• Blogtog

২৩ বছর জেল কাটিয়ে নির্দোষ প্রমাণ হল কাশ্মীরি। কান্নায় ভেঙে পরলেন মা'র কবরে। দেখুন ভিডিও


শুভাঞ্জন বসু

২৩ বছর পর হঠাৎ নিজের জায়গায় ফিরে এলে কেমন লাগতে পারে?

সবাই অজানা- অচেনা। নতুন নতুন মুখ। সেই চেনা মুখগুলো হয় পাল্টে গেছে বা মারা গেছে।


হ্যাঁ, অনেকটা সেই রকমই অবস্থা কাশ্মীরের আলী মহম্মদ ভাট এর। পেশায় ছিলেন কাশ্মীরি শালওয়ালা। মূলত নেপালে ছিল তার ব্যবসা। কিন্তু ১৯৯৬ সালের রাতটা ছিল ভয়ঙ্কর।


বাড়িতে সেদিন তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। হঠাৎ উর্দিধারী কিছু পুলিশ এসে তুলে নিয়ে যায় তাকে। ২২ সে মে, ১৯৯৬ এ রাজস্থানের সামলেতি গ্রামে বোম্ব ব্লাস্টের ঘটনায়।

তিনি যে নির্দোষ তা প্রমাণ করতেই কেটে গেছে ২৩ বছর।


ব্লাসটিংএর ঘটনায় নাম উঠে আসে জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফন্টের। যার সাথে আরো পাঁচ জনের সাথে জড়িয়ে যায় আলী মোহাম্মদ ভাট এর নামও।





২৪ বছর বয়সী ভাট এখন ৪৭ এ। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা ছুটে যান মা বাবার কবরে। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখান। সেই ভিডিও দেখে কেঁপে উঠছে সারা ভারতবর্ষ।


জেলে বসে শেষ বাড়ির খবর তিনি পেয়েছিলেন ২০০০ সালে। মায়ের মৃত্যুর। তারপর চলেছিল শুধু অপেক্ষা। বাড়ি ফিরেও কিছুদিন চিনতে পারেননি অনেককেই। সব নতুন নতুন মুখ। দীর্ঘ তেইশ বছরের অভ্যাসের জন্যে খাটেও শুতে পারছেন না। শক্ত মেঝে ছাড়া ঘুম আসছে না আর। মাঝেমাঝেই কেঁপে উঠছেন পুরোনো কথা ভেবে।





আল জাজিরার একটি ইন্টারভিউতে তিনি জানান-

"Earlier, when I would hear of Muslims being arrested in terrorism cases, I would believe they might have done it, until I was arrested. I now understand what is done in such cases,".


নির্দোষীদের সাজপ্রাপ্তির ঘটনা ভারতবর্ষে প্রথম নয়। সেদিক দিয়ে ২৩টা মূল্যবান বছর ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতাও হয়তো রাষ্ট্রের নেই।

আমরা শুধু অপেক্ষা করতে পারি সুসময়ের। যেখানে দাঁড়িয়ে কোনো নির্দোষ কোনো ব্যক্তিকে আলী মোহাম্মদ ভাট এর মতন বলতে হবে না-

"I don't know how to face my home. I don't know where to find my parents who died with an incomplete dream of seeing me free."




  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.