• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

ককটেল ফটোগ্রাফি- কেমিস্ট্রি থেকে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির যাত্রা



শঙ্কর ঘর ছেড়েছিল অ্যাডভেঞ্চারের লোভে, বিবেকানন্দ শিকাগো গেলেন হিন্দু ধর্ম ও ভারতীয় সংস্কৃতির জয়গান করতে—বাঙালী তথা ভারতীয়দের বিদেশযাত্রার জন্য একটা সুন্দর গোছানো নেসেসিটি আছে। মেধা থাকলে,পড়তে বিদেশ পাড়ি,স্ক্যাম থাকলে মুখ লোকাতে বিদেশ পাড়ি, অর্থ থাকলে হামিমুনে গ্রিস বা সুইজ্যারল্যাণ্ড। ব্যবসা করতেও কালাপানি পার হয়েছে বাঙালী। ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে মাল্য বাবুরাও বিদেশে গিয়েছেন। কখনও শুনেছেন বিয়ের ছবি তুলতে কেউ বিদেশ গেছে? বিয়ে করতে কোহলি বা নুসরত জাহানেরা ভীন দেশে যায় বটে।


ছবি ছবি তোলার জন্য অতক্ষনের বিমান যাত্রা করে ম্যাপেলের দেশে চলে আসাটা ঠিক ড্রামাটিক নয়। আসলে এক কথায় উপসংহার টানলে কারনটা যতটা কমেডি মার্কা,এলাবরেট করলে ততটাই রোমান্টিক। গপ্পের শুরুতে আছে একটা সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা একটা মফঃস্বলের ছেলে। ইনোসেন্ট মুখের মাঝখান দিয়ে সাংঘাতিক একটা স্যাটানিক হাসি ছিল তার। লেখাপড়ায় যতটাই স্কলার,ঠিক ততটাই ফ্যামব্লয়েন্ট কারেকটার। মেধার মাপকাঠিতে বন্ধুত্বের একটা বলয় তৈরি হয়। ক্ল্যাসিকাল সূত্র মতে সেই বলয়ের বাইরেই থাকার কথা আমার। তবে হোস্টেলে রুম শেয়ার করতে গিয়ে ওদের বাস্তুতন্ত্রে আমার মতন নিরেট টাইপ অর্গানিজমের ইমিগ্রেশন হয়। সৎ সঙ্গে স্বর্গবাসের সত্যযুগ অতিবাহিত হওয়ায় আমার জ্ঞান গম্যির বিশেষ বিকাশ হয়নি,ওদের সাথে থেকেও। যদিও খুব বেশিদিন একসাথে থাকায় সৌভাগ্য হয়নি।


পড়ুনঃ

অ্যালিসন হারগ্রিভস- উপেক্ষা আর হতাশার মলাটে ঢাকা এক পাহাড়ি রূপকথার নাম





যাই হোক,ছেলেটির গপ্পে ফেরত আসি। কেমিস্ট্রির সাথে আরএকটা বিষয়েও ব্যাটার বেশ দক্ষতা ছিল—সেটা টেবল টেনিস। টেকনিক্যালি আমার টেবিল টেনিসের দ্রোনাচার্য্য,ওই ছেলেটি। ফিজিকালি দূরত্ব বেড়ে গেলেও,গ্রাজুয়েশনের পর থেকে ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব বজায় ছিল। ও তওন আইআইটিতে আর এই কোলকাতার পাতি এক ম্যানেজমেন্ট কলেজে এমবিএ নিয়ে ঘষটাচ্ছি। সেই সময় জানতে পারলাম,রিসার্চের সুযোগ পেয়েছে কানাডায়। চলেও গেল। শুধু ও কেন,ও যে বলয়ের কথা বলেছিলাম,সেই বলয়ের অধিকাংশই নানা দেশের বিখ্যাত সব ইউনিভার্সিটিতে ছড়িয়ে গেল।

প্রথম দিকে কথাও হয়েছে কয়েকবার। পরে বিভিন্ন অফিসিয়াল প্রয়োজনে আইএসডি কল কল রিসিভ করতে হলেও,আমার জীবনের প্রথন আই এস ডি কলটা পেয়েছিলাম ওই ছেলেটির কাছ থেকে। শেষবার দেখা হয়েছিল ২০১২তে।


তখনই বেখাপ্পা গপ্পটা শুনলাম। ছেলেটিও উচ্ছন্নে গেল। রিসার্চের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বললাম, তবে করছিস কি?উত্তরে বলল—ছবি তুলছি। ভাবলাম বুঝি কানাডার পাহাড় বনে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি করছে। আসলে ওই মেধা বলয়ের সবাই ততদিনে বেশ সফল হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। কেউ রিসার্চ স্কলার। কেউ কোন উইনিভার্সিটির লেকচারার,কেউ নামি কোন এমএনসিতে চাকরি করছে। আর এ ছেলে কিনা ছবি তুলে বেড়াচ্ছে।

দেখতে বেশ ছিল,তাই লাভ লাইফ নিয়ে কিছু বলব না। তবে এখন স্টেবল রিলেশনসিপে আছে। শৌখিন ছেলে,স্পোর্টস কার ড্রাইভ করতে গিয়ে একবার একসিডেন্টও হয়। হাত ভেঙে শুয়ে থাকতে হয়েছিল অনেকদিন। সেটাই ওর কেমিস্ট্রি ছাড়ার অ্যালিবাই আবার অজুহাতও বটে।


পড়ুনঃ

কুয়াশায় ভেজা বন পথে, প্রেমিকা বলতে কেবল নির্জনতা | চুম্বন তো আগেই রাঙিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে


আদতেই যে বেয়াড়া তা বোঝাতে এতটাই যথেষ্ঠ ছিল। অন্যদের মতন নিজের সাবজেক্ট নিয়ে থাকলেও যে ও কেউকেটা হত,তাতে সন্দেহ নেই। তবুও অন্যপথে চলতেই সে বেশি সচ্ছন্দ্য। শুরু হল প্রফেশানাল ফটোগ্রাফি। অ্যামেচার থেকে প্রফেশানাল এই অভিযোজনে যে স্ট্রাগল ছিল তা সে প্রকাশ করতে চায় না। ককটেল ফটোগ্রাফির পেজে উঁকি দিলেই পাবেন তাই তোলা ছবি। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কেমিস্ট্রিটা এখন তার পুরো আয়ত্তে। বেটার হাফও রেস্তোরাঁ চালায়। পুরো মাত্রায় অন্ত্রাপেনরশিপের গপ্প। ছেলেটির নামটা বলতে চাই না। কেবল বলব একবার ককটেল ফটোগ্রাফির পেজটা ঢু মেরে আসুন।


“Cocktail photography began as a hobby; and it has grown into a full time passion. It started with a passion for making people feel beautiful through my lens.”

আর সেই সব সুন্দর হয়ে ওঠার গল্প পাবেন এখানে- https://www.cocktail-photography.com/blog/


পড়ুনঃ

এর আগেও বহুবার ভেঙেছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি


Read More from this writer