• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

মেরলিন মনরোঃ স্নেহ, প্রেম, যৌনতা, উদ্দাম যৌবন থেকে আত্মহত্যার অদ্ভুত ইতিহাস



অন্তর্বাস হীন পোষাকের ভিতর দিয়ে একটা হাত ঢুকে যেতে চাইছে গভীরে,গহনে। ঠোঁটের কোনায় লাস্য আসকারা দিয়ে চলেছে সমানে। হাতটা তো যেমন তেমন হাত নয়। হাতের মালিক সদর্পে সদ্য প্রাক্তন হয়ে যাওয়া বান্ধবীর শরীর ছুঁয়ে চেয়ে নিতে পারে নতুন নারী শরীরের সন্ধান। এমন হাত যার শরীরের প্রতিটি বাঁক ছুঁয়ে চলেছে,সেও এমন এক নারী যার একটা ইশারায় লাইন পরে যেতে পারে সোসাইটির সেরা সব পুরুষদের। পতঙ্গ যেমন আগুন স্বভাবী তেমনই মেয়েটি। কামনা আর যৌনতার আগুনে পুড়তেই তার আনন্দ। আবার কখনও নিজেই আগুন হয়ে পুড়িয়ে দিতে পারে পৌরুষের অহংকার।


সেই রাতের মেহফিল পার হয়ে,চলে আসা যাক বেশ কয়েক বছর পরের এক রাতে। নগ্ন শরীর বিছানায় উলটে আছে চাদরের আড়ালে। টেলিফোনের রিসিভারটা ঝুলছে হাত থেকে। বিছানার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ওষুধের কৌটো। নগ্ন শরীরের নিম্নাঙ্গে একাধিক ক্ষত চিহ্ন উসকে দিচ্ছি খুনের ইঙ্গিত । অটোপ্সির রিপোর্টে আসছে আত্মহত্যার কথা। ছত্রিশ বছরের যৌবন কেন আত্মহননের পথে গেল?


অনেকে বলেন,এই আত্মহননের পিছনে ওই পুরুষটিরও হাত আছে। পরকীয়া আর ত্রিকোণ প্রেমের উপসংহার এই মৃত্যু। কিন্তু আসল উত্তরটা হল যৌনতা।



মনরো এবং কেনেডি


কারন তিনি মেরলিন মনরো। আর ওই পুরুষটি আর কেউ নয় জন এফ কেনেডি। চর্চাপদের একটা পদ —“আপনা মাংসে হরিণা বৈরি” ভীষন ভাবে মিলে যায় মেরলিনের জীবনের সাথে। হরিণের শত্রু তার মাংস। মাংসের লোভেই বাঘ ঝাপিয়ে পরে হরিণের উপর। তেমন মেরলিনের জীবনের সংকট মেরলিনের লাস্য আর উদ্দাম যৌনতার আবেদন। মেরলিনের শরীর,মেরলিনকে সিঁটিয়ে রাখতো মনে মনে। চরম নিরাপত্তাহীনতার কোরকে নিজেকেই আটকে রাখতেন নিজেকে।


তিনটে বিবাহ,একাধিক প্রকাশ্যে আসা অথবা গোপনে রাখা প্রেম আর পরকীয়াও তাই বারবার তাঁর জীবনে এসেছে যৌন নিরাপত্তার খোঁজে। এরপরেও মিস লাইটসের সাথে সমকামিতায় সন্ধান করেছেন শান্তি আর তৃপ্তির যৌনতা।


মেরিলিন: দ্য প্যাশন অ্যান্ড প্যারাডক্স’ নামের বইতে লয় ব্যানার লিখেছেন— নাতাশা লাইটেস নামে এক জার্মান মহিলা অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দিতেন মনরোকে।

কলম্বিয়া পিকচার্সের ওই প্রশিক্ষকের সঙ্গে মনরো কাজ করেছেন দীর্ঘ সাত বছর আর তখনই নাতাশার সঙ্গে সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মনরো। প্রায় দুবছর নাতাশার সাথে একসাথে ছিলেন। আর ওই এক বাড়িতে থাকার সময় নাকি সারাক্ষন নগ্ন হয়ে থাকতেন মেরলিন। কেউ মেরলিনকে “সেক্সি” সম্মোধন করুক তা চাইতেন না অথচ বিশ্বাস করতেন —যৌনতা ছাড়া আর কিছুই দেওয়ার নেই তাঁর। মেকআপ,কস্টিউম এসব নিয়ে অবসেসড ছিলেন। সাধারনত গ্ল্যামার দুনিয়ার লাস্যময়ীরা কনফিডেন্ট হন ক্যামেরার সামনে,কিন্তু মেরলিন অসহায় হয়ে যেতেন শেষের দিকে। ডায়লগ ভুলে যেতেন। শুটিং ফ্লোরেই নাতাশার হাত শক্ত করতে ধরতেন। আসলে ভীষন নির্ভর করতেন নাতাশাকে আর নির্ভরতা থেকেই নিজেকে আর নিজের পছন্দের শরীরটাকে তুলে দিয়েছিলেন নাতাশার কাছে।


