• Blogtog

ব্যোমকেশ ফেলুদার বহুআগেই লেখা হয়েছিল বাংলা গোয়েন্দাগল্প | বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দার সংখ্যাই ৯১




মানুষ স্বভাবতই সন্দেহপ্রবণ। কৌতূহলীও বলতে পারেন। সাহিত্যেও তাই তার প্রতিফলন হয়েছে। সেই বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেণ্ট থেকেই তাই চলছে পাজেলস বা হেঁয়ালির পিছু ধাওয়া করা। আরব্য রজনীর গল্পেও রহস্য আর তার সমাধানের উল্লেখ আছে।


গোয়েন্দা কাহিনীর সেই সবচেয়ে পুরনো গল্পটি,আরব্য রজনীর শেহেরজাদের বলা কাহিনীগুলোর একটি। গল্পে এক জেলে নদীতে একটি তালাবন্ধ ভারী সিন্দুক খুঁজে পায়। সে এটি বিক্রি করে দেয় খলিফা হারুনুর রশীদের কাছে। সিন্দুক ভেঙ্গে পাওয়া যায় টুকরো টুকরো করে কাটা এক তরুণীর মরদেহ। হারুন তার উজির জাফর ইবনে ইয়াহিয়াকে নির্দেশ দেন অপরাধের তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে খুনিকে খুঁজে বের করতে, নাহলে জাফরের শিরশ্ছেদ করা হবে।গল্পে জাফরকে আরো রহস্যের সমাধান করতে হয় যে, কে খুনের জন্যে দায়ী। ৩ দিনের মধ্যে জাফর ব্যর্থ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আবিষ্কার করে সে শেষ পর্যন্ত যুক্তিমূলকভাবে রহস্য সমাধান করে এবং তার প্রান বাঁচাতে সক্ষম হয়

তবে প্রকৃত পক্ষে রহস্য বা গোয়েন্দা গল্পের সূচনা এডগার অ্যালান পোর হাতে। গোয়েন্দা উপন্যাস The Murders in Rue Morgur এডগার অ্যালান পো লিখেছিলেন ১৮৪১ সালে । এটিই পৃথিবীর প্রথম আধুনিক গোয়েন্দা গল্প।তবে জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা শার্লক হোমসের স্রষ্টা আর্থার কোনান ডয়েল তার প্রথম গোয়েন্দা উপন্যাস A study in scarlet প্রকাশ করেন ১৮৮৮ সালে।


আর আমাদের বাঙলায় গোয়েন্দা-কাহিনীর অনুপ্রবেশ কিছুটা পরে। রবি ঠাকুরও নাকি ভক্ত ছিলেন বিদেশী রহস্য গল্পের। নিশীথে,ক্ষুধিত পাষাণ,মনিহারা বা কঙ্কালের মতন গল্পে রবীন্দ্রনাথের রহস্য প্রেমের স্বাদ পাওয়া যায়। বাঙলায় গোয়েন্দা চরিত্রের অভাব নেই,দুই বাঙলা মিলিয়ে দেখলে শতাধিক লেখকের এক বা একের বেশী গোয়েন্দা আছে। তবে সার্থক ভাবে লেখা বাঙলার গোয়েন্দা গল্প - “দারোগার দপ্তর” (১৮৯০)। ইংরেজ আমলের দুঁধে দারোগা প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন অপরাধ মূলক ঘটনা লিখেছেন দারোগার দপ্তরে। পাঁচকড়ি দে,শরৎ চন্দ্র সরকার,অম্বিকা চরণ গুপ্ত,ক্ষেত্রমোহন গুপ্ত এদের লেখাতেই শুরু হয়েছিল বাঙলা গোয়েন্দা গল্পের অভিযোজন । বনফুলও বাদ যাননি গোয়েন্দা গল্প লিখতে। তবে সেই সময়ের গোয়েন্দা-কাহিনী বলতে ছিল চুরি,ডাকাতি,পরকীয়া বা সম্পত্তির লড়াই। অপরাধের পদ্ধতি নৃশংস হলেও, তা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক সরল। অপরাধ প্রবনতার আধুধিনিকরণ ও তার প্রকাশ বাঙলা গোয়েন্দা গল্প বা উপন্যাসে এসেছে অনেক পরে,এবং তা এসেছে কম বেশী হলেও আগাথা ক্রিস্টি,আর্থার কোনান ডয়েলের মতন বিদেশী লেখকদের অনুপ্রেরণায়। শরদিন্দু,সত্যজিৎ, নীহার রঞ্জনের লেখাতেই হয়ত বাঙালী পাঠক তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিল,রহস্য গল্প পড়ে। গোয়েন্দা,অ্যাডভেঞ্চারার এই রকম বিখ্যাত চরিত্রগুলো এক নজরে দেখতে গেলেও,ফর্দটা বেশ লম্বাই হবে—

