• Blogtog

হাসপাতাল প্যারোডি- দিপাংশু আচার্য




প্যারোডিঃ [ ধিতাং ধিতাং বোলে... ]


ব্যারাম ট্যারাম হলে / চরম ডামাডোলে


বেটার হাফের কোলে চেপে হসপিটালেই যাও...


বুঝবে এবার ঠ্যালা/ ভোগান্তি চারবেলা


ব্যাকটেরিয়ার মেলায় বসে টোটকা টনিক খাও...


খাও রে খাও... টোটকা-টনিক খাও


মোটকা-মতন নার্সকে দেখে সামান্য ভয় পাও


কুকুর বেড়াল আসলে তেড়ে বেডপ্যান সামলাও


হাম্বা ব’লে ওপাশ ফেরো, কিম্বা টেঁসে যাও...


যাওরে যাও, যাওরে যাও...


কমবে এমন ওয়েট /পেশেন্ট হবেন পোয়েট


আন-হাইজিনিক ডায়েট এবং নড়বড়ে বাথরুম...


সিটি স্ক্যানের ছুতো / বাজেট বহির্ভুত


হাসপাতালের গুঁতোয় ছোটে পেশেন্ট পার্টির ঘুম


ভাইরে ভাই... কোথায় রুগীর ঠাঁই ?


ভেলোর যাওয়ার রোকড়া তো আর কেলোর মায়ের নাই !


সরকারিরাও তড়কা খেয়ে তুলছে এখন হাই ...


শপিংমল আর নার্সিং হোম মাসতুতো ভাই ভাই ...


ভাইরে ভাই... ভাইরে ভাই ...


মূল নাটকঃ


[ হাসপাতালের গেট। তাতে হোর্ডিং “ গ্যাঁড়াকল মেডিকেল কলেজ “। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে দারোয়ান  “ ফিল্মি ফটিক “ ! একজন ছাপোষা ভদ্রলোক কুঁজো অবস্থায় , মানে কোমর  থেকে সামনের দিকে অনেকটা ঝুঁকে, গেটের সামনে আসে । ]  


ফটিকঃ আরে ...আরে ! এটা কি করছেন ? প্রণাম করতে হবে না ! কী মুশকিল ! বাপের বয়েসী লোক হয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন ! আজব !!


ভদ্রলোকঃ আরে ধুর মশাই ! খামোখা প্রণাম করতে যাবো কেন ? আমার কি খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই !


ফটিকঃ ও বুঝেছি , বুঝেছি । প্যান্টেই করে ফেলেছেন ? তাই আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না ।  আপনি একটা কাজ করুন , সুলভ শৌচাগারে যান । এটা তো হাসপাতাল ! “ গ্যাঁড়াকল মেডিকেল কলেজ । “


ভদ্রলোকঃ জানি, জানি...  হাসপাতাল বলেই তো আমি এসেছি !


ফটিকঃ মানে !!


ভদ্রলোকঃ আমি পেশেন্ট ! প্রণাম করতেও আসিনি , পটি করতেও আসিনি । আমি এসেছি চিকিৎসা করাতে ! এই যে দেখছেন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না, এটাই আমার রোগ !


ফটিকঃ (চিরঞ্জিতের স্টাইলে) এটা শুধু আপনার নয়, গোটা বাঙালি জাতিরই রোগ ! পৃথিবী এতো এগিয়ে গ্যালো , অথচ বাঙালি এখনও সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখলো না !


ভদ্রলোকঃ বাবা, আপনি দারোয়ান না দার্শনিক !!


ফটিকঃ চাটছেন ?


ভদ্রলোকঃ না, না, ধুর, চাটবো ক্যানো ? আমি নিজেই চাট হয়ে বসে আছি । তাড়াতাড়ি আমার একটা কিছু ব্যবস্থা করুন প্লিজ ।  


ফটিকঃ (বিগ বি-র স্টাইলে) ঠিকাছে, আপনি কি চান বলুন ?


ভদ্রলোকঃ কি চাই মানে? হাসপাতালে এসেছি, ডাক্তার দেখাতে চাই, তারপর চাঙ্গা হয়ে বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্তে টি-টোয়েন্টি দেখতে চাই ! আর কি চাইবো?


ফটিকঃ হুম ! তা আপনার সঙ্গে আপনার বাড়ির লোক কেউ আসেনি !


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ , মানিব্যাগে আমার মেশোমশাই আছেন !


ফটিকঃ (সানি দেওলের স্টাইলে) আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন?


ভদ্রলোকঃ ঠাট্টা তো আপনি করছেন ! দেখতেই তো পাচ্ছেন, আমার সঙ্গে কেউ আসেনি, আমি একাই এসেছি !


ফটিকঃ আপনার বউ কোথায়?


ভদ্রলোকঃ গোকুলে !


ফটিকঃ অ্যাঁ ?


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ । আমকে বোধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে । এখনও বিয়ে হয়নি মশাই । আমি ব্যাচেলার !


ফটিকঃ আর বাপ-মা?


ভদ্রলোকঃ বাপ-মা দেশের বাড়িতে থাকে । এখানে আমি একা !


ফটিকঃ এব্বাবা ! এখন কি হবে !  


ভদ্রলোকঃ কি হবে মানে ?


ফটিকঃ মানে এই হাসপাতালে ঢুকতে গেলে সবার আগে বন্ডে সই করতে হয় । বলা তো যায় না, চিকিৎসা চলাকালীন, স্যাট করে আপনার কিছু হয়ে গেলে, ফ্যাট করে আমরা কেস খেয়ে যাবো !


ভদ্রলোকঃ ঠিকাছে, আমিই সই করে দিচ্ছি। নো প্রবলেম !


ফটিকঃ খেপেছেন নাকি ! আপনিই যদি  বাইচানস টেঁসে যান , আপনার সই দিয়ে কি হবে? ভুত হয়ে সাক্ষি দিতে আসবেন?!!


ভদ্রলোকঃ কী সব অলুক্ষুনে কথা বলছেন? খামোখা টেঁসে যাবো ক্যানো ! সামান্য কোমরের প্রবলেম !


ফটিকঃ (নানা পাটেকারের স্টাইলে) শুনুন মানুষের বডি হচ্ছে ইন্টারনেটের মতো ! এখানে ব্রেন, কিডনি, কোমর, লিভার, হাঁটু, হার্ট, কনুই সবার সাথে সবার তুমুল কানেকশন । একটু এদিক ওদিক হয়ে গেলেই কি গ্যাঁড়াকল হয়ে যাবে, কোনও মেডিকেল কলেজ বলতে পারবে না !


ভদ্রলোকঃ (অবাক) তার মানে, যাদের কোনো বাড়ির লোক নেই, তাদের আপনারা হাসপাতালে নেন না ?


ফটিকঃ না, না, তা ক্যানো !! “ আত্মীয় নেই হাতের কাছে? /


চিন্তা কিসের ? ফটিক আছে  ... টিংটং ...”  


ভদ্রলোকঃ মানে?


ফটিকঃ মানে আমি হচ্ছি জেমস বন্ড ! যাদের বন্ডে সই করার লোক নেই, তাদের হয়ে আমিই মাত্র হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ডে সই করে দিই ... জেমস বন্ড ...  


