• Blogtog

'শিল্প বনাম রাজনীতি' নাকি 'শিল্প এবং রাজনীতি'!



ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য।

শিল্পের সাথে রাজনীতির সম্পর্কটা বেশ গাঢ়। শিল্প রাজনীতি অনুসারি নাকি রাজনীতি শিল্প অনুযায়ী চলবে তা নিয়ে প্রফেসি করতে যাওয়া বোকামো। সমান্তরাল দুটো লোকাসেও দুটিকে বসিয়ে দেওয়াটা বোকামো। রাজনীতির ছোঁয়াছ এড়িয়ে শিল্প হয় না,আসলে অরাজনৈতিক শব্দটাই ভীষণ মেকি। কোন জটিল সমাজতত্ত্বের মেকানিজমেই অরাজনৈতিক নীতি ব্যাখ্যা করা সহজ নয়,তাই শিল্পও কখনোই রাজনীতি থেকে দূরত্ব রেখে চলতে পারে না। শিল্পের প্রবনতা কোন না কোন মতাদর্শ কে সমর্থন করতে বাধ্য তাই ক্ষমতাসিনের পক্ষে অথবা বিপক্ষে দাঁড়াতেই হয়েছে শিল্পকে,স্রষ্টাকেও।


ইতিহাস ধরে যদি পিছু হাঁটতে হয় দেখা যাবে ঐতিহাসিক সব শিল্প নিদর্শন কোন না কোন রাজ পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত। সাহিত্যের ভান্ডারেও তাই কত না জানি প্রশস্তি আছে। রাজার মত করে রাজার কথা প্রকাশের মাধ্যম ছিল শিল্প- সাহিত্য। সে ধারা আবহমান। হীরক রাজার ইচ্ছেতেই তো অতিকায় মূর্তি নির্মান হয়। প্রচলিত প্রথানুগত্যের বাইরে যে সৃষ্টি তা সমালোচিত আর রাজ রোষে বিদ্ধ। গ্যালিওলিও থেকে রিভেরা, সবাই একই পংক্তিতে।





রেঁনেসা মানেই তো শিল্পের বিপ্লব আর সেই রেনেঁসাও পরোক্ষ ভাবে এক রাজনৈতিক পালাবদলের ফল। তবে সময় যত এগিয়েছে শিল্প আর রাজনীতির একটা বিরোধ স্পষ্ট হয়েছে। রুশ বিপ্লব বা ভারতের স্বাধীনতার কথা না হয় বাদই দিলাম ,প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে শিল্প একটা বিরাট মাধ্যম হয়ে উঠেছে যেকোনো রাজনৈতিক সমস্যায়।


চ্যাপলিন কেমন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সমূলে বিদ্রুপ ছড়ালেন তার দ্য গ্রেট ডিক্টেটর মুভিতে। আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি নিষিদ্ধ হল। তসলিমার লেখা নিয়েও তো রাজনীতি কম হয়নি। দেশ ভাগ — চূড়ান্ত রাজনৈতিক এক ক্ষত আর সেই ক্ষতের যন্ত্রণাই জন্ম দিয়েছে কত বিখ্যাত সব ছবি,গান আর সিনেমা।


ইংরেজ আমলে নিষিদ্ধ হল পথের দাবী,কারনটা নেহাতই রাজনৈতিক। সারা বিশ্বে ব্যঙ্গচিত্র আর কার্টুন সবসময় তুলে ধরেছে যত রাজনৈতিক কিস্যা। কেউ রাজার দলে কেউ বা ভালোর দলে। ভালো রাজা হলে তার মত করেই শিল্পের সৃষ্টি হচ্ছে।





শিল্প সমাজের দিনযাপনের থেকেই জন্ম নেয় আর রোজকার জীবন আমাদের,রাজনীতির বাঁধনে বাঁধা। কিকরে আলাদা হবে শিল্প আর রাজনীতি। রাজনীতির রঙে রাঙিয়ে নেওয়া কবিতা সিনেমা যেমন শিল্প তেমন ভাবেই রাজনীতির নোংরা দিক গুলো তুলে ধরা পেন্টিং বা গান সেও তো শিল্প,এবং তার বিরুদ্ধ রাজনৈতিক দৃষ্টিটাই ভীষন মাত্রায় রাজনৈতিক।


পৃষ্টপোষকতার প্রশ্নেও শিল্প রাজনীতির উপর নির্ভরশীল । তাই শিল্পের প্রশমন বা শিল্পের প্রসারণ নির্ভর করে রাজনীতির উপর। এই রাজনীতিই শিল্পের মেরুকরণ ঘটায়। শিল্পীর মত প্রকাশের সেন্সর বোর্ড কিন্তু রাজনীতি।


মূলত এই বিরোধ নিয়েই আরও কঠিন সত্যি তুলে আনছে খোয়াবনামা থিয়েটার গ্রুপ।





চোখ রাখুন খোয়াবনামা থিয়েটার গ্রুপের ফেসবুক পেজ - Khwaabnama Theatre Group

এবং ব্লগটগ এর পেজ- ব্লগটগ

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.