• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

নাঙ্গা পর্বত: বহু বছর ধরে এই পর্বত ছিল অভিযাত্রী দের কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মতন



নাঙ্গা পর্বত-তিব্বতি ভাষায় যার নাম “দিও মির”। “দিও মির” শব্দের অর্থ সুবিশাল পর্বত।২৬৬৬০ ফুটের এই পর্বত বিশ্বের নবম উচ্চতম হলেও বহু বছর ধরে এই পর্বত ছিল অভিযাত্রী দের কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মতন।তাই তো পর্বতারোহী দের কাছে নাঙ্গা পর্বত ছিল খুনি পাহাড় (দ্য কিলার মাউন্টেন)।বহু মৃত্যু আর অসফলতার পর ১৯৫৩ তে প্রথম সম্ভব হয় নাঙ্গা পর্বতে আরোহণ। ১৯৫৩র ৩রা জুলাই এই পাহাড়ের ইষ্ট রিজ (Rakhiot Flank) ধরে এক সাংঘাতিক অভিজান সফল করেন এক অস্ট্রিয়ান, নাম তাঁর হারমান বুল। এই পর্বত জয় এতটাই অতি মানবিক ছিল, হারমান বুল নিজে এই অভিযান কে তীর্থ যাত্রা বলেছিলেন তাঁর লেখা বই নাঙ্গা পর্বত পিলগ্রিমেজে।


কতটা হাড় হিম হয়ে আসা, টানটান এক অভিযান ছিল তা পড়তে বসলেই বোঝা যাবে। নিজের আমিত্ব (ইগো) কে বিসর্জন দিয়ে, হিমালয়ের বিশালতায় নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েও কেমন করে সাহস আর অদম্য ইচ্ছে শক্তি নিয়ে আসাধ্য সাধন করা যায় তাঁর উদাহরন তৈরি করেছিলেন হারমান বুল।


পড়ুনঃ মধ্যপ্রদেশের যুবক PUBG খেলতে গিয়ে জলের বদলে খেয়ে ফেললো অ্যাসিড


মাত্তর তিন খানা ট্রিভিয়া সাজিয়ে দিলেই আবহাওয়া তৈরি হয়ে যাবে।


· এক- হারমানের বুলের আগে ৩১ জন তাবড় তাবড় পর্বতারোহী প্রান হারিয়েছেন ওই কিলার মাউন্টেনে।


· দুই- হারমান বুল নাঙ্গা পর্বতে পা রাখেন একা ( সোলো আসেন্ট) এবং অক্সিজেন ছাড়াই।


· তিন- শৃঙ্গ জয় করে ফেরার পথে অন্ধকার নেমে আসায়, টায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ৮০০০ মিটার অলটিটিউটে, এক রিজের উপর- পরের দিন ভোরের আলো ফোটা না পর্যন্ত।





এই অভিজানের গল্পের টুকরো গুলো সাজাতে সাজাতেই উপলব্ধি করা যাবে কেন মেসেনার, হেবেলার দের মতন পর্বতারোহীরা কেন গুরু বলে মেনে নিয়েছিলেন মানুষটিকে। তিন নম্বর ক্যাম্প থেকে শিখর ছোঁয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। সঙ্গী, কেম্পটার তখনও স্লিপিং ব্যাগ ছেড়ে বাইরে আসেনি।


৩রা জুলাই- রাত দুটো। হারমান বুল ঘুম থেকে উঠে পরলেন। চলতে শুরু করলেন। ভোর পাঁচটায় যখন কেম্পটার ঘুম থেকে উঠলেন তখন বুল সিলবারসাটেল দিকে চলেছে। ন’টা অবধি বুল কেম্পটারের চোখের নাগালে ছিলেন। কিন্তু এই সময় কেম্পটার ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে শুরু করলেন, এক সময় বুল তাঁর চোখের বাইরে চলে গেলেন। এদিকে বুল বুঝতে পারছিলেন এগোতে গেলে বোঝা হালকা করতে হবে। পাহাড়ের খাঁজে নিজের রাকস্যাক টা রেখে তার থেকে কেবল দরকারি কিছু জিনিস পকেটে ভরে নিলেন বুল। সামনে বিপদের সম্ভবনা বেড়েই চলেছে। বুলের সঙ্গে একটা ওষুধ ছিল- পারভিটিন। পারভিটিন খিদে কমিয়ে দেয়, ঘুমের ইচ্ছে কমিয়ে দেয় আর বাড়িয়ে দেয় জেদ, ঝুঁকি নেওয়ার প্রবনতা। যতটা ভেবেছিলেন তার থেকেও কঠিন ছিল বাঝিন গ্যাপের রাস্তাটা। সেই সব বিপত্তি কাটিয়ে বুল যখন সামিটে পৌঁছলেন তখন সন্ধ্যে সাতটা। বরফের মধ্যে আইস আস্ক টা গেঁথে দাঁড়ালেন কিলার মাউন্টেনের চুড়ায়।ছবি চুলে রাখলেন সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের। এর আগের এতো গুলো হারিয়ে যাওয়া প্রান, যেন একসাথে ভোর করে আছে বুল কে। না হলে কি করে হল, এই অসাধ্য সাধন!


পড়ুনঃ BloorEnd Young Steet থেকে যাত্রা শুরু, মাসির বাড়ি Central Island- কানাডায় রথযাত্রা


নামার সময় বুল অন্য পথ ধরলেন। তীক্ষ্ণ ঢালে রোপিং করার সুযোগ ছিল না। একটা ক্রামটন ছিড়ে গেলো। আইস আস্কটি রেখে এসেছেন। মেরামত করতে করতে অন্ধকার নেমে এল। নিকষ অন্ধকারে একটুও চলাচল সম্ভব ছিল না। রিজের এমন একটি জায়গায় তখন বুল সেখানে না আছে ভালো করে দাঁড়ানোর মতন জায়গা। এবার পকেট থেকে বুল বের করে নিলেন পাডুটিনের পাতা। পুল ওভার টা বুল ফেলে এসেছেন অনেক নিচে, রাক স্যাকের সাথে। এই পাডুটিনই বাঁচাবে ফ্রস্ট বাইট থেকে। গোটা রাত কাটাতে হবে ৮০০০ মিটার ওপরে, খোলা আকাশের নিচে, হিমালয়ের খাম খেয়ালিপনার সাথে। কথায় বলে না ফরচুন ফেভারস দ্য ব্রেভ। ভাগ্যিস সে রাত্তিরে দানব হাওয়ার মাতামাতি একেবারে বন্ধ ছিল। হারমান বুল অফিসিয়াল এক্সপিডিসন রিপোর্টে তাই বলেছিলেন-

My rest did me good, even if I was standing all the time. The hours passed surprisingly quickly. I dozed, nodding a little now and again, and then jerking myself upright vi once more. Then a cold shiver would run through me. But it was all quite bearable.

চল্লিশ ঘণ্টার তীর্থ যাত্রার এটাই বোধ হয় শেষ কথা।