ভদ্রলোকঃ হাজার টাকা !!


ফটিকঃ (বুম্বা দার স্টাইলে) মনে রাখবেন, আপনার লাইফের দাম হাজার টাকার থেকে অনেক বেশি !!


ভদ্রলোকঃ (পকেট থেকে হাজার টাকা বের করতে করতে) আপনি থেকে থেকে  


ফিল্মস্টার-দের গলা নকল করেন ক্যানো বলুন তো??


ফটিকঃ হতে পারি আমি হাসপাতালের দারোয়ান, কিন্তু টলিউড আর বলিউড আমার     জান !! কোনও শুক্কুর বার আপনি আমায় হাসপাতালে পাবেন না !!


ভদ্রলোকঃ (হাজার টাকার নোট ফটিককে বাড়িয়ে) তাই নাকি!!


ফটিকঃ (টাকাটা নিয়ে পকেটে পুরে) এই জন্যই সবাই ভালবেসে আমায় ফিল্মি ফটিক বলে ডাকে !!  


[ ফটিক বন্ড আর একটা বিল ভদ্রলোকের হাতে দেয় । ভদ্রলোক ভেতরে ঢুকতে যায় ]


ফটিকঃ একমিনিট স্যার ! এই দুটো জিনিস সঙ্গে রাখুন, কাজে লাগবে। এই পান  আর এই লিপস্টিক ...


ভদ্রলোকঃ পান আর লিপস্টিক !! এগুলো আমার চিকিতসার কাজে লাগবে !! মেডিকেল  সায়েন্স এতো এগিয়ে গ্যালো !!  


ফটিকঃ চাপ নেবেন না একদম । ভেতরে ঢুকলেই সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে !!


ভদ্রলোকঃ আচ্ছা বেশ ... ( আবার হাঁটা দেয় )


ফটিকঃ স্যার, টাকাটা ?


ভদ্রলোকঃ টাকা ! আবার কিসের টাকা ?


ফটিকঃ (দাদামনির স্টাইলে) ওই পানের জন্য কুড়ি আর লিপস্টিকের দুশো তিরানব্বই...  


[ ভদ্রলোক কুড়িয়ে বাড়িয়ে টাকা দেয় এবং ভেতরে ঢোকে শেষমেশ... ফটিক একটা “হাউস্ফুল” লেখা বোর্ড হাসপাতালে ঝুলিয়ে দেয় । তারপর পায়ের ওপর পা তুলে কানে একটা হেড ফোন গুঁজে, ঢুলতে শুরু করে ]


[ কালিপদ কেরানির টেবিল ! টেবিলে একটা লঝঝড়ে কম্পিউটার আর কিবোর্ড, একটা গাবদা ল্যান্ডফোন, প্রচুর পুরানো ফাইল বই আর কাগজপত্র। কালিপদ কি-বোর্ডে কি সব টাইপ করছে, আর মাঝে মাঝে অভ্যেস বশে ডানহাতটা টাইপ-রাইটারের মতো খটাশ করে সরিয়ে দিচ্ছে... ]


[ ভদ্রলোক সেখানে ঢোকেন কুঁজো হয়ে । কালিপদ’র চোখ যায় ভদ্রলোকের দিকে । কালিপদ ভাবে লোকটা কিছু খুঁজছে মেঝেয় । কালিপদ চেয়ার ছেড়ে উঠে লোকটার সঙ্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করে । এবার লোকটা ভাবে কালিপদ কিছু খুঁজছে, ফলে সে ওইভাবেই খোজায় হেল্প করতে শুরু করে । এরকম খোঁজাখুঁজি চলতে থাকে কিছুক্ষণ ]


কালিপদঃ কি হারিয়েছে সেটা জানা থাকলে খুঁজতে সুবিধা হয়...


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ, সেটাই ! কি হারিয়েছে বলুন তো । খুচরো পয়সা, না কোনো দরকারি  চিরকুট ?


কালিপদঃ কি হারিয়েছেন সে ব্যাপারে শিওর না হয়েই , খুঁজতে শুরু করে দিয়েছেন ?  আপনি তো মশাই  অদ্ভুত লোক ?


ভদ্রলোকঃ আমি ক্যানো খুঁজতে যাবো? খুঁজছেন তো আপনি। আমার তো কিছুই


                     হারায়নি !!


কালিপদঃ ইয়ার্কি মারার জায়গা পাননি !! আপনিই তো আমার ঘরে কি একটা খুঁজতে  খুঁজতে ঢুকলেন , ভাবলাম নিশ্চই কিছু হারিয়ে ফেলেছেন, তাই কাজকর্ম ফেলে আপনার হেল্প করছিলাম । যতোসব ওয়ার্ক-কালচারলেস ভেতো  বাঙালি...


[ ব’লে আবার নিজের চেয়ারে ফিরে কাজ করতে শুরু করে ]  


ভদ্রলোকঃ ( টেবিলের কাছে এসে ) বলছি যে, খচে যাবেন না ! আমি পেশেন্ট!


কালিপদঃ ( চোখ তুলে ) পেশেন্ট ?


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ, মানে এই যে দেখছেন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না, কোমর থেকে বেঁকে গেছি, এটাই আমার ব্যারাম । আমাকে বাঁচান ডাক্তারবাবু !!


কালিপদঃ আমি ডাক্তার নই । আমি কালিপদ  কুন্ডু !  নাইন্টিন ফরটি নাইন থেকে মেডিকেল লাইনে ছড়ি ঘোরাচ্ছি মশাই ... ফর্ম ফিলাপ, ফাইল মেনটেন, অ্যাকাউন্টস, ব্যাক ক্যাল্কুলেশন, ফোনের বিল, গোঁজামিল - সব একা হাতে সামলাই ।


ভদ্রলোকঃ আমি আসলে ডাক্তারবাবুর সঙ্গে দেখা করতে চাই ...


কালিপদঃ আরে দাঁড়ান দাঁড়ান ... ডাক্তারবাবু হচ্ছেন এভারেস্টের চুড়োর মতো । তার কাছে পৌছোনোর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় । বেশি অধৈর্য হবেন না। নাইন্টিন সেভেন্টি-তে ডাঃ ধন্বত্বরি ধারা আমাকে বলেছিলেন, অধৈর্য হলেই শরীরের ইমিউনিটি কমে যায় । রোগ আরো কমপ্লিকেটেড হয়। সারতে সময় লাগে।


ভদ্রলোকঃ আমাকে তাহলে এখন কি করতে হবে?


কালিপদঃ বেশি কিছু না । তেরোটা ফর্ম ফিলাপ, আঠেরোটা টেস্ট আর বাইশটা বিল পেমেন্ট... তারপর আস্তে আস্তে সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে ।  


[ একডজন ফর্ম কালিপদ বাড়িয়ে দেয় ভদ্রলোকের দিকে ]


কালিপদঃ নিন, এই তেরোটা ফর্ম আস্তে আস্তে, দেখে শুনে, ঠাণ্ডা মাথায়, মন দিয়ে ফিলাপ করে   ফেলুন । মনে রাখবেন, বানান ভুল হলে আর হাতের লেখা খারাপ হলে কিন্তু ফর্ম ক্যান্সেল । একদম তাড়াহুড়ো করবেন না ... পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য স্পেশাল ডিস্কাউন্ট আছে ! কালো কালিতে করবেন ! পেন আছে না দেবো ?    


