• Blogtog

জীবনানন্দ দাশের হাতে বেধড়ক মার খেলেন ফেসবুক কবি [ফেক নিউজ]


jibanananda das

শুভাঞ্জন বসু।

গতবারের মতো এবারেও সবার আড়ালেই হয়ে গেল 'স্বর্গীয় কবি সম্মেলন'। যেই সম্মেলনে শয়ে শয়ে স্বর্গীয় কবিরা ঠাকুর বাড়ির চিলেকোঠায় জমায়েত হন, কবিতা নিয়ে আলোচনার সূত্রে। আড্ডার মায়া ত্যাগ না করতে পেরে প্রতিবারের সভাপতি নির্বাচিত হন ভাস্কর চক্কতি। এবার সম্মেলন রবিবারে পড়ায় তিনি আসেননি। কারণ রবিবার কফিহাউস বন্ধ। তাই অনেক জোরাজুরি করে শেষ পর্যন্ত সভাপতি করে আনা হয় জীবনানন্দ দাশকে। এখনো সেই লাজুক মুখ, মলিন নীরবতা। মাঝের সিটে বসতে দেওয়া হলেও তিনি গিয়ে বসেন কোনার সিটে। শুরু করেন বিখ্যাত কবিতা লাইন - 'এইখানে মৃতবৎসা, মাতাল, ভিখারী, কুকুরদের ভিড়ে কোথায় তাকে রেখে দিলে তুমি!'

এরপর একে একে শক্তি সুনীল সুভাষ হাংরি পেটমোটা এনার্কিস্ট বিভিন্ন কবিরা তাদের প্রিয় প্রিয় কবিতা বলেন। কিন্তু বিপদ শুরু হয় এরপর। আধুনিক কবিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই উঠে আসে ফেসবুকের কথা।

তারক মজুমদার টিপ্পনি কেটে বলে- 'এখন তো ফেসবুক মানেই লিটিল ম্যাগ। শাল্লা এত কবিতা পায় কী করে! উঠতে বসতে হাগতে মুততে শুধু কবিতা শুধু কবিতা'

শুরু হয় বিতর্ক। কারোর মতে চলুক এইভাবেই। সুসময় আসবেই। কারোর মতে এক্ষুনি বোম্ব মেরে উড়িয়ে দেওয়া হোক।

মূল বিপদ শুরু হয় এরপরেই। জীবনানন্দ দাশ হঠাৎ কমেন্ট করে বসেন- 'সবাই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।'

ব্যাস এতেই ক্ষেপে যায় শেষ সারির জনৈক এক ফেসবুক কবি। সে এখনো জীবিত। কিন্তু ঘুষ টুষ দিয়ে ঢুকে পড়েছে। সিকিউরিটিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় এই ব্যাপারে, তিনি জানান- 'এখন এইভাবে কবিরা পুরস্কার, সম্মান সব পেয়ে যাচ্ছে আর টিকিট পাবে না!' সিকিউরিটির শব্দবন্ধে পাগল হয়ে যায় সবাই। পরে জানা যায় তিনিও ফেসবুক কবি।

যাইহোক মোদ্দা আলোচনায় ফিরি। তারপর সেই ফেসবুক কবি হঠাৎ ক্ষেপে যান জীবনান্দর বিরুদ্ধে। কারণ তার নাম ভাঙিয়েই খাচ্ছিলেন এতদিন তিনি। যখনই কেউ জিজ্ঞাসা করতো যে কি এসব আগডুম বাগডুম লিখছেন। কিছুই তো বুঝিনা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জীবনানন্দের পাসপোর্ট সাইজ ফটো তুলে ধরতেন।

পড়ুনঃ হিন্দি আগ্রাসন রুখতে হিন্দিতেই লেখা হল 'জয় বাংলা'


-'কিন্তু তার কবিতা তো বোধগম্য। একটু বেশি সময় লাগে হয়তো, কিন্তু তারপর তার মানে খুঁজে পেল তো সে এক জীবনদর্শন হয়ে দাঁড়ায়!' ফেসবুক কবি- 'আমারও তাই। আমারও তাই। ফুল জীবন, ফুল দর্শন।' স্বর্গীয় কবি- 'মারবো একটা থাপড়। তোর ফেসবুক ঘেঁটেছি আমি। যা হোক কয়েকটা কঠিন কঠিন শব্দ পরপর বসিয়ে দিলেই হয়!

