• Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

Get Blogtog updates on the go

We dont Spam or play with your data

©2019 by Blogtog.

  • Blogtog

অ্যালিসন হারগ্রিভস- উপেক্ষা আর হতাশার মলাটে ঢাকা এক পাহাড়ি রূপকথার নাম


অ্যালিসন হারগ্রিভস


যুতসই বাঙলায় গিরিসূতা হবে হয়ত,যেমন ছিলেন উমা। হিড়িম্বাও মহাভারতের হাইল্যান্ড ল্যাস,কিন্তু কেমন উপেক্ষিতা। তেমনই উপেক্ষা আর হতাশার মলাটে ঢাকা এক রূপকথার নাম অ্যালিসন হারগ্রিভস। 


ব্রিটিশ, কিন্তু নিছক গৃহবধু সব দুর্নাম,পিছুটান নস্যাৎ করে কেবলমাত্র পাহাড়কে ভালোবেসে যেভাবে সমাজের ভার্টিকাল লিমিট অতিক্রম করেছিল তা অসম্ভব রোমান্টিক। ম্যালোরি,শিপটন, হারমান বুল, বিল টিলম্যানের মতন দুঃসাহসীদের ভীড়ে অ্যালিসন প্রায় ভুলে যাওয়া একটা নাম। সামান্যর অসামান্য হয়ে উঠার গল্পও কেমন বিস্মৃতির অতলে ঠাঁই পায়,তার উদাহরণ অ্যালিসন। আন্দ্রে জর্জ নামের একজন সুইস পর্বতারোহী বলেছিলেন হাই অলটিটিউট ক্লাইম্ব মানেই মেঘ-ঝড়-বরফ সাথে পেশীর জোর আর আমিত্ব অর্থাৎ ইগো। এই ইগো যেমন যুগিয়েছে সাহস তেমন কেড়েছে প্রান। অ্যালিসন জীবন যেন পুরটাই ইগো তাড়িত।

১৯৯২ এর ঘটনা,অ্যালিসন তখন শখের পর্বতারোহী । কাংটেগা শিখরে উঠে তাক লাগিয়ে দিলেন সব্বাইকে। প্রফেসানাল যারা তারা নাক কুঁচকে ছিল,বোধহয় হিংসায়। ওই বছরই অ্যালিসন ম্যাটারহর্ণের হর্ণ লি গিরিশিরায় আবহাত্তয়ার বিরুপতা উপেক্ষা করে,একদল অভিযাত্রীর প্রান বাঁচালেন তার পুরষ্কার পেলেন ফ্রস্ট বাইট। তখনও সবাই উদাসিন। প্রচারলোভী স্বামী চাইচেন অর্থ আর দেউলিয়া হয়ে যাওয়া সংসারটাকে টানতে মরিয়া অ্যালিসন স্বপ্ন দেখতে শুরু করল,উপরে আরো উপরে ওঠার।১৯৯৩এ, সামাজিক অসহযোগিতাকে পাত্তা না দিয়ে অ্যালিসন একা পরপর ছটা অ্যালপাইন শৃঙ্গের নর্থফেস ধরে উপরে উঠলো। তবুও ব্রিটিশ পর্বতারোহী সমাজ পারল না তাকে প্রাণ খোলা বাহবা দিতে।


অ্যালিসন হারগ্রিভস | Image Source: The Mirror

তাতে কি। মেয়ের স্পর্ধা চমকে দিল। ১৯৯৫ এর মে মাসে অক্সিজেন ছাড়াই একা অ্যালিসন পা রাখল এভারেষ্টের চূড়ায়। সাফল্য তার একার। এই জয়ের ব্যথা,আনন্দ সব তার নিজের। কিন্তু ট্রাজেডি অ্যালিসনকে পিছু ছাড়েনি। মেয়ের এত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঈশ্বরও বোধহয় মানতে প্রস্তুত ছিলেন না। কারাকোরামে যেদিন তার নিরুত্তাপ মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল,সেদিনও সমবেদনা নয় মিলেছিল হটকারি,দায়িত্ববোধহীনের তকমা। আনটার্কটিকায় স্কটের মৃত্যু যে জাতির গৌরবের প্রতীক তারাই সমলোচনায় বিদ্ধ করল অ্যালিসনের মৃতদেহ। তিনি হতে পারতেন নারীদের কাছে আইডল অথচ তার সমালোচকদের অধিকাংশই ছিলেন মহিলা। নাইজেলা লসন, দ্য টাইমসে লিখলেন অ্যালিসন নাকি পাগল,নির্দয় ছিলেন তাই ওমন একটা হটকারি অভিযানে সামিল হয়েছিলেন।

কেন এই চ্যালেঞ্জ,কেন বেপরোয়াপনা কেউ জানতে চায়নি।

তবু আজও যখন একের পর এক মেয়ে এভারেষ্টে পা রাখে,অ্যালিসন তার আবমান রোমান্টিকতার ডানা মেলে থাকে তাদের উপর। কোন প্রাগৈতিহাসিক টেরাডাকটিলের মতন অদম্য সাহসের ফেরিওয়ালা হয়ে অ্যালিসন দাঁড়িয়ে আছে বেলা-অবেলা-কালবেলার মাঝে আর যেন বিদ্রুপ করছে যাবতীয় উপেক্ষা আর উদাসিনতা।