• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

আপনার অজান্তেই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে স্যোশাল মিডিয়া। গড়ে উঠছে আপনার shadow profile


স্যোসাল মিডিয়ায় আপনি কতটা সুরক্ষিত?

আপনি কি জানেন আপনার প্রাইভেসি কতটা সংরক্ষিত? অথবা আপনি আসলে প্রতিদিন ট্র্যাক্ড হচ্ছেন অন্য কারোর দ্বারা। সব সময় আপনার কর্ম কান্ড কেউ দেখছে? ঠিক যেমন জর্জ ওরয়েল দেখিয়েছিলেন ‘1984’ উপন্যাসে। ‘Big brother is watching you’…


হ্যাঁ একদমই তাই। আপনার অগোচরে আপনারই এক ছায়া আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছে ক্লাউড সার্ভারে। যার নাম – ‘Shadow Profile’.

আপনি ইন্টারনেটে যা করছেন, যা দেখছেন, যা লিখছেন বা যা পোস্ট করছেন সবই স্টোর হয়ে যাচ্ছে ক্লাউডে। আর ততই আপনার স্বভাব, চাওয়া, পাওয়া, ইচ্ছের- শ্যাডো প্রোফাইল শক্ত হচ্ছে ক্লাউডে।


অনেকটা একটা নতুন বন্ধুর মতন। যে মাংস খেতে ভালোবাসে বলে আপনি মাংস রান্না করে রাখলেন, যে গান গাইতে ভালোবাসে বলে আপনি একটি গিটার আনিয়ে রাখলেন, তার সাথে সময় কাটিয়ে আপনি আস্তে আস্তে আপনার মধ্যেই গড়ে তুললেন আপনার বন্ধুর শ্যাডো প্রোফাইল।


এইরকমই আপনিও গড়ে উঠছেন ক্লাউডে আর Accessible হয়ে পড়ছেন সবার কাছে।


পড়ুনঃ আর কয়েক বছরের মধ্যেই কলকাতার অবস্থাও হবে চেন্নাইয়ের মতন


আরো একটা কথা ভাবুন। এখন আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই ফেসবুকে প্রচুর না-জানা না-চেনা আননোন ফ্রেন্ড। ধরে নিলাম গড়ে আপনার বন্ধু ১০০০ জন। এবার তার মধ্যে কমপক্ষে ৭০০ জন ফেসবুকে প্রতিদিন এক্টিভ। তারা কিছু না কিছু পোস্ট করছে ফেসবুকে। কিন্তু কোনোদিন সময় করে খেয়াল করে দেখবেন- আপনি কি সেই সব বন্ধুর পোস্ট দেখতে পারছেন?


উত্তর পাবেন- ‘না’। আপনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছেন সেই জনাকোয়েক ১০০ বা ২০০ জনের পোস্ট।


তাহলে কীভাবে ঠিক হলো আপনি কার পোস্ট দেখবেন বা না? উত্তর হলো – ‘শ্যাডো প্রোফাইল’।





ফেসবুক আপনাকে সেই সব বন্ধুর পোস্ট দেখাবে যেই পোস্টগুলো আপনার স্বভাব এবং ভাবধারার সাথে যায়। সহজ ভাষায় প্রসেসটা অনেকটা এরকম- প্রথমে তুলনা করা হয় আপনার শ্যাডো প্রোফাইলের সাথে বন্ধুর শ্যাডো প্রোফাইল। মিলে গেলে দুজনের পোস্ট দেখানো হয় দুজনকে।

এই জন্যেই কবির প্রোফাইলে বেশিরভাগ কবিতাই দেখা যায়, রাজনীতির সাথে যুক্ত মানুষের প্রোফাইলে রাজনীতিরই বেশিরভাগ পোস্ট আসে, এবং চলতেই থাকে…


এখন থেকে প্রশ্ন আসে দুটি-

১) ক্ষতি কি? অদরকারী পোস্ট না দেখে আমার দরকারি পোস্ট পাচ্ছি তাতে তো অসুবিধার কিছু নেই? উত্তর- না। আসলে কথাটা হলো ফেসবুক আপনাকে সেই সব পোস্ট দেখিয়ে আসলে আপনার শ্যাডো প্রোফাইল শক্ত পোক্ত করছে নিজেদের জন্যে। সেখানে আপনার কমেন্ট, লাইক, শেয়ার সব জানিয়ে দিচ্ছে আপনি কেমন মানুষ, আপনি কী চান, আপনি কী ভালোবাসেন। সব।


