• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

হিন্দি আগ্রাসন রুখতে হিন্দিতেই লেখা হল 'জয় বাংলা'



বাংলায় সম্প্রতি হালফিলের 'হিন্দি আগ্রাসন' থুড়ি ভারতীয় জনতা পার্টির বাড়-বাড়ন্ত, এবং সর্বশেষ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র, ক্ষুদিরামের বাংলার মাটিতে তুলনামূলক সাফল্য পশ্চিম বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকেও অন্য পথে প্রবাহিত করেছে তা বলাই বাহুল্য।


উগ্র হিন্দুত্বের প্রয়োগের মাধ্যমে নানান রকম সামাজিক বিভাজন তৈরি করা আরএসএস-এর রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আর সেই বিভাজনের উদ্দেশ্যেই তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপিও ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধর্মান্তরিকরণের বিষয়টিকে ঘিরে একটি গণ হিস্টিরিয়া দেশব্যাপী তৈরি করতে শুরু করে। জাতীয় স্তরে বহু শোরগোল হওয়ার পরও পশ্চিম বাংলার মাটিতে 'ঘর ওয়াপসি' এর মত সাংঘাতিক রকম সংঘের এই আত্মঘাতী কর্মসূচি নিয়েও বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদল একটিও শব্দ খরচ করেনি সেই সময়। এইরকমই বহু ঘটনাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নীরব সমর্থন বহু ক্ষেত্রেই কার্যত শক্তি জুগিয়ে গেছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তিকে।


পড়ুনঃ জঙ্গল বাঁচিয়ে উল্টে সরকারের বিরুদ্ধে কেস করে জিতল আমাজনের আদিবাসীরা


কেন্দ্রীয় বা রাজ্য প্রশাসন রাজনৈতিক স্বার্থে ন্যায় ধর্ম, বহু ধর্ম এইসব শব্দগুলোকে কার্যত হিমঘরে পাঠিয়ে মানুষের ওপর পুলিশ, প্রশাসন নিজের রাজনৈতিক সামাজিক আবর্জনা দিয়ে অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাতে মোদি-মমতা প্রায় পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন। কর্মপদ্ধতির এই সাদৃশ্যই মোদি-মমতার এক সময়কার বাইরে কুস্তি, ভেতরে দোস্তির ছবিটা যে একসময় জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়নি.. তা এখন সবাই হলফ করে বলতে পারে। সারদা, রোজভ্যালি থেকে শুরু করে ডিজিট্যাল রেশন কার্ড সহ প্রচুর আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল থেকে নিজে এবং নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের বাঁচাতে মোদির শরণাপন্ন হওয়া ব্যতীত কোনো গত্যন্তর ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে.. যার সুযোগ নিতে বিজেপি যে ছাড়েনি, তার প্রমান মিলেছে লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মোট আসনের ফলাফলেই।



বিজেপির হাওয়া বাংলায় ধীরে ধীরে দ্যাখা দিতে শুরু করলে নিজেকে সংখ্যালঘু ত্রাতা হিসেবে তুলে ধরতো চাইলেও সংখ্যালঘু সমাজের পশ্চাৎপদতার ঘন আবর্তে নিমজ্জিত রাখতেই মমতা বেশি উদগ্রীব, তাই বর্ধমান খাগড়াগড় বিস্ফোরণ নিয়ে মমতার পুলিশ প্রথমে হাস্যকর তথ্যের অবতারণা করে। ভয়াবহ সেই ঘটনার কুশীলবদের সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অংশেরও যোগাযোগের অভিযোগ তীব্রভাবে উঠে আসতে দ্যাখা যায়। মমতা কিন্তু এর পরও নীরব থাকেন। নীরব থাকার অর্থ অপরাধীদের কার্যত সমর্থন করেন প্রচ্ছন্নভাবেই।


পড়ুনঃ কলকাতার প্রথম ফুড ATM-প্রতিবছর ভারতে ৮৮ হাজার কোটি টাকার নষ্ট হওয়া খাবারের ঠিকানা


এনআইএ তদন্ত ঘিরেও মমতা সরকারের আপত্তি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তৃণমূল সরকারের সদিচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করে।

কিছুদিন অব্দিও গোপনে বিজেপির সাথে আঁতাত থাকলেও পরবর্তীতে অর্থাৎ লোকসভা ভোটের ফলাফল পরবর্তীকালে তীব্র গেরুয়া ঝড়ের যে এই রাজ্যে ব্যাপক ও বিস্তৃত প্রতিফলন দ্যাখা দিয়েছে এর ফলশ্রুতি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে নিশ্চুপ নেই তা হঠাৎই 'বাংলা পক্ষ' নামক নতুন ভাষাভিত্তিক দল তৈরির মাধ্যমেই পশ্চিম বাংলায় আগামীর রাজনীতির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা অনুধাবন করা যায়।



এই বাংলা পক্ষ দলের মাধ্যমে মমতা ব্যানার্জি সুকৌশলে আড়ালে থেকে আর্থিক ভাবে ও অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে বিজেপির হিন্দি আগ্রাসন ঠেকাতে ও ২০১৯ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বাংলা দখল আটকাতে বাংলার মানুষের বাংলা সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবলভাবে। 'জয় হিন্দ' বা একই ব্যানারে 'জয় বাংলা' হিন্দিতে লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গদি বাঁচানোর লোভে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কানি দেওয়ার সাথে সাথেই বাঙালি সেন্টিমেন্টকেও কাজে লাগিয়ে বাংলার ঐতিহ্যসহ ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত। ভয়াবহ দুর্নীতির জাল থেকে নিজে এবং দলীয় সতীর্থদের বাঁচাতে প্রথমে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে দ্বিধাহীন আপস, সাথে সাথেই সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িকতাকেও উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি যেভাবে বাংলা সেন্টিমেন্টকে অস্ত্র করে নিজেকে বাঁচাতে তৎপর হয়েছেন তা আখেরে বাংলার সংস্কৃতিকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে বাংলা পক্ষকে সাথে নিয়ে.. তা বড় বিপর্যয় আনতে চলেছে ভবিষ্যতে।

23 views