরে , যার প্রেক্ষাপটে একটি মহাকাব্য থাকা অস্বাভাবিক নয় ।


কিন্তু একটি ঐতিহাসিক পৌরাণিক কাহিনীকে বর্তমান যুগের নৈতিক সত্য মেনে নিলে তা ভবিষ্যতে প্রচুর ক্ষতি ডেকে আনবে তাতে সন্দেহ নেই ।


পড়ুনঃ


  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.