২) এসব করে ফেসবুকের বা সোশ্যাল মিডিয়ার কী লাভ? উত্তর- আপনি আসলে যা দেখছেন, তা আপনি ঠিক করছেন না। আপনাকে দেখানো হচ্ছে। ফেসবুক প্রতি মুহূর্তে আপনাকে আপনার পছন্দ মতো পোস্ট দেখিয়ে ব্যস্ত রাখতে চাইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আপনি যত ব্যস্ত থাকবেন নেটওর্য়াকে, তত সুনিপুন হবে আপনার শ্যাডো প্রোফাইল আর ততই আপনাকে চিনে নিতে সুবিধা হবে ফেসবুকের। কারণ ফেসবুক আপনার data বিক্রি করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতা দের। যারা প্রোফাইলিং করে অপনার কাছে পৌছে দেয় তাদের বিজ্ঞাপন।

কিন্তু এ তো গেল বিজনেজ মডেলের কথা। এতে তো ক্ষতির কিছু নেই।

ঠিক, ক্ষতিটা ভালো মানুষের হাতে পড়লে তেমন কিছু নেই কিন্তু ভয়ঙ্কর বাজে কিছু মানুষের হাতে আপনার শ্যাডো প্রোফাইল চলে গেলে কী হতে পারে একটু জেনে নিন।


তার আগে ছোট্ট করে দেখে নিন কী থাকে এই Shadow profile এ- সহজ উত্তর আপনি থাকেন। বরং বলা ভালো আপনার মনস্তত্ত্ব থাকে। আপনি কেমন ফিল করছেন এখন, আপনার ব্রাউসিং হিস্টরি কী, আপনার লোকেশন, আপনার বন্ধু বান্ধব কারা, আপনি কতক্ষন পরপর ফোন চার্জ করেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনার অগোচরেই আপনার শ্যাডো প্রোফাইল কী করে ফেললো একটু জেনে নিন এবার- কিছুদিন আগেরই একটা ঘটনা আপনারা সবাই হয়তো অল্পবিস্তর শুনেছেন। ‘Cambridge Analytica’


আমেরিকায় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনে এবং brexit ভোটে এর গুরুত্ব যে কতটা অসীম আপনারা সবাই হয়তো জানেন। Cambridge Analytica আসলে একটি data mining প্রতিষ্ঠান। যারা আমাদের ওই শ্যাডো প্রোফাইল নিয়ে কাজ করে।

এবার একটু মন দিয়ে পড়ুন- পলিটিক্যাল কেম্পেন মূলত নির্ভর করে কয়েকটা বিষয়ের ওপর- ১) র‍্যালি ২) কোন রাজ্যের কোথায় ভোট পাওয়ার সম্ভবনা বেশি। ৩) সমর্থকদের সাথে কেমন ভাবে সম্পর্ক স্থাপন হবে এবং বিরোধীদের সাথে কেমন ভাবে সম্পর্ক স্থাপন হবে এর ওপর।

এবার Cambridge Analytica কেমন ভাবে কাজ করে-



Cambridge Analytica

১) তারা মূলত প্রোফাইলিং করে সমর্থক এবং বিরোধীদের। ২) তারপর পলিটিক্যাল ম্যাসেজ কী এবং কেমন ভাবে দেখানো হবে ঠিক করে শ্যাডো প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করে।

এরপর শুরু হয় আমাদের সেই মতো পোস্ট ছবি বিজ্ঞাপন দেখিয়ে manipulate করবার কাজ।

2014 তে Cambridge Analytica তাদের কোম্পানিতে হায়ার করে সোভিয়েতে জন্ম আমেরিকান রিসার্চের আলেকজান্ডার কোগানকে এই ফেসবুকের প্রোফাইলিং করার জন্যে। তিনি একটি app বানান যার নাম – ‘This is your Digital Life’ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এটি ডাউনলোড করে ( যার মধ্যে প্রায় সবাইকে পে করা হয়েছিল ডাউনলোড করার জন্যে)।

App টা বাইরে থেকে তেমন কিছুই মনে হবে না। শুধু কয়েকটা সার্ভের কোয়েশন বাদে যেমন আমরা মাঝে মধ্যেই দিয়ে থাকি ফেসবুকে অথবা ইন্টারনেটে।


পড়ুনঃ টাকির পার্থ মুখার্জি- ভাঙা কলের মুখে কল লাগাচ্ছেন, দল নিয়ে গাছ কাঁটা আটকাচ্ছেন


