• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

জলবায়ু বদলে যাওয়ার বিরুদ্ধে একা লড়াই করে ষোল বছর বয়েসে নোবেলের মনোনয়ন পেল থুমবার্গ


তারা ছাঁকনি চেপে সাগর পাড়ি দেবে

দেবেই দেব

তাদের সবাই করে মানা

বলে আর কিছুতে যা না

দিচ্ছে হাওয়া পুবে

ঘুর্ণীতে সব মরবি যে রে ডুবে

তাও কি তারা টলে

তারা সবই মিলে হাত পা ছুঁড়ে বলে

ছাঁকনি চেপে সাগর যাওয়ায় নেইকো কোনো ভুল

এরাই পাপাঙ্গুল

নীল মাথাতে সবুজ রঙের চুল

পাপাঙ্গুল।


এডওয়ার্ড লিয়রের ছড়ার বাঙলা অনুবাদ করেছিলেন সত্যজিৎ। আদতে আজগুবি ছড়ার পরতে পরতে আছে ঝুঁকি নেওয়ার সাহস। কঠিন প্রতিকুলতার রিরুদ্ধে তুচ্ছ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উপর ভরসা রেখে পালটে দেওয়ার স্বপ্ন দেখায় এই ছড়া। আর যারা সেই স্বপ্নের মালিক তাদের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নোয়াতে সয়,শাবাশ বলতে হয়।


তেমনই একটা নাম গ্রেটা থুমবার্গ। বয়স মাত্র ষোলো। বিশ্বজুরে আলোচনায় তার নাম। সে নাচতে পারেনা, গাইতে পারেনা, স্পোর্টস বা রুপালী পর্দার সেলেব্রিটিও সে নয়। ইনস্ট্রাগ্রামে কোটি কোটি ফলোয়ার নেই। তবুও সে আলাদা—ওই পাপাঙ্গুলদের মতন। তার নাম উঠে আসছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য।


সুইডেনের মেয়ে। তার প্রতিবাদ আমার- আপনার বিরুদ্ধে। আমাদের উদাসীনতার বিরূদ্ধেই তার জেহাদ। আমাদের এই প্রবনতার কারনে পালটে যাচ্ছে জলবায়ু। বিপন্ন ইকোসিস্টেম। আমরা বুঝেও বুঝছি না। গাছ কেটে ফেলা,জল নষ্ট করা,ফসিল ফুয়েলের যথেচ্ছ ব্যবহার, মেকানিক্যাল জৌলস বৃদ্ধির মায়ায় আমরা ধীরে অথচ নিশ্চিত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি কোন এক ওয়েস্টল্যান্ডের দিকে। প্যারাডাইজ লস্ট রাষ্ট্র নেতাদের দিকে আঙুল তুলে সতর্ক করে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছিল গ্রেটা। নিয়ম করে প্রতি শুক্কুরবার ইস্কুল কামাই করত। ওইদিন বরাদ্দ ছিল আন্দোলনের জন্য।


পড়ুনঃ



২০১৮র আগষ্টে সুইডিস পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে, প্রথম যেদিন স্ট্রাইক করেছিল থুমবার্গ সেদিন ছিল সে একা। আজ একশোটিরও বেশি দেশ জুড়ে চলছে তার এই আন্দোলন। জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই জলবায়ু বদলে ফেলার বিপক্ষে তীব্র ভাষায় বলেছে থুমবার্গ। ভারতের মতন দেশেও যে এই পরিবর্তন ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, তাও থুমবার্গ সতর্ক করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।


বিশ্বজুড়ে থুমবার্গের এই আন্দোলন সফল হলে উদ্বাস্তু সমস্যা,দূষণ,নিরাপত্তার মতন অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধাধ সূত্র মিলে যাবে। এটা মেনেও নিচ্ছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা,তাই থুমবার্গকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি মনোনীত করেছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবীদার হিসেবে। মালালা মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল পেয়েছিল। যদি থুমবার্গ নোবেল পায়,তবে সেই হবে কনিষ্ঠতম।


এবার আবার ফিরে আসি পাপাঙ্গুলের গল্পে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সচেতনতা ফেরি করতে এবার থুমবার্গ তার পালতোলা নৌকায় চেপে পাড়ি দেবে আতলান্তিক। আসবে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রেও। সফরে সামিল থুমবার্গের বাবা,সুইডেন রাজ পরিবারের এক সদস্য। দামাল মেয়ের কীর্তি সেলুলয়েডে বেঁধে ফেলতে সহযাত্রী হচ্ছেন বিখ্যাত ডকুমেন্টরি নির্মাতা—নাথান গ্রাসম্যান।


একপক্ষকালের মধ্যেই জলে ভাসবে থুমবার্গের বিজয় তরী ।