ভদ্রলোকঃ ( কাঁচুমাচু ) দাদা, মানে, স্যার, বলছিলাম কি, আমার শরীরের অবস্থা এই মুহুর্তে  খুবই সিরিয়াস । মানে ভীষণই খারাপ কন্ডিশন । এই অবস্থায় এতোগুলো ফর্ম, কুঁজো হয়ে, বাঁকা কোমর নিয়ে, মানে...   


কালিপদঃ কিন্তু এই  ফর্ম্যালিটিগুলো মেন্টেন না করলে তো ডাক্তার অব্দি পৌঁছোতে পারবেন না । রোগ সারাতে গেলে তো এইটুকু করতেই হবে। মনে রাখবেন এটাও ট্রিটমেন্টের পার্ট ... নাইন্টিন ফিফটি ওয়ানে বিধান চন্দ্র রায় বলেছিলেন, ফ্রম ফিলাপ ইজ মাইটার দ্যান ফিজিওথেরাপি !  


ভদ্রলোকঃ কিন্তু !!


কালিপদঃ কোনও কিন্তু নয় । আমার এখন প্রচুর কাজের প্রেশার মশাই ... হ্যাজাবার  সময় নেই । ঝটপট করে ফেলুন । আর হ্যাঁ , বেশি তাড়াহুড়ো করবেন না...  


[ কালিপদ কাজে মন দেয় ... ভদ্রলোক ভ্যাবাচ্যাকা ... কালিপদ ফাইল থেকে


চোখ না সরিয়ে ল্যান্ডলাইনে একটা নাম্বার ডায়াল করে ফোন কানে নেয় ]


কালিপদঃ হ্যাঁ ফটিক ... আমার জন্য একটা খয়ের ছাড়া “ কভি খুশি কভি গম “ নিয়ে আয় তো ! জর্দা কম, সুপুরি বেশি ...


কি বলছিস, পান  শেষ ??!  এখন পারবি না ?? ইয়ার্কি হচ্ছে ? যত্তোসব !!


[কালিপদ ফোন নামিয়ে রাখে]


কালিপদঃ ( একবার চোখ তুলে ) কি হল , আপনার কদ্দুর ?  


ভদ্রলোকঃ স্যার বলছিলাম যে, খাবেন নাকি একটা পান ?  


কালিপদঃ আছে নাকি ?


ভদ্রলোকঃ আছে মানে ! ঠিক যেমনটা আপনি চান ! “ সুপুরি বেশি জর্দা কম , কভি খুশি  কভি গম”


কালিপদঃ কই দেখি ?


[ ভদ্রলোক পান বের করে কালিপদকে দেয় । কালিপদ পান মুখে পুরে আয়েস করে চিবোতে থাকে । তারপর চোখ বন্ধ করে বলে   ]


কালিপদঃ আপনি একটা কাজ করুন ! আপনি খালি ফর্মগুলোর তলায় একটা করে সই  করে দিন । পুরো সই করতে হবে না , ইনিশিয়াল কল্লেই হবে । বাকিটা আমি দেখে নিচ্ছি ।


ভদ্রলোকঃ সেকি স্যার ! এটা তো আমার ট্রিটমেন্টের পার্ট । তাছাড়া আপনার এতো  কাজের প্রেশার ।


কালিপদঃ শুনুন , কবি বলেছেন , “ বাঙালীর তরে যদি বাঙালি না কাঁদে ! সেলফিস ব’লে  তাকে ডাকো ভীমনাদে“ !! আপনি চুপচাপ ইনিশিয়াল মেরে আমায় ফর্মগুলো দিন !  


[ ভদ্রলোক তাই করেন ]


ভদ্রলোকঃ স্যার এবার ... ( আমতা আমতা করে )


কালিপদঃ এবার আপনাকে যেতে হবে সিস্টার মণিকার কাছে ... ওখানে আপনার টেস্ট  হবে চাররকম ... ব্লাড টেস্ট, সিটি স্ক্যান, এন্ডোস্কোপি , এক্স রে ।  


ভদ্রলোকঃ ওকে স্যার , থাঙ্ক ইউ ... ( হাঁটা দেয় )


কালিপদঃ আরে দাঁড়ান, দাঁড়ান । যাচ্ছেন কোথায় ? মণিকার কাছে গেলেই কি টেস্ট হয়ে  যাবে নাকি ? এখানে আপনি টাকা দেবেন , আমি আপনাকে বিল দেবো, আপনি বিল নিয়ে মণিকাকে দেবেন, তবে না টেস্ট !


ভদ্রলোকঃ স্যার, আসলে এই মুহুর্তে সব ক্যাশ টাকা শেষ ... বাইরের গেটে ফটিককে  টপকাতে গিয়েই ১২০০ টাকা বেরিয়ে গ্যাছে স্যার ... আমি যদি পরে ...


কালিপদঃ চিন্তার কিছু নেই ! এতো হতেই পারে ... এই জন্যই তো আমাদের গ্যাঁড়াকল  মেডিকেল কলেজে, ক্যাশ না থাকলে কাইন্ডেও পেমেন্ট করা যায় ।  


ভদ্রলোকঃ কাইন্ড মানে ?


কালিপদঃ মানে, ঘড়ি, মোবাইল, ক্যামেরা, জুতো- আপনার কাছে যা আছে, আপনার যা  সামর্থ্য... তাই দিয়েই আপনি বিল পে করতে পারেন । বুঝেছেন ...


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ, বুঝেছি ...


কালিপদঃ এই নিন সিটিস্ক্যানের বিল ...


ভদ্রলোকঃ এই নিন আংটি ...


কালিপদঃ ব্লাডটেস্ট ...


ভদ্রলোকঃ ঘড়ি ...


কালিপদঃ এস্ক রে ...


ভদ্রলোকঃ গলার চেন ...


কালিপদঃ আর এই রইল এন্ডোস্কোপি ...


ভদ্রলোকঃ কিন্তু স্যার, আমার কাছে তো আর কিছু নেই !!


কালিপদঃ ক্যানো ? আপনার জামাটা ! দক্ষিণাপন মনে হচ্ছে ?


[ ভদ্রলোক অনিচ্ছা সত্ত্বেও জামাটা খুলে টেবিলে রাখে ]


ভদ্রলোকঃ এবার তাহলে যাই?


কালিপদঃ হ্যাঁ, সাবধানে যাবেন...


ভদ্রলোকঃ স্যার, এই লিপস্টিকটা কোথায় কাজে লাগবে বলতে পারবেন ?


কালিপদঃ কোথায় আবার, ঠোঁটে !!


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ, মানে কার ঠোঁটে ?


কালিপদঃ ভগিনী নিবেদিতার !!


ভদ্রলোকঃ অ্যাঁ !!


কালিপদঃ আপনার মশাই বড্ড কৌতূহল ! বললাম তো, আস্তে আস্তে সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে ! আপনি তাড়াতাড়ি মণিকার কাছে যান । বেশি দেরি করলে কিন্তু, কোমরের পেইন ব্রেনেও এফেক্ট করতে পারে...


