• Blogtog

৬৫% মেয়েরা তাদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই body shaming এর শিকার হয়


শুধু মেয়েরাই নয়।৬৮% ছেলেরাও ঠিক একই ভাবে সমাজের চোখে এভাবেই অনবরত Body Shaming এর শিকার।

“সুন্দর” কি?

এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি কি বলবেন?

কোনো ফুল? কোনো প্রিয় খাবার? কোনো পছন্দের জায়গা? কিংবা কোনো মনোরম দৃশ্য?


আর “সুন্দর মানুষ” বলতে সবার প্রথমে কি মনে আসে?


যে দেখতে মোটা নয় কিন্তু খুব রোগাও নয়, খুব লম্বা নয় আবার খুব বেঁটে নয়, কালো তো একেবারেই নয় আবার খুব ফ্যাটফ্যাটে ফর্সাও নয় এই রকম বিভিন্ন বাহ্যিক গঠন সুলভ মানুষ।তাই তো!


তাইই কি?


এইভাবে ভাবতে গিয়েই আমরা প্রত্যেকবার ভুল করি। আসলে এই বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের কোনো সংজ্ঞা হয়না। বরং ৭০% মানুষের মধ্যে এই ধারনাই নেই, যাদের কালো-মোটা-বেঁটে-লম্বা-রোগা ইত্যাদি সম্বোধনে আমরা অস্বস্তি বোধ করিয়ে থাকি তা আদতে Body Shaming.


একজন মানুষের বয়স-উচ্চতা -ওজন ইত্যাদি নানা বিষয়কে ভিত্তি করে তার সমস্ত কিছু না জেনে না বুঝে তার শারীরিক গঠন জনিত কোনোরকমের মন্তব্য অথবা বিদ্রুপ করা একপ্রকারের অপরাধ।


পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ একে অপরের থেকে ভিন্ন। প্রত্যেকের Body type, Metabolism rate, Mentel states, Food habits, Genetic traits, Life style ইত্যাদি সমস্তই আলাদা এই কারণে প্রত্যেকে বাহ্যিক গঠনেও একে অপরের থেকে ভিন্ন।


পড়ুনঃ ৩৭৭ ধারার আইনজীবীরা প্রকাশ্যে আনলেন নিজেদের সমকামিতার সম্পর্ক


তাই কোনো প্রকারের মাপকাঠি তৈরির আগে বুঝতে শেখার প্রয়োজন রয়েছে বৈকি।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ বুঝতেই পারেনা যে কেবল

“বাব্বা! কি মোটা রে!” না বললেও “ইস, তোকে তো চিনতেই পারিনি!এতো বদলে গিয়েছিস!” বলেও আঘাত দেওয়া যায়। কিংবা “এতো রোগা কেন তুই?বাড়িতে খেতে দেয় না? ” সমান ভাবে বডি শেমিং এর অন্তর্গত।


আবার এদিকে গ্রাম বা মফস্বলের মেয়েটিকে যেমন বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে আসার অজুহাতে গায়ের রঙ আরেকটু উজ্জ্বল করতে ঘরোয়া টোটকার শরনাপন্ন হতে হয় সবার বিদ্রুপে, তার পাশাপাশি বড়ো ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট অফিসে চাকরি করা মেয়েটিও আড়ালে কলিগদের খোরাক হওয়া থেকে রেহাই পেতে ফেয়ারনেস ক্রিম কেনে।


যার থাইরয়েডের জন্য দিন দিন ওজন বেড়েই চলেছে, তার Medical history না জেনে কেবল মোটা হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়ে ফুটবল নিয়ে ছোটাছুটি করার উপায় বাতলে দেওয়ার লোকের অভাব নেই।


এসব কিছুই নতুন নয়। বরং খুঁজলে এরম লাখ লাখ উদাহরণ আমার আপনার প্রত্যেকের ঘরে ঘরে।


একটি সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে যে,৬৫% মেয়েরা তাদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই শারীরিক গঠনমূলক বিভিন্ন মন্তব্যের শিকার হয়ে থাকে এবং যৌবনকাল পর্যন্ত মাপকাঠির বিচারে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৯৪% অবধি। শুধু মেয়েরাই নয়।৬৮% ছেলেরাও ঠিক একই ভাবে সমাজের চোখে এভাবেই অনবরত Body Shaming এর শিকার।


আসলে, আমরা ভাবতে ভুলে যাই যে, আলোর যেমন গুরুত্ব আছে তার সমান প্রয়োজন আছে অন্ধকারের, ঠিক যেভাবে কালো মানুষ আছে বলেই ফর্সা মানুষের গুরুত্ব রয়েছে। আর সবথেকে খাঁটি কথা হলো, বাহ্যিক গঠন দিয়ে নয়, মন সুন্দর হলে মানুষ আপনিই সুন্দর হয়ে ওঠে।


তাই এই সহজ, সরল, স্বাভাবিক বিষয় গুলোকে না বুঝে কোনো কিছু যাচাই না করে বিপরীতের মানুষটির প্রতি কোনো বিদ্রুপ সুলভ মন্তব্য করার আগে আরো দুবার ভাবতে শেখা উচিত। যে যেমন তাকে তেমন ভাবেই স্বীকার করা উচিত।প্রত্যেককে যোগ্য সম্মান দিতে শিখতে হবে। বোকা হয়ে না থেকে এবার বরং একটু ভাবতে শিখতে হবে।


পড়ুনঃ দ্যুতি চাঁদ: সব বাধা পেরিয়ে নিজের সমপ্রেমের কথা ঘোষণা করেছেন উচ্চস্বরে


Read more from this writer

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.