• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

মাইথোলজির মোস্ট ওয়ান্টেড ভিলেন দুর্যোধনের নামেও আছে দু’দুটো মন্দির


ইশ্বরের জন্ম হয় কিভাবে ? বিশ্বাসে, নাকি ভালোবাসায় নাকি সংস্কারে ? এই প্রশ্নের উত্তর যাই হোক, আসল সত্যি হল মানুষই দেবতা গড়ে। মানুষের গড়া কুসংস্কার বিভেদের ধর্ম আনে আর যেখানে ভক্তির আসল সূত্র মানবতা, সেখানে সব সমান। এমন নজির কিন্তু একেবারেই বিরল নয়, যেখানে তথাকথিত ভিলেন হয়ে ওঠেন দেবতুল্য। এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে ছড়িয়ে আছে এমন অনেক উদাহরণ। রাবনের মন্দির আছে, হিরিম্বার মন্দির আছে এমনকি শকুনির মন্দিরও আছে। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত হল দুর্যোধন! মাইথোলজির মোস্ট ওয়ান্টেড ভিলেন যে মানুষটি, তাঁর নামে আছে দু’দুটো মন্দির। একটি উত্তরে আর অন্যটি দক্ষিণে।


কেরালার কোল্লাম জেলার একটি মন্দির “পেলুভিরথি মালানাডা”- এখানে পূজিত হন দুর্যোধন।ছোটো এই মন্দিরের পিছনে আছে মহাভারতের সুন্দর একটি গল্প। পাণ্ডবরা যখন অজ্ঞাত বাসে, তাঁদের খোঁজে দুর্যোধন ঘুরতে ঘুরতে চলে এলেন এই গ্রামে। প্রচন্ড গরমে আর পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পরলেন দুর্যোধন আর তখন কাডুথাসেরি সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধ তাঁকে জল দিলেন, খাবারের ব্যবস্থা করে দিলেন। তৃপ্ত দুর্যোধন আলিঙ্গন করতে চাইলে, সেই বৃদ্ধ মানুষটি পিছিয়ে গেলেন আর জানালেন- তারা অনেক নিচু জাতের, ক্ষত্রিয়ের সাথে আলিঙ্গন তাই করতে পারবেন না। দুর্যোধন একদিন যেভাবে সূতপুত্র কর্ণ কে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই সে বৃদ্ধ মানুষ কে জরিয়ে ধরে বললেন যে প্রয়োজনের সময় জল দান করে তাঁর স্থান সবার ওপরে।


পড়ুনঃ



ফিরে যাওয়ার সময় দুর্যোধন কথা দিয়েছিলেন- সফল হলে আবার ফিরে আসবেন, দেখা করে যাবেন। দুর্যোধন পাণ্ডবদের খুঁজে পাননি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পরাজিত গান্ধারী নন্দন তাই আর দেখা করতে আসতে পারেন নি। কিন্তু মৃত্যুর পর দুর্যোধনের আত্মা কথা রাখতে চলে এলেন। সেই রাতে বৃদ্ধ মানুষটি স্বপ্নে দেখলেন দুর্যোধনকে। আর তাঁর বাড়ির সামনে পরদিন দেখলেন একটি বটের চারা। সেখানেই বেদি বানালেন। শুরু হল দুর্যোধনের পুজো।


এতো গেল গল্পের কথা। আসল কথা হল আজও এই মন্দির জাতপাতের ছোঁয়াচ থেকে দূরে। এই মন্দিরের পুজারি অব্রাহ্মণ। ওই শুদ্র বৃদ্ধের পরিবার থেকেই আজও নির্বাচিত হয় পুজারি। কেরালার ওই গ্রাম আজও মাতৃ তান্ত্রিক, তাই প্রধান পুরোহিতের মৃত্যুর পর তাঁর ভাগ্নে নিযুক্ত হন পরবর্তী পুরোহিত হিসাবজাবে। দক্ষিণের মন্দির ছেড়ে এবাই চলুন যাই তমসার কাছে। হিমালয়ের কোলে তমসা নদী। এই নদীর তিরে মোরি গ্রাম, আর সেখানেই আছে দুর্যোধনের মন্দির। সারা গ্রাম সেখানে দুর্যোধন কেই দেবতা বলে মানে।





ইতিহাস বলে মোরি গ্রামের মানুষ পাণ্ডবদের বংশধর। তবুও যেদিন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের পরাজয় হল, ভিমের হাতে নিহত হলেন দুর্যোধন, গোটা গ্রাম চোখের জল ফেলেছিল আর সেই চোখের জলেই নাকি তৈরি তমসা নদী। আজও নাকি নেই কান্নার জল বয়ে চলে নদী দিয়ে। তাই নদীর জল পান করা হয় না। যেকোনো বিপদে গ্রামের লোক হত্তে দেয় মন্দিরে, তারা বিশ্বাস করে দুর্যোধনের কৃপায় সব সঙ্কট কেটে যাবে।



আসলে বিশ্বাস তাই বড় কথা। আর কে ডিভাইন, কে ভিলেন তা তো আমাদের নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে রচনা।


পড়ুনঃ