• Blogtog

শাহরুখের গালের টোল থেকে নায়িকার ওষ্ঠাধরের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধিঃ সৌন্দর্য্য ও কৃত্রিমতা



প্রথিতযশা এক নায়িকা তাঁর ওষ্ঠাধরের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি করতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। চারিদিকে হুলুস্থুল পড়ে গেছে। হাঁসের মত লাগছে নাকি তাঁকে। শুধু কী ওষ্ঠাধর! একজন তো দিব্যি ছিলেন নাক নিয়ে। তাঁর নাকি মুমতাজসদৃশ বড়ির মত একখানি নাক চাই। তা সেটিতেই বা দোষ কি! তিনি একা নেই, রয়েছেন আরও অনেকে। এনারা কারা, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল বিষয়টি হল এই যে নাক, ঠোঁট, ভ্রুপল্লব মায় গায়ের রঙ অবধি পছন্দসই বানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে সেটি। বিধাতার প্রসাদে যা কিছু প্রাপ্তি হয়েছে সেসব ছাপিয়ে সৌন্দর্যতৃষা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।


এবার আমরা জানি সৌন্দর্য্য বিষয়টি আপেক্ষিক। তা কতখানি মানসিক, কতখানি শারীরিক সেই নিয়ে চায়ের আড্ডায় তুফান ওঠে। আমরা সেসব গূঢ় তত্ত্বকথায় যাব না। এই যে আজ শারিরীক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে নামী অনামী সকলে উঠেপড়ে লেগেছে, এটি বস্তুত আজ হঠাৎ বিশ্বায়নের ফল নয়।


পড়ুনঃ



১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দের একটি চিকিৎসক ও সমালোচক নামের একটি পত্রিকা বলছে ‘হে খর্ব্বনাসিক স্ত্রী-পুরুষ! ...আপনাদের সৌন্দর্য্য অটুট রাখিবার জন্য সুদূর আমেরিকা দেশে কৃত্রিম নাসিকার সৃষ্টি হইয়াছে’।



ঠোঁট, নাক মুখ এমনকি চোখেও চলছে অস্ত্রপ্রচার

উনিশ শতকের আমেরিকাতেই নয়, কৃত্রিম সৌন্দর্য্যে নাকটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার রেওয়াজ প্রাচীন মিশরে শুরু হয়েছিল। ভারতে এই ব্যাপারে ভূমিকা নিয়েছিলেন চিকিৎসক সুশ্রুত। শুধু নাক নয়। স্বয়ং বাদশা শাহরুখের গালের টোলে একসময় মজেছে আপামর ভারতবাসী। সেই টোল কৃত্রিম উপায়ে নিয়ে আসার কথা ভেবেছে কি কেউ! ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাষ্ঠের কাঠি ....একটি আবরণ দ্বারা স্ক্রু-এর মাধ্যমে...রাত্রে শয়ন করিবার সময় পরিধান করিতে হয়। ...কাঠিগুলি গণ্ডদেশে আঘাত না করিয়া কিয়দংশ মাংস চাপিয়া ধরে মাত্র’। কয়েক রাত্রি এমন কষ্ট করলেই পাওয়া যাবে গালের টোল। চীনের মেয়েদের পায়ের আকৃতি ছোট রাখার পদ্ধতি কিংবা মায়ানমারের উপজাতি গোষ্ঠীর লম্বা গলার জন্য বিশেষ গয়না পরা, অর্থাৎ কষ্ট করলেই কেষ্ট থুড়ি সৌন্দর্য্য মিলবে।


পড়ুনঃ



এমনকি বডি শেমিং নিয়ে একবিংশ শতক প্রতিবাদের ঝড় তোলে। অঙ্গসৌষ্ঠব সুললিত করে ‘কবিকল্পিত অপ্সরা সৌন্দর্য্য’ কীভাবে হার মেনে যাবে সেই ব্যবস্থাও আজকের নয়। অর্থাৎ সৌন্দর্য্যের জন্য বিড়ম্বনা সহ্য করতে আজ অবধি নারীরা পিছপা হয়নি। সুন্দর সুন্দর করে আজও একইরকম পাগল সকলে, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে। আজও ‘অনন্ত সৌন্দর্য্যপানে নরচিত্ত ধায়/ সদাই সৌন্দর্য্যতৃষা পোড়ায় হৃদয়’। সুন্দরের জয়গান তাই চলছে, চলবে।


পড়ুনঃ




তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, চিকিৎসক ও সমালোচক’১৩০৩ বঙ্গাব্দ।

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.