ভদ্রলোকঃ আচ্ছা যাই তাহলে... উফফ বাবারে বাবারে বাবা... মরে গেলাম গো...


[বলতে বলতে মণিকার টেবিলের দিকে এগোতে থাকে ভদ্রলোক...]


[ কালিপদ  “দুগগা দুগগা”- বলে আবার কাজে মন দ্যায়...]


[মণিকার টেবিলের ওপর ইঞ্জেকশান, টেস্ট টিউব, প্রেশার মাপার যন্ত্র ইত্যাদি রাখা...


দূরে আমরা আবছা দেখতে পাই, অপারেশান টেবিলে বসে সিনিয়র আর জুনিয়র ডাক্তার বসে


লুডো খেলছে...]


[মনিকা ফোনে কথা বলতে বলতে পায়চারি করছে... এমন সময় রুগি ভদ্রলোক কুঁজো হয়ে


এসে মণিকার পেছনে দাঁড়ায়... মনিকা পায়চারি করে কথা বলতে থাকে, আর ভদ্রলোক


মণিকার পেছন পেছন এপাশ ওপাশ করতে থাকে... ]


মনিকাঃ কাল কি হয়েছে জানো ? অপারেশান থিয়েটারে লাল ওষুধ রাখা ছিল, আলতা ভেবে পায়ে পরে নিয়েছি !  ( খ্যাঁকখ্যাঁক করে ন্যাকা হাসি হাসে...)


ক্যানো আবার ! সেলফি তুলবো বলে । আলতা-সেলফি ! ফিলিং ছাতার মাথা উইদ পায়ের পাতা ! লালে লাল ভার্চুয়াল !! ( আবার হাসি)


ওকে... গুডবাই, লাভ ইউ, টেক-কেয়ার, টাটা, মুয়াআআহ...


[মনিকা ফোন কেটে পেছন ফেরে... দেখতে পায়, একটা লোক খালিগায়ে কুঁজো হয়ে মণিকার অদ্ভুত জায়গার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে...]


মনিকাঃ (ভয়ে চিৎকার করে ওঠে) আঃ পুলিশ !


[ মণিকা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে থাকে ... মাটিতে পড়ার আগেই ভদ্রলোক ওই


কুঁজো অবস্থাতেই  খপ করে ধরে নেয় মণিকাকে ...]


ভদ্রলোকঃ এই খেয়েছে ! মরে গেল নাকি ?


( কোনও মতে সিলিং-এর দিকে মুখ তুলে ) বাঁচাও ভগবান !! এরম চলতে থাকলে , আমি কিন্তু লিপস্টিক খেয়ে সুইসাইড করবো !


[ ভদ্রলোক কাঁদো কাঁদো ... এদিকে মণিকার আওয়াজ শুনে ছুটে এসেছে কালিপদ


আর ফটিক ... দূরে আমরা আবছা দেখতে পাই, দুই ডাক্তার তখনও লুডোয় মত্ত, কোনো


দিকে হুঁশ নেই ...  ]   


ফটিকঃ (ভদ্রলোক আর মণিকা-কে দেখে) বাওয়া – এতো পুরো লাব সিন !


(গান গেয়ে) এমন বন্ধু আর কে আছে , মণিকার মত সিস্টার ...


ভদ্রলোকঃ ফাজলামি না করে তাড়াতাড়ি কিছু একটা করুন ! এবার আমি যন্ত্রণায় হার্টফেল করবো , নিজেকে কাটা পাঁঠা মনে হচ্ছে !


কালিপদঃ এই ফটিক, চল মণিকাকে ধরাধরি করে চেয়ারে বসাই ...


[ তিনজনে মিলে মণিকাকে ধরে চেয়ারে বসায়, মণিকা তখনও অজ্ঞান ...]


কালিপদঃ কি ব্যাপার বলুন তো ? হলোটা কি?


ভদ্রলোকঃ   উনি বোধহয় আমাকে পুলিশ ভেবেছেন !


ফটিকঃ ( সানি দেওল ) আপনি কি করে জানলেন ?


ভদ্রলোকঃ আমাকে দেখেই উনি “পুলিশ’’ বলে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেলেন !


কালিপদঃ কেউ কাউকে পুলিশ ভাবলে পুলিশ বলে চিৎকার করে না, এটা একটা বেসিক থিওরি ! মণিকা নিশ্চয়ই আপনাকে ডাকাত ভেবেছে !


ফটিকঃ না না, আমার মনে হয় মণিকা ম্যাডাম ওনাকে প্রেম চোপড়া বা রুদ্রনীল ঘোষ লাইনের কেউ ভেবেছে !


ভদ্রলোকঃ বাজে তক্কো না করে ওনাকে জাগান ! কোমর আমার ছিঁড়ে যাচ্ছে যন্ত্রণায় ! নিজেকে বিহারের ভোটিং মেশিন মনে হচ্ছে !!


কালিপদঃ   হ্যাঁ, হ্যাঁ । দাঁড়ান... দাঁড়ান ! নিজেকে একেকবার একেকরকম ভাবাটা ভালো সাইন  নয় । ব্রেনে এফেক্ট শুরু হয়ে গেছে অলরেডি !


(ফটিককে) এই ফটিক, দাঁড়িয়ে দেখছিস কি ! জল ছেটা !


[ফটিক গ্লাসের জল ডানহাতে নিয়ে ভদ্রলোকের মুখে ছিটিয়ে দেয় অনেকটা ...]


কালিপদঃ   আহ ! ওনার মুখে না , মণিকার মুখে !


[ ফটিক জিভ কেটে আবার জল নিয়ে এবার মণিকার মুখে ছেটায়, আর বিড়বিড়


করে ভুলভাল মন্ত্র পড়তে থাকে...]


ফটিকঃ ওং হুড় হুড় দাবাং দাবাং নমো... ওং জন্ডিস কেসায় ভেঙ্কাটেশায় নমো...


[মনিকা চোখ মেলে তাকায় ধিরে ধিরে ... ভদ্রলোককে দেখে আবার চিৎকার করতে


যায় মনিকা... কালিপদ তাকে থামায়...]


কালিপদঃ আহ মনিকা ! ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই ! ইনি আমাদের পেশেন্ট !


মনিকাঃ পেশেন্ট !!


কালিপদঃ হ্যাঁ, কোমরে একটা মেজর প্রবলেম হয়েছে, একটা মাইনর অপারেশান করলেই ঠিক হয়ে যাবে, আমার এক্সপেরিয়েন্স যা বলছে !


মনিকাঃ ও আচ্ছা , আমিতো ভেবেছিলাম কি না কি !!


কালিপদঃ তুমি ঝটপট তোমার ফর্মালিটি গুলো সেরে, ডাঃ হাজরাকে পাঠিয়ে দাও...


ভদ্রলোকঃ   ডাঃ হাজরা ??


ফটিকঃ হ্যাঁ , আমাদের জুনিয়ার ডাক্তার ! ডাঃ হ্যাপি হাজরা !


