• Blogtog

অনুঘটক - শুভাঞ্জন বসু


এক

… অথচ সেভিংস করা ভীষণ দরকার ছিল আমার। দরকার ছিল একটা বাড়ি বা নিদেন পক্ষে ফ্ল্যাট। ভেতরে আসার একটা দরজা আর বাইরে যাওয়ার দুটো অন্তত জানলা। অন্তত নিজের মতন নিজের কিছু ছাদ। যাতে লড়াই করার সময় মাথা ঢাকার খোলসটুকু পাই। আমি তো আমার রূপ কোনোদিনই পাইনি। আয়নার জায়গায় রেখেছি বিরাট আলমারি। তার মধ্যে ঢুকিয়ে রেখেছি রংবেরঙের কিছু শার্ট। মাঝে মধ্যে ওদের ভেতর ঢুকে যেন লুকিয়ে পড়তে পারি। সেগুলোও গেল ফুরিয়ে আর দেখে ফেললো সবাই। এত বিশ্রী লাগছে নিজেকে যে তাগিদটুকু পাচ্ছিনা চুল আঁচড়ে নেওয়ার। সেই এখনো মাইনে পেলেই শোধ করি আর মাসের শেষে ধার। নতুন কিচ্ছু সেভিংসই হলো না আমার।


দুই

বৃষ্টি আসলো হঠাৎ। মেঘে মেঘে ঢেকে গেল সব।যেখানে অটো দাঁড়ানোর কথা নয় সেখানেও দাঁড়িয়ে গেল ওরা, খুজরো নিয়ে আর কোনো ঝগড়া হলো না আজ।যেখানে নোংরা ফেলতো তিনতলা থেকে সেখানেই দেখলাম জমে গেছে জল আর তিনটে বাচ্চা ঝাপাচ্ছে‘ছপাৎ ছপাৎ’ করে।ভদ্রলোক বাড়ি ফিরতে পারেনি বলে এখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে মহিলা। আজ সিরিয়ালগুলো একা একাই দেখছে টিভি।মদের দোকানে ভীষণ লাইন। টিপ টিপ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সবাই ডেকে নিল বন্ধুদের। আজ ওরা গিটার নিয়ে হাসবে সারারাত।বৃষ্টি আসলো হঠাৎ। আর সবকিছু কেমন পাল্টে গেল- খানিকক্ষনের জন্যে।


এক এবং দুই

এখন কলকাতায় উঠোন নেই, শুধু আছে অনেকগুলো ছাদ। আমরা খুব একটা উঠিনা ওপরে। শুধু মাঝেমাঝে ঝুলিয়ে দিয়ে আসি আমাদের। সে আমার হয়ে চাঁদ দেখে, মেঘে মেঘে প্রেম দেখে, দূরে কোথাও শব্দ দেখে আর দেখে পাশের বাড়ির শাড়ি। এখন কলকাতায় আমি নেই, শুধু আছে অনেকগুলো সবাই। আমরা শুধু জানি বৃষ্টি হলে তুলে নিতে হয় জামা। অফিসের বাসে চেপে তক্ষনি পৌঁছে যেতে হয় ছাদে। তারপর দৌড় দৌড় আর দৌড়। যত জলদি গুটিয়ে নেওয়া যায় নিজেকে।

সেদিন বৃষ্টি হলো খুব। আমি হঠাৎ বুঝতে পেলাম পাল্টায়নি কিছুই। যেমন ভাবে মেলেছিলাম, ঠিক তেমনি আছে সব। ভেজা, সুখী, দুরন্ত এক মানুষ। আমার বড় ভালো লাগলো আমায়। জড়িয়ে ধরে নাচিয়ে নিলাম খুব।


যদিও সেভিংস করা দরকার ছিল ভীষণ তবুও বৃষ্টি কেমন পাল্টে দিল আমায়- খানিকক্ষনের জন্যে…

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.