· জয়ন্ত - হেমেন্দ্রকুমার রায়

· ফেলুদা - সত্যজিৎ রায়

· কাকাবাবু -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

· ব্যোমকেশ বক্সী - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

· পরাশর বর্মা - প্রেমেন্দ্র মিত্র

· মিতিন মাসি - সুচিত্রা ভট্টাচার্য

· পাণ্ডব গোয়েন্দা - ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

· কর্নেল নীলাদ্রি সরকার - সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ

· অর্জুন - সমরেশ মজুমদার

· রেজা, সুজা - রকিব হাসান

· মিসির আলি - হুমায়ূন আহমেদ

· টুনটুনি ও ছোটাচ্চু - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

· ঋজুদা - বুদ্ধদেব গুহ

· মহিমচন্দ্র -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

· কুয়াশা - কাজী আনোয়ার হোসেন

· কিরীটী রায় - নীহাররঞ্জন গুপ্ত

· রবার্ট ব্লেক - দীনেন্দ্রকুমার রায়

· শার্লক হেবো - নারায়ণ সান্যাল

· গোয়েন্দা গর্জন - হিমানীশ গোস্বামী

· দেবেন্দ্রবিজয়-অরিন্দম - পাঁচকড়ি দে

· হুকাকাশি- মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য

· কল্কেকাশি - শিবরাম চক্রবর্তী

· দীপক চ্যাটার্জী- স্বপনকুমার

· গোয়েন্দা গার্গী - তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

· মেঘনাদ - স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়

· দীপক রায় - অজেয় রায়

· নিশীথ রায় - তুষারকান্তি চট্টোপাধ্যায়

· কিকিরা - বিমল কর

· ইন্দ্রনাথ রুদ্র - অদ্রীশ বর্ধন

· গুপি, পানু- ছোটমামা - লীলা মজুমদার

· ট্যাঁপা-মদনা - আশাপূর্ণা দেবী

· গোগোল- সমরেশ বসু

· দারোগা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়

· দময়ন্তী - মনোজ সেন

· শবর দাশগুপ্ত - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

· সদাশিব - সংকর্ষণ রায়

· শান্ত, মোটু, শেলী -অনিল ভৌমিক

· প্রলয় - দেবল দেববর্মা

· একেনবাবু - সুজন দাশগুপ্ত

· ভাদুড়ী মশাই - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

· বাসব - কৃষানু বন্দ্যোপাধ্যায়

· অনুকূল বর্মা - কামাক্ষী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

· কেদার ও বদ্রী - ঘনশ্যাম চৌধুরী

· নীল ব্যানার্জী / তাতন - গৌতম রায়

· রিমা খান ( নোংরা পরি ) - মলয় রায়চৌধুরী

· দীপকাকু, ঝিনুক - সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়

· কমল - ইকবাল আলমগীর কবীর

· টুকলু, জগুমামা - ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়

· মাসুদ রানা - কাজী আনোয়ার হোসেন

· জেফরি বেগ - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

(এই পঞ্চাশ জনই মাত্র নন, বাঙলায় নাকি গোয়েন্দার সংখ্যা ৯১)

