• Blogtog

কবি ও বিশল‍্যকরণীঃ সিনথেটিক কবিতার ল্যাবরেটরিতে


বাংলা কবি এবং কবিতা

ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য।

শীতল শেখর শিকদার সংক্ষেপে শ’তিন চারদিন ধরে নিখোঁজ। কবি মিল্টনের অনুপ্রেরণায় একটু কায়দা করে নিজের নামটাকে শ্যাটান (শয়তান) করে নিয়েছে সে।


পৃথিবী ও পার্শ্ববর্তী ডজন খানেক গ্রহের বনে বাদাড়ে তাকে পাওয়া যায় নি। কোন খানা খন্দ বা ব্ল্যাক হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজে পেতে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ডে ফাঁদ পাতা হয়েছে। শ্যাটানের মস্তিস্কের ফ্রন্টাল লোব থেকে যে কবিতার বিকিরণ হয় তা ধরা পড়লেই,পৌঁছে যাওয়া যাবে শীতল শেখর শিকদারের কাছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইঙ্কোলডর নামের একটি গ্রহানুর বিশল্যকরণী বনে শ্যাটানের কবিতা-ভাবনার তিনটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ পরে আছে। তবে কবিতার মূল মৌলটির হাফ লাইফ কম হওয়ায়, বিকিরণ বন্ধ হয়ে গেছে, আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন হল, শ্যাটান পারাডাইজ লস্ট হয়ে ইঙ্কোলডরে কেন?


পড়ুনঃ জীবনানন্দ দাশের হাতে বেধড়ক মার খেলেন ফেসবুক কবি


ওখানে কবিতার প্রচুর ফলন হয়। দুবেলা মানুষ পেট ভরে কবিতা খেতে পারে। উকুখান্য নক্ষত্রের আলোয় ভোর হওয়া মাত্র, সব কবিরা গোলাপি আলোর দিকে ডান হাত তুলে দাঁড়ায়। নখের কোনা দিয়ে সেই আলোর গামা রশ্মি ঢুকে যায় শরীরে। ঘেমে উঠে শরীর। আসলে সেগুলো ঘাম নয় কবিতার ডেরিভেটিভ। সেই তরল ডেরিভেটিভ বক যন্ত্রে পাতিত করে কেলাসিত করে রাখা হয় কবিতা। তারপর ল্যাবরেটরিতে বানিয়ে ফেলা হয় সিনথেটিক কবিতা। কোটি কোটি। সে সব কবিতা, মাথায় মাখলে চুল পড়া বন্ধ হয়। আমাশা হলে ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা যায়। ঠোঁট ফাটলে ঠোঁটে লাগানো যায়। এমন একটা জায়গায় শ্যাটান এসেছিল হানিমুনে। শ্যাটানের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী, অনুলিপিও কবিতাজীবী।বিয়েতে একান্নটা কবিতার সংকলন খাইয়েছিল ওরা সব অতিথিদের। তরপর রাতে যখন, বেগুনি রঙের চাঁদ উঠল, শ্যাটান অনুলিপিকে তিন লক্ষ্য লাইনের একটা কবিতার জেনেটিক সিকোয়েন্স গিফট করল।রাতে তারা কবিতার চাদর গায়ে দিয়ে উষ্ণতা অনুভব করল।


গোলমাল বাঁধল, মিলন মুহূর্তে। মিলনটা আবশ্যিক ছিল। কিন্তু জন্ম নিয়ন্ত্রনের বন্ডে সই করে রাখায়, তাদের যথাযথ নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি অবলম্বন করতেই হতো। কিন্তু, শ্যাটান লুজ কন্ট্রোল হয়ে গেল। কবিতার শব্দ দিয়ে বানানো ল্যাটেক্স ছিড়ে ফেল দিল শ্যাটান। সে চাইছিল, তাদের মিলনে জন্ম নিক আরও বেশি তেজস্ক্রিয় কবিতা সন্তান।সম্ভোগের কবিতা-সুখ প্রশ্নের মুখে দাঁড়াল।অনুলিপি বাধ্য হয়েই রেট্রো চেন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে সব কবিতার অনু পরমাণু টেনে নিল নিজের ভেতরে। কবিতা শূন্য শ্যাটান, বাঁচার আশায় ছুটে গেল, বনে।


পড়ুনঃ ১৯১৩ সালে সমারসেটে ব্লাকার খুঁজে পেলেন হবহু আরেক মোনালিসা


কিন্তু শ্যাটান তো নিজেও বিশল্যকরণী চেনে না। তাই সে বাদামি আলোর সংকেত দিয়েছিল হনুমান কে। গোটা বন সুদ্ধু তুলে নিয়ে যেতে হবে। তারপর কি হল, কে জানে?

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.