• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

রঙ্গ ব্যঙ্গ - নম্রতা সেন


কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়..... এই রঙ্গ দেখতে দেখতে বারোটা বছর কাটিয়ে দিলাম, আর তাতে সত্যি আমারো কোথাও গিয়ে বারোটা বেজে গেলো l আর শুধু আমিই বা কেন ও পাড়ার বুল্টুদা, ঘেঁটু দা, এ পাড়ার ঝিন্টি দি, বুলা বৌদি কিছু না কিছু ভাবে বারোটা বেজে যাওয়া এদের জীবনেও জায়গা করে নিয়েছিলl সে যাই বলো তোমরা,  আমার কিন্তু সাইকেল চেপে হেব্বি লাগছে বস, ওমা একি কান্ড, শেষে কিনা মুন্নির পাওয়া সাইকেল চেপে বুল্টু দা বুলি আওড়াচ্ছে l তাতে অবশ্য বুল্টু দার সুবিধেই হলো, সাইকেল চেপে সোজা ঝিন্টি দির বাড়ি, তারপর ওই আর কি হে হে হে... অাহ্ প্রাণ খুলে হাসতেও পারি না খালি দাঁত দেখছেন, বেজায় জ্বলে যায় মশাই l তা একটু হলুদই না হয় হলো, নীল পেস্ট ব্যবহার করে সাদা দাঁত হলে এতো কতা কি আর বলতেন?  সব চেনা আছে আপনাদের lযাইহোক ওদিকে ঝিন্টি দিদি  কে নিয়ে বুল্টু দা গেলো নববর্ষতে ঘুরু ঘুরু করতে, তা সেদিন আবার রাম ঠাকুরের জন্মদিন, তা তাঁর জন্ম উদযাপনের আনন্দে ইয়া বড়ো একটা মেলা বসেছে ও পাড়ায়l ঝিন্টি দির বেজায় আনন্দ, বুল্টু দা মনের সুখে বাপের দেওয়া পয়সা খরচ করে যাচ্ছে, ওরে ওইদিকে  লোকের বাড়িতে এখন ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট টিভি দেখা  গেলেও কেউ  ভিরমি খাবে না,কিন্তু কালো সাদা ধন দেখা গেলে কিন্তু সোজা শ্রীঘরেl 

সে কি প্রেম করার সময় কেউ বোঝে ঝিন্টি দি আদো স্বরে আমাকে চপ মুড়ি খাওয়াবে বলতেই যে রাম ভক্ত দাদারা ওরকম কটমট ভাবে চাউনি দেবে সেটা বুঝি আগে থেকে বুল্টু দা ঝিন্টি দি কেউই আন্দাজ করতে পারেনিl শেষে কিনা গাজরের হালুয়া খেয়ে মন ভরাতে হলো, আর সাথে রামায়ণ আর ঝিনুকের জন্য গদা কিনে সাইকেল চেপে বাড়িl ওহ বাই দা ওয়ে ঝিনুক হচ্ছে ঝিন্টি দির বেয়াদপ ভাই l ওই গদা নিয়ে লঙ্কা কান্ড ঘটাবে সারাদিন ধরেl শুধু কি তাই পেটে পেটে হেব্বি বাঁদর l মা কে গিয়ে সব খবর দেয়, দিদি কার সাথে যায়, কোথায় যায় সব লাগিয়ে দেয় ওই বুলা বৌদির কাছেl ঝিন্টি দির বাবা গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর হলো l বুলা বৌদি তাই ঝিন্টি দি কে আগে কিছু ভাবে বিদায় করতে পারলে বাঁচে l ওর বরাদ্দ পঁচিশ হাজার টাকা হাতে পেতেই তড়িঘড়ি শুরু l ওদিকে মেয়ের পছন্দ করা পাত্রকে মায়ের পছন্দ না l বাউন্ডুলে চালচুলোহীন তার উপরে সরকারি চাকরি টাও নেইl আহা বুল্টু দা কি চেষ্টা করেনা নাকি, কত বার পরীক্ষায় বসলো শেষে কিনা মন্ডল বাড়ির বড়ো ছেলে ঘেঁটু মন্ডল চাকরি পেয়ে গেলো? অথচ বুল্টু দা মোটেও লেখা পড়ায় খারাপ না, ঘেঁটুর থেকে অন্তত ভালো l এদিকে বুলা বৌদির মনে হলো ঘেঁটুই তার যোগ্য জামাইl জাত পাত চুলোয় যাক সরকারী চাকরি জিন্দাবাদ l ওদিকে বুল্টু দা প্রানপন করে প্রমান দেওয়ার চেষ্টা করছে সে হীরের টুকরো শুধু জহুরি একবার চিনে ফেললেই হলো l এর মধ্যে রাম ভক্ত দাদাদের নিয়ে হেব্বি ক্যাচাল করছে সবুজবন্ধু দলবলের দাদারা l কে সেরা হবে সেরার সেরা l বুল্টু দা একবার ছোটে এই দাদার কাছে তো আর একবার ছোটে ওই দাদার কাছে, দুই দলই কি সুন্দর ফুটবল বানিয়ে ফেললো বুল্টু দাকে l এসব দেখে ঝিন্টি দিও সময় বুঝে সালটে পরলো ক্যাত করে একটা ল্যাং মেরেl আর নিতে পারলো না বুল্টু দা, কম্পিউটারটা শিখে কলকাতায় একটা চাকরি জোগাড় করলোl কিন্তু ওইটুকুই কপাল, কোম্পানি লাটে উঠল আর বুল্টু দার চাকরি ভ্যানিশl শত চেষ্টা করেও এই শহরে কিছুই হলো না, ডাক পরলো ভিন্ন রাজ্যে l ব্যাস ওই যে যাওয়া আর দেখা দেখা পাওয়া গেhলো না বুল্টু দার l কেতা বেড়ে গেছে শুনলাম ছেলের l হেব্বি একটা বাড়ি বানিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে l বিয়েও করেছে, বৌদিও নাকি মোটা মাইনের চাকুরিরতা ll তা বেশ বেশ আর যাইহোক ফুটবল তো আর হতে হলোনা l ও ওদিকে ঝিন্টি দির বাড়িতে দিন রাত বাসন পত্তরের ছুঁড়ে ফেলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, বর যে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের মধ্যেই পঁয়ষট্টি দিনই বাড়িতে l অগত্যা ঝিন্টি দির মন এখন ফেবু তে l খালি বুল্টুদার প্রোফাইল ঘাটে আর বড়োজোর দু থেকে তিনটে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে দিনে দুবার করেll আর কি বলবো বলুন তো দেখছেন তো বারো বছরে কার কার কি ভাবে বারোটা বাজলো l কি বললেন আমার পরিচয় টা কি? হে হে হে....এক কাজ করুন আয়নার সামনে সোজা দাঁড়িয়ে পড়ুন। দেখলেন তো, বেশ কেমন চেনা চেনা লাগছে, তাই না !  কেমন দিব‍্যি "আমি" দাঁড়িয়ে আছি, আয়নার সামনে।

78 views