এই এতো নামের মধ্যে ফেলুদা,ব্যোমকেশ,কাকাবাবু,কিকিরা,কিরীটি রায়,মিতিন মাসি,মিসির আলি, পান্ডব গোয়েন্দা বা কর্নেলের মতন গোয়েন্দা কেবল টিকটিকি নয়,প্রায় ডাইনোসর সদৃশ হয়ে বাঙলা সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। জনপ্রিয়তা,অপরাধ নির্নয়ের পদ্ধতি,মগজাস্ত্রের জোর,সত্যান্বেষণের ক্ষমতা,সাইকোলজির উপর অগাধ দক্ষতা,না পারাকে জয় করার ইচ্ছে,আগ্নেয় অস্ত্রের প্রয়োগ দক্ষতা সব মিলিয়ে এইসব গোয়েন্দা চরিত্রগুলি যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দেয়,সাহিত্যের পাতায়। বেকার্স লেনের মতন, ২১ নম্বর রজনী সেন রোডও তাই গন্তব্য হয়ে ওঠে।

প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ফ্রাঁসোয়া ইউজিন ভাদুর আদলে অপরাধ কাহিনী লিখছেন পুলিশী দৃষ্টিভঙ্গীতে।আর্থার কোনান ডয়েলের প্রভাব চোখে পড়ল পাঁচকড়ি দের দেবেন্দ্রবিজয় আর অরিন্দমের গল্পে। বাঙালী গোয়েন্দা, অথচ অপরাধ বিশ্লেষণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসারী- এমন গোয়েন্দা বাংলা সাহিত্য পেল হেমেন্দ্র কুমার রায়ের হাত ধরে -জয়ন্ত ও মানিকলাল। জনপ্রিয় হলেও হেমেন্দ্র কুমারের জয়ন্ত-মানিক সিরিজ মূলত কিশোরপাঠ্য ছিল।কিন্তু কলকাতার রাস্তা, গ্যাসের আলো, সুঠাম ফিল্মের হিরোর মতন বাঙালি গোয়েন্দা হিসাবে যিনি সাড়া ফেললেন তিনি ব্যোমকেশ বক্সী।১৯৩৪ সালে পথের কাঁটা নামে রহস্যকাহিনীতে নিপাট বাঙালী ব্যোমকেশ বক্সী এলেন আর পরের টা কেবল ভিনি-ভিডি-ভিসি।ব্যোমকেশ আর অজিতের যুগল বন্দী,সত্যবতীর প্রেম, সম্পর্কের টানা পোড়েনের মধ্যে থেকে উঠে আসা রহস্যের প্রহেলিকা ভেদ করে সত্যান্বেষী হয়ে উঠলেন বাংলার হোমস।


এই প্রায় একই সময়ে নীহাররঞ্জন গুপ্ত লিখেছেন কিরীটি রায়, যিনি বাংলার সবচেয়ে সফিস্টিকেট গোয়েন্দা । তাঁর মক্কেলদের অধিকাংশই ছিলেন উচ্চবিত্ত। অপরাধের ধরনও কিন্তু বেশ আলাদা তবুও কিরীটি রায় তেমন সেন্সেসন হয়ে উঠতে পারলেন না।প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছিলেন পরাশর বর্মার কাহিনী। যিনি গোয়েন্দা হলেও একজন কবি, অনেক টা এরকুল পোয়ারোর মতন, কিন্তু তেমন জমে নি। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কলমে উঠে এসেছে নীলাদ্রি সরকারের কাহিনী। কর্নেল অরনিথোলজিস্ট, ক্ষ্যাপাটে পাইপ ফুঁকে, ছড়া কাটেন আর হাসতে হাসতে রহস্যভেদ করেন। কিন্তু মনস্তত্ব অন্বেষণে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে গেলেন ব্যোমকেশের থেকে।