(গান গেয়ে) ডোন্ট  ওয়োরি ... বি হ্যাপি ...


[ কালিপদ কট্মট করে ফটিকের দিকে তাকায় , ফটিক চুপ করে যায়...]


কালিপদঃ আমি চললুম ... প্রচুর কাজের প্রেশার ! নিশ্বাস ফ্যালার টাইম নেই ! কতো নিশ্বাস যে পেন্ডিং হয়ে আছে এই করে করে ...


মণিকাঃ ( ন্যাকা ন্যাকা ভাবে ) কিচ্ছু চিন্তা করবেন না কালিবাবু । বাকিটা আমি সামলে নেবো !


কালিপদঃ ( গদ্গদ হেসে মণিকাকে ) আমি তাহলে আসি !


[ কালিপদ বেরিয়ে যায় ]


ফটিকঃ ( গদ্গদ হেসে মণিকাকে ) আমি তাহলে একাশি !


মণিকাঃ হোয়াট ?


ফটিকঃ ( হেসে ) কিছু না !


[ ফটিকও বেরিয়ে যায় , বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঝুঁকে রুগীকে লিপস্টিকের ব্যাপারটা


ইশারায় মনে করিয়ে দেয় ]  


ভদ্রলোকঃ আপনি ঠিক আছেন তো ?


মণিকাঃ ( লজ্জায় জিভ কেটে ) হ্যাঁ । আপনি ?


ভদ্রলোকঃ ( কেঁদেকুকিয়ে ) আমি একদম ঠিক নেই ম্যাডাম ! কোমরটা টাইট আর প্যান্টুলটা লুজ হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে ! নিজেকে পোস্তার ওভারব্রিজ মনে হচ্ছে ম্যাডাম !


মণিকাঃ ( ন্যাকা ভাবে ) আহা রে ! আমার না অজ্ঞান হয়ে সব গুলিয়ে গেছে জানেন ! কি যেন করতে হবে আমায় ?


ভদ্রলোকঃ ( মণিকার দিকে লিপস্টিক এগিয়ে দিয়ে ) কিচ্ছু না ম্যাডাম ! আপনায় খালি টেস্ট করতে হবে ...


[ মণিকা লিপস্টিকের ঢাকনা খুলে লিপস্টিক বার করে জিভ দিয়ে চাটে ]


মনিকাঃ ভ্যানিলা ! আমার প্রিয় ফ্লেভার !!


ভদ্রলোকঃ লিপস্টিক টেস্ট করতে বলিনি ম্যাডাম ! আমার মেডিকেল টেস্টের কথা বলছিলাম ...


মণিকাঃ মেডিকেল টেস্ট ? ও আচ্ছা ! কি কি আছে বলুন ?


ভদ্রলোকঃ ব্লাড টেস্ট দিয়েই শুরু করুন তাহলে ।


[ভদ্রলোক “বাবা রে বাবা রে বাবা” বলে যন্ত্রণায় কোমরে হাত দেয় ]


মণিকাঃ ( চোখ কপালে তুলে ) ব্লাড !!!


[ মণিকা মাথায় হাত দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো করে ...]


ভদ্রলোকঃ কি হলো ম্যাডাম ? এরকম করছেন ক্যানো ??


মণিকাঃ রক্ত দেখলেই না আমার মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে ... আমি সেন্সলেস হয়ে  যাই ...


ভদ্রলোকঃ এই খেয়েছে ! ইয়ে , তাহলে ব্লাড টেস্টটা বরং বাদই দিন ... আপনি বরং এক্স রে দিয়ে ... এক্স রে নিয়ে কোনও চাপ নেই তো ?


মণিকাঃ না, না ! এক্স রে তো ভীষষণ ফেভারিট ! দাঁড়ান ...


[ মণিকা চেয়ার থেকে উঠে চারপাশে কিছু একটা খোঁজে । পায় না ! অবাক হয়ে যায়...]


মণিকাঃ যাব্বাবা ! এক্স রে মেশিনটা কোথায় গ্যালো !! এখানেই তো ছিল !


ফটিক ... এই ফটিক ...



ভদ্রলোকঃ শুনতে পাচ্ছে না মনে হয় ...


মণিকাঃ একমিনিট দাঁড়ান ...


[ মণিকা টেবিলের ড্রয়ার থেকে একটা রিকশার ভেঁপু বার করে দু তিন বার জোরে জোরে বাজায় ... ফটিক দৌড়ে দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে হাজির হয় ]


ফটিকঃ এনি পবলেম ম্যাডাম ?


মণিকাঃ এক্স রে মেশিনটা কোথায় ??


ফটিকঃ   ইলেকট্রিকের দোকানে সারাতে দিয়েছি !


মণিকাঃ   হোয়াট ??


ফটিকঃ হোয়াটের কি আছে ! আলোগুলো জ্বলছিল না, তাই বাল্ব পাল্টাতে দিয়েছি !!


মণিকাঃ কবে ফেরত পাবো ?


ফটিকঃ কোনও ঠিক নেই ! বলেছে এই বাল্ব সহজে পাওয়া যায় না ! চায়না থেকে  আনাতে হবে !  


মণিকাঃ ডিসগাস্টিং ! এবার আমি কি করবো ?


ফটিকঃ চাপ নিচ্ছেন ক্যানো ? অন্য কারোর পুরোনো এক্স রে প্লেট দিয়ে দিন না !


ডাঃ হাজরা অতো বুজবেন নাকি ! !


মণিকাঃ   তা অবশ্য ঠিক !


ফটিকঃ আমি চললাম ! এসব ছুটকোছাটকা ম্যাটারে আমাকে ডিসটাব করবেন না  ম্যাডাম ! মন দিয়ে অরিজিত সিং শুনছিলাম ...


[ গজগজ করতে করতে ফটিক বেরিয়ে যায় ]


মণিকাঃ ( হেসে ) এক্স রে-র ব্যাপারটা আমি পরে ম্যানেজ করে দেবো । আর কি বাকি আছে বলুন !


ভদ্রলোকঃ এন্ডোস্কোপি !


মণিকাঃ বাঃ ! এন্ডোস্কোপি নিয়ে কোনও চিন্তা নেই ।


ভদ্রলোকঃ বলছেন ?


মণিকাঃ হ্যাঁ, অন্যান্য হসপিটালেতো একটা ক্যামেরা লাগানো সরু নল পেশেন্টের গলা দিয়ে ঢোকানো হয় ! কিন্তু পেশেন্টের কষ্টের কথা ভেবে , আমি একটা শর্টকাট আবিষ্কার করেছি !


ভদ্রলোকঃ   মানে !?


মণিকাঃ মানে , আপনি বড়ো  করে হাঁ করবেন , আমি মোবাইলে ছবি তুলে হাজরাকে হোয়াটস-আপ করে দেবো !!


ভদ্রলোকঃ ( অবাক ) তাতেই হয়ে যাবে ?


মণিকাঃ হয়ে বেশি ! হাঁ করুন ...


[ ভদ্রলোক কষ্টেশিষ্টে হাঁ করে... মণিকা ছবি তোলে ... ]


মণিকাঃ ব্যাস ! এন্ডোস্কোপি কমপ্লিট !