জীবনের প্রান্তরে রুমাল হয়ে দাঁড়ায় কাক মেঘের আড়ালে পাখিরা বলে ওঠে- what the fuck!

এটার মানে কি ছোকরা?' ফেসবুক কবি- 'জীবনের মানে বোঝাতে পারেন আমাকে? জীবন তো এরকমই লাগাম ছাড়া চিন্তা।' জীবনানন্দ- 'এই ছেলে থামো। কবিতাও তাই বলে লাগাম ছাড়া চিন্তা! আমিও পড়েছি তোমার কবিতা। কিস্যু মানে নেই।

বিবেক এখন নিশ্চুপ, পাড়ার মালতির ঘুম হয়নি। কাল কাজে উঠে দেখবে, লোকাল ট্রেন আসলে মালগাড়ি।

কী এসব!' ফেসবুক কবি- 'বুঝবেন না বুঝবেন না। সুনীল দা তো বলেই গেছে কবিতা সবার জন্য নয়' সুনীল- 'হ্যাঁ সে আমি বলেছি কিন্তু এমন অপদার্থদের মতো তার ব্যবহার করবে বুঝিনি। তুমি এত লাইক কমেন্ট পাও কী করে!' ফেসবুক কবি- 'হিংসা হিংসা। হিংসা থেকে আপনারা এমন কথা বলছেন। আমার লাইক কমেন্ট দেখে জ্বলছেন আপনারা' শক্তি- 'সব কবিতার তলায় দেখি এক কমেন্ট বুকে আগুন ধরিয়ে দিল তুমি দাদা, তুমি পারো দিদি আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। কেন এত ভালো লেখো তুমি। আপনার কবিতা পড়ে মরে গেলে কিন্তু জেল হবে।

সব ফেসবুক কবির কবিতার তলায় এই এক কমেন্ট। তোরা ভালো করে দেখ, ওরা fan না BOT'

এরপর ক্ষেপে হয় ফেসবুক কবি। আত্মহত্যার থ্রেট দেয় কিন্তু যখন বুঝতে পারে কেউ বিশ্বাস করবে না তখন পকেট থেকে বার করে মারণাস্ত্র।

ফোন বার করে স্বর্গীয় কবিদের উদ্দেশ্যে বলা শুরু করে

'নৌকা চালাবো, পেট্রোল দাও। ওহ ভাত জোটেনি। না না তোমার স্তনে আমি বসবো খানিকক্ষণ। আমায় আদর করো। আমি পেট্রল কিনবো। মানব বোমা হয়ে ফাটবো সারারাত। অমল এলে বলে দিও আমি রোদ্দুর রায় হয়ে গেছি।'

এই সহ্য করে নি কেউ। জীবনানন্দ ঠাটিয়ে থাপ্পড় মারে। শক্তি বলে ওর হাতে ছেড়ে দিতে, বাংলা খেয়ে চাটবে। বাকিদের চিৎকারে এত সেন্সর বসাতে হয় যে আমাদের রিপোর্টারের তিন পাতার শুধু * লিখে পাঠিয়েছে।

শেষ পাওয়া খবরে তিনি তারপর থেকে আর কবিতা লেখেননি। তবে ফোন করে জানিয়েছেন- 'শুধু তবে আমি একা কেন ফাঁসবো। এরপরের বার আরো কয়েকজনকে পাঠাবো মার খাওয়ার জন্য।'

ফেসবুক কবিরা সাবধান। প্রলোভনে পা দেবেন না। আমাদের পেজে লাইক মারুন। নেক্সট টাইম এমন সম্মেলন হলেই আমরা সাবধান করে দেব।

পড়ুনঃ গোপন সুত্রে পাওয়া খবর- মদন মিত্র আসলে ভগবানের অবতার। কে সেই ভগবান!

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.