ব্যোমকেশ কে যোগ্য লড়াই দিলেন মানিক বাবু। প্রদোষ চন্দ্র মিত্র তাঁর মগজাস্ত্রের ধারে কাটলেন বেবাগ বাঙালির মন। ফেলুদা চরিত্র কিশোরদের জন্য লিখলেও ফেলুদার জনপ্রিয়তা ব্যপিত হয়েছে বয়সের গণ্ডী টপকে। ফেলুদার গল্পে কেবল গোয়েন্দা নিজে নন, ভিলেন চরিত্র  গুলো, যেমন মন্দার বোস বা মগনলাল সবাই বলেছে আমায় দেখ আমায় দেখ। শশী বাবুর সিং, আক্তারির গান, আফ্রিকার রাজা মিলে যে যে খটকা সত্যজিত তৈরি করেছেন তা অনবদ্য।  কেবল পারিবারিক অপরাধের মলাটে আটকে না থেকে, ফেলুদা বিচরন করেছেন ভ্যান্ডালিজম, সাহিত্যের চুরি, প্যারা সাইকলজির মতন নানান ক্ষেত্রে। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন লাল মোহন বাবু ওরফে জটায়ু আর তোপসে।

বাংলার গোয়েন্দাদের মধ্যে এমন আরও কিছু চরিত্র আছেন যেমন সুচিত্রা ভট্টাচার্যর মিতিন মাসি ওরফেপ্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জি বা শীর্ষেন্দুর শবর যে কিনা একজন পুলিস অফিসার বা  সমরেশ মজুমদারের অর্জুন।তেমন ই আলাদা করে বলতে হয় কাকা বাবুর কথা। সুনীল গাঙ্গুলির কাকা বাবু বা বুদ্ধদেব গুহর ঋজু দা কেওই সেই অরথে গোয়েন্দা নন। তবে তাঁরাও রহস্যের পিছু নেন। আর যেমন পাণ্ডব গোয়েন্দা, ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের এই পাঁচ কিশোর কিশোরীর গোয়েন্দা গল্প আসলে অভিযানের গল্প, ভয় না পাওয়ার গল্প।সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যাযের লেখায় উঠে এসেছে দীপু কাকু আর ঝিনুকের গোয়েন্দাগিরি, টা অনেকটাই সমসাময়িক। তেমনি ভরপুর প্যারা সাইকোলজি আর মনের প্রহেলিকায় ভরে থাকে মিশির আলির গল্প।


বাঙলার এইসব বর্ণময় গোয়েন্দা চরিত্রগুলির প্রত্যেকেরই সিগনেচার স্টাইল আছে। সময়ের প্রেক্ষিতও আলাদা হওয়ায় গোয়েন্দাগিরির ধরনও আলাদা। যেমন ফেলুদা। মগজাস্ত্রে বিশ্বাসী ,নিজের কোল্ট রিভলবারের ঠাই ঠাই ঠাই ঠাইয়ের থেকে ফেলুদার বেস্ট ফিট মডেল হল চারমিনারের ধোঁয়া আর অনায়াসে হেঁয়ালির জট ছাড়িয়ে ফেলা। অনেক বিষয়ে আগ্রহ আর পড়াশুনা ফেলুদার প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর হিসাবে পসারের অন্যতম কারন। সেদিকে দেখলে শরদিন্দু ব্যোমকেশকে গড়েছেন যুক্তি নির্ভর মানুষ হিসাবে। প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকলেও সারকামস্টেনশিয়াল এভিডেন্স ঘেটে টপাটপ রহস্যভেদ করতেই সাবলীন সত্যান্বেষী। কাকাবাবু কখনই গোয়েন্দা নন। রহস্য খুঁজে বেড়ান। নিজের মনের জোরে সারা বিশ্বের নানা রহস্যের সমাধানে অ্যাডভেঞ্চার করে বেড়ান। ইনফ্লুয়েন্সিয়াল মানুষ,ভীষন অনেস্ট,তাই বিপদে জড়িয়ে পড়েন। ঋজুদাও অনেকটা কাকাবাবুর মতন। তবে অন্তরালে   থেকে মিশন অ্যাকমপ্লিসড করতেই বেশী ভালোবাসেন। শবর যেহেতু পুলিশের গোয়েন্দা,তাই তার মেথডোলজি একটু হটকে। ক্লু পেলে কিভাবে মনস্তত্ত্বিক চাপ প্রয়োগে অপরাধীকে ভেঙে ফেলা যায় তা তিনি দারুন বোঝেন। পান্ডব গোয়েন্দা কৈশোরের দামালপনার গল্প। ঝুঁকি নিয়ে দল বেঁধে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর গল্প এই পান্ডব গোয়েন্দা। নন কনভিনসিং,হটকারি হলেও জনপ্রিয়। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে মিতিন মাসি বেশ স্মার্ট। দারুন অবসার্ভেশন ক্ষমতা। প্রফেশানাল,প্রমান জোগার করতে নিজেই ছুটে বেড়ান। দিব্যি বাইক চড়া সাংবাদিক দীপুকাকুও এক্কেবারে জেন ওয়াই বাঙালী গোয়েন্দা। কেউ কবি,কেউ গিটকিরি বাজ,কেউ প্ল্যানচেট করেন কেউ আবার প্রেমিক,কেউ আবার রান্না করতে ভালোবাসেন। এমন বিভিন্নতাই বাঙলা গোয়েন্দা-কাহিনীর সম্পদ।


