• Blogtog

লোকসংগীতে, বহু যুদ্ধ ঘাত-প্রতিঘাতের গল্প জলপাইগুড়ি জেলার

সেদিনের বৈকুণ্ঠপুর আজকের জলপাইগুড়ি । বহু যুদ্ধ , ঘাত প্রতিঘাতের এবং অনেক দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী এই জেলা । বর্তমানের শহর কেন্দ্রীক সভ্যতার আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে অনেক চিরন্তন সত্য , যা একসময়ের বৈকুণ্ঠপুরের ঐতিহ্য । আমাদের এই জেলায় একসময় চর্চিত হতো তিস্তাবুড়ির গান , মেচিনী খেলার গান , সুবচনী পূজার গান , ভাওয়াইয়া , খেপা , দেহতত্ব , দোতারা ভাঙা , চোরচুন্নি , বৈরাতি গান । এছাড়াও পালাগানের মধ্যে ছিল বিষহরা ( পয়ার ছন্দে ) কুষাণ , সত্যপীর প্রভিতি ।

এইসব অমূল্য সম্পদ এখনও চর্চিত হয় গ্রামের দিকে । “ ষোড়শ শতকে কামতা রাজ্যের অধিপতি বিশ্বসিংহের ভ্রাতা শিষ্যসিংহ ‛ রায়কত ' পদবি নিয়ে তিস্তার পশ্চিম পাড়ে রাজবংশের দ্বিতীয় ধারার পত্তন করেন ।" তখন থেকে আজ পর্যন্ত জলপাইগুড়ির লোকসঙ্গীতের অঙ্গ হিসেবে চর্চিত হয়ে আসছে তিস্তাবুড়ির গান । পড়ুন: জঙ্গল বাঁচিয়ে উল্টে সরকারের বিরুদ্ধে কেস করে জিতল আমাজনের আদিবাসীরা এই গানগুলো মূলত সৃষ্টি হয়েছে গ্রামাঞ্চলের তথাকথিত নিরক্ষর কিন্তু প্রতিভা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মুখে মুখে । এই লোকসঙ্গীতগুলি কখনই লিখিত রূপে রাখা হতো না , ফলে প্রতিনিয়ত লোকমুখে এই গানগুলি পরিবর্তিত হতো । বর্তমানে এই গানগুলি কিছু কিছু ছাপা অক্ষরে সংগ্রহ করা হচ্ছে । স্বাধীনতার পরবর্তী কালে ( ১৯৫০-৫৫ ) র দিকেও জলপাইগুড়িতে লোকসংগীত চর্চা হতো । তৎকালীন লোকসংগীত চর্চার প্রাণপুরুষ ছিলেন স্বর্গীয় সত্যেন রায় মহাশয় । তিনি তাঁর স্বরচিত গানের ভাবে ও সুরের মূর্ছনায় জলপাইগুড়ি শহর বাসীর মনে গভীর আনন্দদান করতেন । সত্যেন বাবুর পরিবেশিত লোকসংগীত জনমুখে প্রচলিত । তাঁর একটি গানের অংশকে আমরা দেখি দিম্ নাতেন্ কি দিম্ নাতেন্ কি দুই বগলে দুইটি বাহা ভূকাম নাতেন কি ওধান ― ভূকাম নাতেন কি গাহেন বলে ― শটাং শটাং নিত্য ভূকাও ধান্ আর- ছাম্ বলে - যেইটে সেইটে পাতিয়া থুইছ ধান ওধান ― ভূকাম নাতেন কি !

পড়ুন: ৬৮র বন্যার পর এখনো কি উত্তরবঙ্গ নিরাপদ?

“ লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতি হলো ― গ্রামীন লোকজীবন ও লোকসমাজের প্রতিচ্ছবি । এই লোক সংস্কৃতি বহন করে চলছে , অতীত যুগ যুগান্তরের মানুষদের জীবন ধারার বাস্তব চিত্র বা ইতিহাস । "

তথ্য সূত্র : “ জলপাইগুড়ি জেলার ইতিবৃত্ত " সম্পাদনা রণজিৎ দেব

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.