• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

ভারতের অন্যতম বিতর্কিত চিকিৎসা- জ্যান্ত মাছ গলা দিয়ে নামিয়ে হাঁপানি নিরাময়


বাথিনি মৃগশিরা নামে গৌড় পরিবারের ১৫০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই হাঁপানি রোগের চিকিৎসা। দক্ষিণী হায়দ্রবাদে এখনও চলছে এই ঔষধিকরণ। লাখ লাখ লোকের ভিড় হয় শুধু এই থেরাপি নিতে, বছরে শুধু একবারই বর্ষা আসার আগে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়।


    বর্তমানে ভারতের এটি একটি অন্যতম বিতর্কিত চিকিৎসা।এতে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি মাপের ছোট্ট একটা মৌরালা বা সার্ডিন জাতীয় মাছ ঔষধি গুণযুক্ত বিশেষ গাছগাছড়া দিয়ে বানানো হলদেটে রঙের পেস্ট বা লেই দিয়ে মুড়ে রোগীকে গিলিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়৷ মাছগুলি পিচ্ছিল হওয়ায় রোগীদের গিলতে খুব একটা অসুবিধে হয়না। যদিও গেলানোর কাজকর্মের জন্য ভলেন্টিয়ার্স থাকে।


পড়ুনঃ



কীভাবে এই থেরাপি কাজ করে? ঐ পরিবারের মতে, বিশেষ ভেষজ ওষুধ মাখানো ঐ জ্যান্ত মাছ গলা দিয়ে নামার সময় পাখনা এবং পুচ্ছ নাড়াতে থাকে, তাতে গলার ভেতরের জমা শ্লেষ পরিষ্কার হয়ে যায়৷ হাঁপানির উপশম হয়৷ ওষুধ প্রয়োগের তিন ঘন্টা আগে এবং তিন ঘন্টা পর পর্যন্ত পেট একেবারে খালি রাখতে হয়৷ জল পর্যন্ত খাওয়া চলবে না৷ তারপর ৪৫ দিন নির্দিষ্ট আহার গ্রহণ করতে হবে৷ ঐ পরিবারের সদস্য ছাড়া তার বাইরেকেও আজ পর্যন্ত জানতেই পারেনি সেই ভেষজ চিকিৎসার ফর্মুলা।





পরিবারের মতে, কোনো এক জনৈক সাধু পরিবারের বৃদ্ধ প্রপিতামহকে এর ফর্মুলা দিয়ে বলেছিলেন, অন্য কাউকে যেন তা জানানো না হয়, নয়ত ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট হবে। সেই ভেষজ ফর্মুলা গৌড় পরিবারের এক প্রজন্ম থেকে চলেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই মৎস থেরাপি দেয়া হয় বিনা পয়সায়৷ শুধু অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদ শহর ছাড়া অন্য কোথাও এই চিকিৎসা দেয়া বারণ৷ দেবার নির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হয় জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে৷ সেটা পড়ে বর্ষা আসার ঠিক আগে, জুন মাস নাগাদ৷ গৌড় পরিবারের দাবি, কোন হাঁপানি রোগী যদি মৎস থেরাপির নিয়মবিধি ঠিকমতো পালন করেন, তাহলে তাঁর হাঁপানি ১০০ শতাংশ নিরাময়ের গ্যারান্টি দেয়া হয়৷


  ভেষজ ওষুধের ফর্মুলা গোপন রাখার রহস্য নিয়ে কয়েকটি যুক্তিবাদী সংগঠন, বিজ্ঞানী এবং মেডিক্যাল কাউন্সিল আদালতে যায়, এবং অভিযোগ করেন ভেষজ ওষুধের নামে যা দেয়া হয়, তার মধ্যে থাকতে পারে স্টেরয়েড। কাজেই তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার৷ আদালতের নির্দেশে ভেষজ উপাদান পরীক্ষা করা হয় এবং তাতে ক্ষতিকারক কিছু পাওয়া যায়নি৷ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট রায় দেন, ঐ ভেষজে ক্ষতিকারক উপাদান যেমন পাওয়া যায়নি, তেমনি ঔষধিগুণও পাওয়া যায়নি৷ লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের বিশ্বাসবশত যখন এই চিকিৎসা নিচ্ছেন, তখন তাঁদের সেই বিশ্বাসে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না৷


পড়ুনঃ



Read more from this writer.