এবার ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা হলো মজার ছলে সেই সার্ভাতে এই ৩০ হাজার মানুষ বাদে সাড়া দিয়েছিল প্রায় ৮৭ মিলিয়ন মানুষ। শুধু ফেসবুকের দ্বারা প্রাইভেসি সেটিংস Allow করে। যেমন আমাদের কাছে পপ আপ আসে এবং আমরা Terms and Conditions চেক না করেই Accept করে থাকি। সেই Terms and Conditions এই লেখা ছিল কোগানের app টি নিতে চলছে শ্যাডো প্রোফাইলের অনেক তথ্য। মানুষ না দেখেই accept করে পড়লো ফাঁদে। এবং শুধু তাই নয় সার্ভের উত্তর দেখে প্রোফাইলিং করা data চলে গেল ট্রাম্পের দপ্তরে। আর মানুষ বুঝে ট্রাম্প অনায়াসে চালালেন তার ক্যাম্পেন।

ফলাফল আমরা জানি।


আপনার মনে হতেই পারে ফেসবুক কেন আটকালো না কোগানকে? ফেসবুক পারতো না কারণ ২০০৭ সাল থেকে তারা ফেসবুকের ভেতরেই বানাতে দিয়েছে বিভিন্ন রকমapp এবং game। কিন্তু সমস্ত data দেওয়া হতো না বেশিরভাগ developer কেই।

সেক্ষেত্রে ফেসবুক কে যখন প্রশ্ন করা হয় cambridge Analytica কী ভাবে পেল এত তথ্য তখন ফেসবুক জানায় যে রিসার্চের নাম করেই তারা data gather করছে বলে জানায় ফেসবুককে। রিসার্চের জন্যে এই ছাড় টুকু দিয়ে থাকে ফেসবুক।

প্রশ্নটা তাহলে কারা দোষী?

কোগানের মতো লোকেরা যারা অন্যায় ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে আমাদের data নাকি ফেসবুকের মতো স্যোসাল মিডিয়া যারা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক না করেই সমস্ত তথ্য তুলে দিচ্ছে অন্যের হাতে। নাকি আমরা যারা কী করছি কী না করছি, কোথায় খাচ্ছি কোথায় যাচ্ছি, কার সাথে আছি বা এখন কেমন ফিল করছি সমস্তই তুলে দিচ্ছি সোশ্যাল মিডিয়ার হাতে?


জানা নেই। তবে সাবধান হওয়া শ্রেয়। আপনার অগোচরেই আপনার শ্যাডো প্রোফাইল কী ভাবে আপনার সর্বনাশ করে চলছে তা আর হয়তো অজানা নয়।

আরো কয়েকটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে বলে দি যেগুলো আমরা জানতেও পারিনি কোনোদিন কিন্তু ভয়ঙ্কর ভাবে সাকসেসফুল হয়েছে স্যোসাল মিডিয়া ক্যাম্পেন হিসেবে- ১) Brexit vote. যা নিয়ে এখনো তোলপাড় ব্রিটেন। ২) তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট Tsai Ing-Wen এর বিরুদ্ধে রাশিয়ার BOT টুইটার একাউন্ট দিয়ে ক্যাম্পেন। ৩) Indian advertisement এর সাম বালসারা, প্রসূন জোশি, পীযূষ পান্ডের ঠিক করে দেওয়া ‘আবকি বার মোদী সরকার’ এর স্লোগান।

এবং আরো অনেক fake news, সিরিয়া নিয়ে মানুষকে manipulate করা এমন আরো হাজারো ঘটনা।

এই সময়কে বলা হয় Post Truth era. বাংলায় উত্তর সত্য যুগ।


কাজেই সাবধান থাকার জন্যে এবং অবশ্যই নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করার জন্যে যা যা করবেন-

১) স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং দু তিন মাস অন্তর অন্তর পাল্টে ফেলুন।

২) ব্যবহার করা হয়ে গেলে স্যোসাল মিডিয়া থেকে log out করুন।

৩) Geo-Location ফোনে শেয়ার করবেন না।

৪) যে কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবার আগে দুবার ভাবুন, দরকার এবং বিশ্বাস না থাকলে করবেন না। কোনো app আপনার data access করতে চাইলে ভালো করে পড়ে নিন কী কী জানতে চাইছে

৫) সবচেয়ে দরকারি বিষয়- দরকার না থাকলে আপনার বাস্তব জীবনের সব কিছু ফেসবুকে জানাবেন না। পৃথিবীর বাস্তবিক জীবন স্যোসাল মিডিয়ার জীবনের চেয়ে বহুগুণ ভালো।

সাবধানে থাকুন।


খেয়াল রাখবেন আপনি যেন সোশ্যাল মিডিয়া চালাতে পারেন, স্যোশাল মিডিয়া যেন আপনাকে নয়।


পড়ুনঃ ভিউ বাড়ানোর দৌড়ে, মানুষের রুচি নষ্ট করে ফেলছে নিউজপোর্টালরা


Read more from this writer

74 views