ভদ্রলোকঃ উফ ! এবার সিটি স্ক্যানটা হলে আমি বাঁচি ...


মণিকাঃ ( মুখ ব্যাজার করে ) সিটি স্ক্যান ??


ভদ্রলোকঃ ক্যানো ? আবার কি !


মণিকাঃ আসলে , নার্সিং ট্রেনিং- এর সময়, যে উইকে সিটি স্ক্যান শেখানো হয়েছিল, আমি হনুলুলু বেড়াতে গেছিলাম ! সিটি স্ক্যানে তো আমার পাশমার্ক-ই ওঠেনি !  


ভদ্রলোকঃ   সে কি !!


মণিকাঃ ( ন্যাকা ন্যাকা ভাবে ) ডাঃ সিংহ-কে কিছু বলবেন না প্লিজ ! উনি কিন্তু কিচ্ছু   জানেন না ।  


ভদ্রলোকঃ   ডাঃ সিংহ আবার কে ?


মণিকাঃ ডাঃ জয়পতাকা সিংহ ! সিনিয়ার ডাক্তার ! হাসপাতালের হেড !


ভদ্রলোকঃ ঘাবড়াবেন না ম্যাডাম ! আমি কিছু বলবো না। আপনি খালি আমার একটা উপকার করুন প্লিজ...


মণিকাঃ বলুন না ... হেসিটেট করছেন ক্যানো ?


ভদ্রলোকঃ বলছি, আমি তো আর বেশিক্ষণ বাঁচবো না ... ডাক্তার হাজরাকে একবার দেখার খুব ইচ্ছে... যদি একটু পাঠিয়ে দেন...


মণিকাঃ এক্ষুনি পাঠিয়ে দিচ্ছি ...


[ মণিকা  হেলে দুলে বেরিয়ে যায় ... ভদ্রলোক ওয়েট করতে থাকে ... ]


[ অপারেশান থিয়েটার। অপারেশন টেবিলে বসে হাজরা আর সিংহ লুডো খেলছে।


মণিকা ওদের অজান্তেই এসে দাঁড়ায় ]


হাজরাঃ এক – দুই – তিন – চার – পাঁচ !


    ( আনন্দে চেঁচিয়ে ) পাঁচে কাটা !!


সিংহঃ আরে ! চোট্টামি হচ্ছে ! এটাও তো তোমার ঘুঁটি !


হাজরাঃ উফ স্যার ! আপনাকে কতো বার বলবো ... অ্যান্টাসিডগুলো লাল ঘুঁটি, মানে আপনার ঘুঁটি ... আর পেনকিলারগুলো সবুজ ঘুঁটি, মানে আমার ঘুঁটি ...


সিংহঃ ধুর ! আমার সব গুলিয়ে যাচ্ছে ! এইসব ওষুধপত্র দিয়ে লুডো খ্যালা যায় নাকি?


হাজরাঃ কি করবো বলুন ! আপনিই তো ঘুঁটি গুলো ওষুধ ভেবে পেশেন্টদের খাইয়ে দিয়েছেন !


মনিকাঃ এক্সকিউস মি !


সিংহঃ কি ব্যাপার মনিকা , হঠাত হোয়াটস-আপ, টুইটার ছেড়ে অপারেশান


থিয়েটার !  


মনিকাঃ (হেসে) কি যে বলেন না স্যার ...  আসলে, বাইরে একজন ক্রিটিকাল পেশেন্ট ডাঃ হাজরার সঙ্গে দ্যাখা করতে চান ...


হাজরাঃ (ল্যাদ খেয়ে হাই তুলে) আমার সঙ্গে !!


সিংহঃ উরিব্বাস ! এই হাজরা ! ল্যাদ খেয়ো না, তাড়াতাড়ি যাও... আগে পেশেন্ট পরে লুডো ! বুইলে ?


হাজরাঃ বুঝলাম...


[ ব্যাজার মুখে বেরিয়ে যায় ডাঃ হাজরা ...]


সিংহঃ চলো মনিকা ! আমরা ততক্ষন একদান লুডোই খেলি...


মনিকাঃ আমি কিন্তু সাপলুডো...


সিংহঃ অ্যাস ইউ উইশ... ও , ভালো কথা ,  এই অ্যান্টাসিডগুলো হচ্ছে লাল ঘুঁটি, মানে আমার ঘুঁটি... আর ওই পেনকিলারগুলো হচ্ছে সবুজ ঘুঁটি, মানে তোমার ঘুঁটি...


[ মিউসিক শুরু হয়, আর মাইমে ডাঃ সিংহ মনিকাকে বোঝাতে থাকে...]


[ মণিকার টেবিলের পাশে ভদ্রলোক অপেক্ষা করছে কুঁজো হয়ে, আর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে...


ডাঃ হাজরা গট্মট করে সেখানে আসে... দূরে আমরা আবছা দেখতে পাই , মনিকা আর


ডাঃ সিংহ  লুডো খেলছে...]


[ হাজরা এসে হাসি হাসি মুখে চেয়ার টেনে বসে... পেশেন্টকে ভালো করে আপাদমস্তক


দ্যাখে...]


হাজরাঃ আপনিই পেশেন্ট ?


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ, ডাক্তারবাবু...


হাজরাঃ হুম... চেয়ারে বসুন...


ভদ্রলোকঃ বসতে পারবো না ডাক্তারবাবু ! দেখছেন না কিরকম বেঁকে গেছি !


হাজরাঃ হ্যাঁ, সেতো দেখতেই পাচ্ছি...


ভদ্রলোকঃ কোমরের যা অবস্থা ডাক্তারবাবু , আমার এখন চেয়ার নয় ... মরার খাট লাগবে মনে হচ্ছে !!


হাজরাঃ ঘাবড়াবেন না ! আমি তো আছি ... “ রুগি খেয়ে যায় মেডিসিন, আর মধু খেয়ে যায় ভ্রমর / যেভাবে ছুতোর খাটিয়া সারায়, সেভাবে সারাবো কোমর !!”


ভদ্রলোকঃ কি বলছেন ডাক্তারবাবু ! ঠিক বুঝতে পারছি না !


হাজরাঃ আধুনিক কবিতা মশাই ! সবার বোঝার জিনিস নয় !!


ভদ্রলোকঃ কবিতা !!


হাজরাঃ হ্যাঁ, ছোটব্যালায় ভেবেছিলাম বড়ো হয়ে কবি হবো !


ভদ্রলোকঃ তারপর ?


হাজরাঃ তারপর , হ্যান্ড রাইটিং অ্যাতো খারাপ ছিলো ... বাবা বল্লো – ডাক্তারি পড়, উন্নতি করবি... ব্যাস ! হয়ে গেলাম এম বি বি এস !


ভদ্রলোকঃ মা কালি ??


হাজরাঃ মাকালি । কিন্তু এভাবে কি ট্যালেন্ট দমিয়ে রাখা যায় ? এখনও লিখি ! রেগুলার লিখি ! দাঁড়ান একপিস শোনাই... “ দূর থেকে দেখে মনে হলো যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে ডাক্তার / কাছে গিয়ে দেখি ডাক্তার নয়, আসলে শোয়েব আখতার !!”


