• Blogtog

দ্যুতি চাঁদ: সব বাধা পেরিয়ে নিজের সমপ্রেমের কথা ঘোষণা করেছেন উচ্চস্বরে


শ্রাবস্তী পাঠক

নারীজন্মের পর নানাভাবে তাকে পরীক্ষা দিয়ে চলতে হয়, পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে। অস্ত্বিত্বের সংঘাত পিছু ছাড়তে চায় না যেন কিছুতেই। বিরাট কোহলির টিম ইন্ডিয়া যেদিন সেমিফাইনালে পরাজয়ের আঁধার মুখে নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ঠিক সেদিনই অস্ত্বিত্ব সংঘাতকে জয় করা এক নারী নেপলসের মাটিতে সামার ইউনিভার্সিটি গেমসে সোনা জয় করলেন। প্রথম কোন ভারতীয় হিসাবে এই স্প্রিন্টার ১০০ মিটারে সোনা জয় করে ছুঁয়ে ফেললেন স্বপ্ন। শিকল ভাঙতে চাওয়া নারী, পুরুষ, তথাকথিত পরিচিত লিঙ্গের বাইরে থাকা মানুষ কিংবা সাধারণ দেশবাসী, এই স্বপ্ন ছোঁয়ার কাহিনিকে জড়িয়ে নিক নিজের সাথে।


শুধু মাঠের দৌড়ে স্বর্ণপদক নয়, জীবনযুদ্ধেও স্বর্ণপদক পেয়েছেন তিনি। পারিবারিক, সামাজিক সব বাধা পেরিয়ে নিজের সমপ্রেমের কথা ঘোষণা করেছেন উচ্চস্বরে। তাকে ভাঙতে চাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর নারীজন্ম নিয়ে। শরীরে পুরুষ হরমোনের আধিপত্য তাঁর স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হেলায় হারিয়েছেন সেই বাধাকেও। লক্ষ্যপূরণের পথে থেমে যাননি, পিছিয়ে পড়েননি। লড়াই করেছেন। আর সেই লড়াইয়ের পরিণামে আমরা দেখেছি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গায়ে জড়িয়ে গর্বিত হাসিমুখে এগিয়ে আসা এই কন্যাকে। অপেক্ষা করছেন সর্বোচ্চ মঞ্চটিতে আরও আরেকবার নিজেকে গর্বিত করার। তবেই না তিনি বলতে পেরেছেন, ‘তোমরা আমাকে টেনে নামাও, আমি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো’। এভাবেই ফিরে আসুক দ্যুতি চাঁদরা। আলোর পথযাত্রী হয়ে। সত্যিই তো, সূর্যের উজ্জ্বল দ্যুতি যে তাঁর মধ্যেও আছে।


83 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.