পড়ুনঃ



নাতাশাও বুঝতেন মেরলিনকে। নাতাশা অনুভব করেছিলেন মেরলিনের এই যৌন সর্বস্বতার আড়ালে আছে স্নেহ পাওয়ার আকুতি। যে স্নেহ থেকে ছোটবেলা থেকেই বঞ্ছিত মেরলিন। ১৯২৬ সালের ১ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন নর্মা জেন মর্টেনসন ওরফে মেরলিন মনরো। গ্লাডিস পার্ল বেকারের তৃতীয় সন্তান। গ্লাডিস ছিলেন কনসলিডেটেড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ফিল্ম নেগেটিভ কাটার । গ্লাডিস পনের বছর বয়সে তার চেয়ে নয় বছরের বড় জন নিউটন বেকারকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রবার্ট এবং বার্নিস । ১৯২১ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং বেকার তার সন্তানদের নিয়ে কেন্টাকি চলে যায়।১৯২৪ সালে গ্লাডিস দ্বিতীয়বার মার্টিন এডওয়ার্ড মর্টেনসনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু মনরো যখন গ্লাডিসের পেটে তখন তা অন্য কারো সন্তান জানতে পেরে মার্টিন গ্লাডিস কে ছেড়ে চলে গেলেন। মেরলিনের পিতৃ পরিচয় তাই অজ্ঞাত এবং বেকারই তার পদবী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শৈশবের বেশিভাগ সময় শিশুপল্লীতে কেটেছে মেরলিনের। ১৬ বছরে মেরলিন ইস্কুল পালিয়ে তার প্রতিবেশী, এয়ার ক্রাফট প্লান্টের একজন চাকরিজীবি জেমস "জিম" ডগার্থিকে বিয়ে করেন আর জেমসের চেষ্টায় বিয়ের পর মনরো এরোপ্লেন পার্টস কোম্পানীতে শ্রমিকের কাজ পেয়ে যান। রূপের লাবণ্য আর শরীরের মোহনীয় অভিব্যক্তির জন্য অল্প কিছুদিনের মাঝেই সেখানকার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন মনরো। কোম্পানীর শো-গার্ল হিসেবে মডেলিংয়ের সুযোগ পান তিনি।


পড়ুনঃ



এমন দিকভুল জীবন শুরুর মতন একটা গল্পের পরিসমাপ্তি বিতর্কিত আত্মহত্যায়। গল্পের পরতে পরতে মেরলিনের জীবন মেরলিন কে বিশ্বাস করিছে তোমার যা কিছু তা সব ওই শরীরটুকুর জন্য। তুমি হার্ট থ্রব কারন তোমার ওই চপল হাসি,উদ্ধত বুকের উত্থান, তোমার কোমরের বাঁক আর তোমার গাঢ় লাল লিপস্টিপ। কেনেডির মতন মানুষ তোমার সাথে মগ্ন থাকতেন চান কেবল ওই শরীরের সৌরভ নিতে। এই ভাবনাই মেরলানের বিপর্যস্ত জীবনের সঙ্গী ছিল।


শেষ পাতে আর একটু রহস্য দিয়ে যাই। মৃত্যুর কিছুদিন আগেই এবর্সন করান মেরলিন। কে ছিলেন ওই সন্তানের পিতা। সন্দেহের তীর প্রেসিডেন্ট কেনেডির ভাই ববি কেনেডির দিকেই। দুই ভাইয়ের সাথেই তো প্রেম করেছেন মেরলিন। তবে কি মৃতুতে আছে ষড়যন্ত্র ? কেমন করেই বা টের পেলেন কবি। ১৯৬০ সাল। ৩৪ বছর বয়সী মনরো তখন তাঁর সাফল্যের স্বর্ণশিখরে। তাঁর মৃত্যুচিন্তা তখন নিন্দুকের মনেও ছিল না। তবে হাজার মাইল দূরের এক তরুণ কবি ঠিকই সে বার্তা পেয়েছিলেন। মেরিলিন মনরোর রহস্যজনক মৃত্যুর দুই বছর আগে বাংলাদেশের সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ইস্টার্ন হেরাল্ডে সুরমা পারের কবি দিলওয়ারের একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। ‘A Glance at Marilyn Monroe’ নামের সে কবিতাটি পরে পাকিস্তানের কোয়েটা টাইমস পত্রিকাতেও পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল। সেই কবিতায় মেরিলিন মনরোর মৃত্যুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী কবি দিলওয়ার।মেরলিনরা এমনই । তাদের জন্যও কবিতা লেখা যায় যেমন লিখেছিলেন নিকারাগুয়ান কবি আর্নেস্তো কার্ডিনাল।


“কোনো ধরনের প্রসাধন ছাড়া সে এখন তোমার সামনে উপস্থিত

তার সংবাদ প্রতিনিধি ছাড়া

তার অটোগ্রাফ আঁকা ফটোগ্রাফ ছাড়া

একাকী, মহাশূন্যে নভোচারীর অন্ধকারের মুখোমুখি হওয়ার মতো।”


এমন স্বপ্ন বারবিটিউরেট ওভারডোজে শেষ হয়ে যেতে পারে না,যতই অটোপ্সি রিপোর্টে লেখা থাক।



তথ্য সূত্র-

প্রথম আলো,উইমেনসসেন্সর,বিকাশপিডিয়া, ঢাকা টাইমস,বিবিসি


পড়ুনঃ