ভদ্রলোকঃ ডাক্তারবাবু, প্রমিস করছি যদি বেঁচে থাকি , আপানার সব কবিতা শুনবো ! এখন আমার কোমরের কি হবে বলুন ...?


হাজরাঃ হুম ! কি করে হলো বলুন তো এই  অবস্থা !?


ভদ্রলোকঃ আমাদের অফিসে কালচারাল ইভেন্ট ছিলো...


হাজরাঃ কালচারাল ইভেন্টে কোমর বেঁকে যায় বুঝি ?


ভদ্রলোকঃ আরে না না ! কালচারাল ইভেন্টে ‘গো অ্যাস ইউ লাইক’ ছিলো... আমি সেখানে গান্ডিব সেজেছিলাম !


হাজরাঃ (অবাক) গাণ্ডিব !!


ভদ্রলোকঃ হ্যাঁ, গান্ডিব ! অর্জুনের ধনুক ! ফার্স্ট প্রাইজও পেয়েছি ! কিন্তু কম্পিটিশন শেষ হওয়ার পর থেকে আর সোজা হতে পারছি না !


হাজরাঃ ইন্টারেস্টিং ...


ভদ্রলোকঃ দু দিন ধরে কলিগ , পাড়া পড়শি সবাই মিলে অনেক ট্রাই করেছে সোজা করার , পারে নি ! তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি ডাক্তারবাবু !


হাজরাঃ আপনার যা কন্ডিশন , অপারেশান ছাড়া গতি নেই ! টাকা-পয়শা সঙ্গে আছে তো ??


ভদ্রলোকঃ না ডাক্তারবাবু ! টাকা , ঘড়ি , আংটি , জামা সব দিয়ে দিয়েছি হাসপাতালে ! এখন আমি নিঃস্ব !


হাজরাঃ ওটা আপনার ভুল ধারনা ! একটু বাদেই ভেঙে যাবে !!


ভদ্রলোকঃ মানে ?


হাজরাঃ অতো মানে জেনে কি করবেন? আমার সঙ্গে চলুন...


ভদ্রলোকঃ কোথায় ??


হাজরাঃ অপারেশান থিয়েটার !!


[ অপারেশান থিয়েটার । অপারেশান টেবিলে মনিকা আর ডাঃ সিংহ বসে লুডো খেলছে...]


সিংহঃ এটা কি করছো মনিকা !?


মনিকাঃ ক্যানো স্যার ?


সিংহঃ শোনো, তুমি যদি মই পাও... একমাত্র তাহলেই তুমি ওপরে উঠতে পারবে !


মনিকাঃ (ন্যাকাবোকা ভাবে) ক্যানো, আমি যদি সাপের লেজ ধরে উঠে যাই !


সিংহঃ (গদগদ ভাবে) তা বল্লে কি করে হয় মনিকা !


[ হাজরা হাজির হয় ভদ্রলোককে সঙ্গে নিয়ে...]


হাজরাঃ স্যার , কাকে এনেছি দেখুন !


সিংহঃ উফ হাজরা ! কতোবার বলেছি , খ্যালার সময় বিরক্ত করবে না !


হাজরাঃ আপনিই তো বললেন , আগে পেশেন্ট পরে লুডো !


[ ডাঃ সিংহ কি বলবে বুঝতে না পেরে টেবিল থেকে নেমে ভদ্রলোককে ভালভাবে মাপে...]


সিংহঃ কি ব্যাপার হাজরা ! কন্ডিশন তো সিরিয়াস মনে হচ্ছে ! ঝট করে বলো কি অপারেশান করতে হবে , আমি ফট করে – করে দিচ্ছি !!


হাজরাঃ স্যার, ওনার কিডনির অপারেশান করতে হবে আরজেন্টলি !


ভদ্রলোকঃ (কাঁদো কাঁদো ভাবে) কিডনি নয় স্যার , কোমর ! কোমর !


হাজরাঃ আহ ! আপনি পাকামি মারছেন ক্যানো ? আমিতো বলছি, আগে কিডনি পরে কোমর !


সিংহঃ কি ব্যাপার হাজরা ?


হাজরাঃ   স্যার, ওনার টাকা পয়শা ঘড়ি আংটি সব শেষ ! এখন কিডনি ছাড়া ওনার কাছে পে করার কিছু নেই ! তাই বলছিলাম, আগে অপারেশান করে একটা কিডনি নিয়ে নেবো ! পেমেন্ট ক্লিয়ার ! তারপর ধীরে সুস্থে কোমরের ট্রিট্মেন্ট হবে !


ভদ্রলোকঃ ( ভয় পেয়ে) কিন্তু ডাক্তারবাবু ...


সিংহঃ কোনও কিন্তু নয় ! ডাক্তার আমি না আপনি ?


ভদ্রলোকঃ আপনি !


সিংহঃ তাহলে কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ুন বেডে !


[মনিকা তড়িঘড়ি লুডো সরিয়ে বেড ফাঁকা করে দ্যায়... ভদ্রলোক কোনোমতে বাঁকা


কোমর নিয়ে অপারেশান টেবিল/বেডে শুয়ে পড়ে...]


সিংহঃ হাজরা তুমি ওনার হাতদুটো চেপে ধরো , আর মনিকা পা দুটো ...


মনিকাঃ স্যার, অপারেশানের সময় আমায় থাকতে বলবেন না প্লিস ...


সিংহঃ ক্যানো মনিকা ?


মনিকাঃ রক্ত দেখলে আমার মাথাটা ক্যামন ঝিম ঝিম করে ...


হাজরাঃ ও সেন্সলেস হয়ে যায় ...


মনিকাঃ হ্যাঁ স্যার ...


সিংহঃ ঠিক আছে , তুমি তাহলে বাইরে গিয়ে ক্যান্ডিক্রাশ খ্যালো !


মনিকাঃ স্যার, যাওয়ার আগে এনার সঙ্গে একটা সেলফি তুলবো প্লিস ?


সিংহঃ   (অবাক) এনার সঙ্গে ?


মনিকাঃ হ্যাঁ স্যার , এরম অদ্ভুত পেশেন্টের সঙ্গে আমার একটাও সেলফি নেই ! আমি ক্যাপশন-ও ভেবে ফেলেছি – “ ফিলিং ন্যাকান্যাকা উইদ কোমর ব্যাকা “  তুলি??


সিংহঃ (অগত্যা টাইপ) তোলো !!


[ মনিকা ভদ্রলোকের সঙ্গে সেলফি তোলে , তারপর ন্যাকা ন্যাকা ভাবে


‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার’-বলে বেরিয়ে যায়...]


সিংহঃ হাজরা ...


হাজরাঃ বলুন স্যার ...


সিংহঃ বলছি মনিকা যখন চলেই গ্যালো, এক কাজ করো , তুমি ওনার হাত দুটো ধরো, আমি ওনার পা দুটো ধরি...


ভদ্রলোকঃ তাহলে অপারেশান-টা কে করবে স্যার ??


সিংহঃ ও তাই তো ! এটা ভালো বলেছেন ! হাজরা !


হাজরাঃ বলুন স্যার...