আদতে বাঙালি এই গোয়েন্দা গল্প উপন্যাস গুলি সে সময়ের সমাজ মনস্তত্বের প্রতিফলন মাত্র। তাই দীর্ঘ দেড়শ বছর ধরে অপরাধ রহস্য আর তার উদ্ঘাটন বাংলা সাহিত্যের একটি বহমান নদীর মতন। আনন্দ বাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল“বেশির ভাগ গোয়েন্দাকে শেষ পর্যন্ত শিশুতোষ হতে হয়, শিশুপাঠ্য কাহিনিতেই মুখ ঢেকে থাকতে হয়?ফেলুদা প্রাপ্তবয়স্করাও উপভোগ করেন বটে, কিন্তু সে আসলে বড়বেলায় লুকিয়ে থাকা ছোটবেলাটাকেই তোল্লাই দেওয়া। আর, ব্যোমকেশকে যতই প্রাপ্তবয়স্কের গোয়েন্দা বলার চেষ্টা হোক, দু’একটি ব্যতিক্রম বাদে মূলত তা নিতান্ত নিরামিষ, সর্বজনপাঠ্য।” তবুও মলাটের ভেতর সাদায় কালোয় হোক কিম্বা চলচিত্রের পর্দায়, রহস্য বা গোয়েন্দা গল্পের একটা সার্বজনীন আবেদন রয়েই গেছে। তাই সেই হাউন্ড অফ দ্য বাস্কারভিলস অবলম্বনে তৈরি ছবি জিঘাংসা বা হাল আমলের শবরের সিরিজ গুলো বক্স অফিসে বেশ লাভ জনকই হয়েছে। ফেলুদা নিয়ে মাতামাতিটা বাঙালির একটু বেশি, তাঁর কারন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। বড় পর্দা, টেলি সিরিজ থেকে হাল আমলের ওয়েব সিরিজ সবেতেই ফেলু মিত্তির আছেন। আর ব্যোমকেশ তো সেই চিড়িয়াখানা থেকে রয়ে গেছেন বাঙালির রুপালি পর্দার গোয়েন্দা হয়ে। এমন গোয়েন্দা গল্পের সম্ভার বাঙলা ভাষার আরও এক গর্বের পাতা হয়ে থেকে যাবে বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে।


তথ্য সুত্রঃ

১। সাহিত্য-সন্দর্শন", শ্রীশচন্দ্র দাশ

২। বাউন্ডুলের রোজ নামচা

৩। আনন্দ বাজার পত্রিকা, ১৫ মার্চ , ২০১৪

৪। উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ

৫। ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি-সুকুমার সেন

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.