সিংহঃ বলছি, ধরাধরির দরকার নেই ! উনি যথেষ্ট স্বাবলম্বী ! ডিরেক্ট অপারেশান হবে ! কিন্তু আমি ভাবছি ...


[ সিংহ কিছুক্ষণ ভাবতে থাকে...]


ভদ্রলোকঃ (আকুতি) কি ভাবছেন স্যার ? তাড়াতাড়ি করুন ! আর পারছি না !


সিংহঃ ভাবছি, আপনার পেট-টা কাটবো কি দিয়ে ?


ভদ্রলোকঃ ক্যানো, আপনাদের হাসপাতালে ছুড়ি কাচি নেই ??


হাজরাঃ ছিলো ! চুরি হয়ে গ্যাছে !


ভদ্রলোকঃ হাসপাতালেও চুরি হয় ??


হাজরাঃ ওই মাঝখানে ট্রেন্ড হয়েছিল না ? পুলিশ তাড়া করলেই , চোরেরা হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়ে যাচ্ছিলো ! ওদেরই কেউ একজন ঝেঁপে দিয়েছে বোধয় !


ভদ্রলোকঃ তাহলে এখন কি হবে ??


সিংহঃ ডাক্তারটা কে  ? আমি না আপনি ?


ভদ্রলোকঃ আপনি !


সিংহঃ তাহলে আপনি চাপ নেবেন না ! আমার ওপর ছেড়ে দিন !


[ পকেট থেকে ফোন বের করে ডায়াল করে সিংহ ...]


সিংহঃ হ্যালো ফটিক !


ভি-ওঃ হ্যাঁ স্যার বলুন...


সিংহঃ হাসপাতালের ক্যান্টিনে বোঁটি আছে কি না জানিস ??


ভি-ওঃ হ্যাঁ স্যার , আঁশ বোঁটি !


সিংহঃ ঝট করে একটু দিয়ে যাবি বাবা । এমারজেন্সি আছে !


ভি-ওঃ আপনি দশ গুনুন , আমি পৌঁছে যাবো ...


সিংহঃ ওকে ওকে !


ভি-ওঃ একটু আস্তে গুনবেন স্যার !


[ফোন কেটে আবার পকেটে রাখে ডাঃ সিংহ...]


ভদ্রলোকঃ ডাক্তারবাবু , বলছিলাম , অপারেশানের আগে আমায় অজ্ঞান করবেন না ??


সিংহঃ ( স্মার্টলি ) আপনি যা বলবেন ...


ভদ্রলোকঃ না মানে, নিজেকে পেট কাটা অবস্থায় কখনও দেখিনি তো , তাই টেনশন হচ্ছে !


সিংহঃ ওকে, নো প্রবলেম ! আপনার কাছে আছে কি  ?


ভদ্রলোকঃ কি ?


সিংহঃ ক্লোরোফর্ম ! আসলে , আমাদেরটা-তো ছুরি কাঁচির সঙ্গেই ছুরি হয়ে গেছে !


হাজরাঃ আমি থাকতে ক্লোরোফর্মের চিন্তা করবেন না স্যার! অন্য ব্যাবস্থা আছে !


সিংহ/ভদ্রলোকঃ (একসঙ্গে) কি ব্যাবস্থা ???


হাজরাঃ একমিনিট !


[ হাজরা ডান পায়ের জুতো খোলে ... তারপর মোজাটা খুলে নাড়তে নাড়তে


ভদ্রলোকের নাকের সামনে ধরে ... ভদ্রলোক দুর্গন্ধে নাক সিটকে আস্তে আস্তে অজ্ঞান


হয়ে যায় ...]


সিংহঃ এক্সিলেন্ট !! মরে টরে যাবে না তো ??


হাজরাঃ ইম্পসিবেল ! জাস্ট অ্যানাস্থেসিয়া !! স্মেলিং থেরাপি ! তবে এর অ্যাকশন বেশিক্ষণ থাকবে না স্যার ! যতো জলদি সম্ভব অপারেশান সেরে ফেলুন...


[ ইতিমধ্যে ফটিক হাজির ]


ফটিকঃ স্যার বোঁটি ...


সিংহঃ বাঃ এসে গেছিস ...


[ ফটিকের হাত থেকে বঁটিটা নেয় সিংহ ...]


সিংহঃ থ্যাঙ্ক ইউ ফটিক !


ফটিকঃ ( গান গেয়ে ) ওয়েলকাম , ওয়েলকাম ...


চল্লাম স্যার ! লাগলে ডাকবেন ...


[ কেত মেরে ফটিক বেরিয়ে যায় ]


[ সিংহ অপারেশান টেবিলে উঠে বঁটি  উঁচিয়ে ধরে , পাশে একনিষ্ঠ হাজরা,


ভদ্রলোক অচেতন  ]   


সিংহঃ জয় বাবা বিধান চন্দ্র !


[ আচমকা ডাঃ সিংহ- র ফোন বেজে ওঠে ... পকেট থেকে ফোন বার করে সিংহ ]


সিংহঃ উফফ... এখন আবার কার ফোন !


হাজরাঃ কার স্যার ?


সিংহঃ টাইমিং দেখে বুঝছো না ! তোমার বৌদি !


(ফোনে) হ্যাঁ বলো / কি হয়েছে ?? / কি ?? টুব্লু ডটপেন খেয়ে ফেলেছে !!/ কি আবার করবে ! আপাতত পেন্সিল দিয়ে কাজ চালাও ...


[ ডাঃ সিংহ ফোন কাটে ]


সিংহঃ হাজরা, ফোনটা সাইলেন্ট করে তোমার কাছে রাখো তো !


[ হাজরা ফোনটা নিয়ে সাইলেন্ট করে পকেটে পোরে ... ডাঃ সিংহ বঁটি দিয়ে


আস্তে আস্তে ভদ্রলোকের পেট চেড়ে ... ডান হাত ঢুকিয়ে কিডনিটা বের করে আনে ...


হাজরা আর সিংহ দুজনেই আনন্দে চুপ , মুখে হাসি , চোখ গোল গোল , দুজনেই অবাক ... ]   


হাজরাঃ পুরো মাখন !


সিংহঃ তুমি শিওর তো এটাই কিডনি ?


হাজরাঃ দাঁড়ান স্যার , মিলিয়ে নিচ্ছি ...


[ হাজরা পেশেন্টের বালিশের নীচ থেকে টেনে হিঁচড়ে একটা বাচ্চাদের


জীবন বিজ্ঞান বই বার করে খোলে, তারপর মিলিয়ে দ্যাখে ]


হাজরাঃ ( আনন্দে ) হ্যাঁ স্যার এটাই !!


সিংহঃ হাজরা...


হাজরাঃ বলুন স্যার ...


সিংহঃ হবে নাকি এক রাউন্ড !


হাজরাঃ কি স্যার?


সিংহঃ ক্যাচ ক্যাচ !!


হাজরাঃ হয়ে যাক !!!


[ পেশেন্ট অজ্ঞান , পেট কাটা ... হাজরা আর সিংহ বেডের দুপাশে দুজন দাঁড়িয়ে


বাচ্চাদের মতো ক্যাচ ক্যাচ খ্যালা শুরু করে কিডনি দিয়েই ...]





173 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.