• Blogtog

আবর্জনাহীন,সবাই শিক্ষিত অথবা দরজাহীন নিরাপদ ঘর- এমনি অদ্ভুত পাঁচটি ভারতীয় গ্রাম


অদ্ভুত পাঁচটি ভারতীয় গ্রাম

ভারতবর্ষ হয়তো অনেকটাই জীবনমানের দিক থেকে পিছিয়ে আছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার মান ও বিশেষ নজরে পরার মতন না, কিংবা যদি স্যানিটেসন এর কথাও বলা যায় সেটাও বেশ অপ্রতুল। এহেন দেশে এমন কিছু গ্রাম রয়েছে যা সত্যই অকল্পনীয় ও অনন্য। আসুন দেখে নেওয়া যাক কি কি এমন গ্রাম রয়েছে, যা দেখে সত্যি অবাক হতে হয়।



মাওলিনং :


মাওলিনং

এশিয়ার সব থেকে পরিছন্ন গ্রাম এই মাওলিনং, অবস্থিত মেঘালয়ের মেঘের রাজ্যের ভিতরে। শিলং শহর থেকে জীপে চড়ে নব্বই মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তবেই দেখা মেলে মাওলিনং- এর। মোটে ছয়শো মানুষের বাস এখানে, সবাই খাসি উপজাতির। পূর্ব খাসি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই গ্রামটা উপরে ওঠার জন্যে সিঁড়ি কাটা আছে, পাশেই আছে বাশের রেলিং। ক্লান্ত হয়ে গেলে সেখানে বসে জিরিয়ে নেয়া যাবে। কিছুক্ষণ পরপরই মিলবে চায়ের দোকান, তেষ্টা পেলে পাহাড়ী ঠাণ্ডায় গরম চায়ে দেয়া যাবে চুমুক। তবে ধূমপান নিষিদ্ধ এখানে, নিষিদ্ধ যেকোন ধরণের ময়লা আবর্জনা ফেলাও। ময়লা রাখার জন্যে একটু পরপরই পথের ধারে ঝুড়ি রাখা আছে, সেই নির্দিষ্ট ঝুড়িগুলোতে ফেলতে হবে আবর্জনা। ইদানিং পর্যটন ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেখানে, দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকেরা ভীড় জমাচ্ছেন পাহাড় আর মেঘের সেই মিলন দেখার জন্যে। আর এখানে আসা পর্যটকদের একটা বড় অংশেরই ভ্রমণ তালিকায় থাকে ‘মাওলিনং’ এর নামটা। বাংলাদেশের সিলেট সীমান্ত থেকে মাত্র পঁচিশ কিলোমিটার দূরে শিলং জেলায় অবস্থিত এই গ্রামটিকে ২০০৩ সাল থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে!


পড়ুনঃ পৃথিবীর প্রাচীন শহর, শ্যাম্পুর প্রথম ব্যাবহার, প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় - ভারতের ১১টি অজানা তথ্য




চাপ্পার:


চাপ্পার

যে দেশে কন্যাভ্রূণ কে পৃথিবীর আলো দেখার আগে হত্যা করে দেওয়া হয়, সেই দেশেরই হরিয়ানার ছাপ্পর/ চাপ্পার গ্রামে মেয়ে জন্মালে পরিবারের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধরা হয়। মিষ্টি বিতরণ করা হয় বাড়ি বাড়ি। এখানকার কোনও মহিলাই একহাত ঘোমটা টানেন না, বোরখারও চল নেই। গ্রামের মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ নেই বললেই চলে। একটু ভেবে দেখলে এইসব কারণেই বোধহয় দেশের সেরা মহিলা অ্যাথলিটদের বাড়ি হয় হরিয়ানায়। ইস…যদি সব গ্রামই এমন ভাবত!



কোকরেবুলারঃ


কোকরেবুলার

ভারতের অন্যান্য জায়গায় পাখিদের ফসলের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়। কিন্তু কনার্টকের এ গ্রামটির মানুষ পাখিকে প্রকৃতির অন্যতম বড় হাতিয়ার মনে করে দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের সাথে সখ্য বজায় রেখে চলছে। এ গ্রামের মানুষদের পাখিরা এতই বন্ধুভাবাপন্ন মনে করে যে, মানুষজনের উপস্থিতি তারা খুব একটা আমলে নেয় না। গ্রামবাসীও পাখিদেরকে তাদের পরিবারের সদস্যই মনে করে।এখানে বিপন্ন প্রজাতির বহু পাখি দেখা যায়। আহত পাখিদের সুস্থ করার ব্যবস্থাও আছে কোকরেবেলুড় গ্রামে। নিয়ম করে কড়া পাহারায় থাকেন গ্রামবাসীরা যাতে পর্যটকেরা এসে পাখি মারতে না পারেন। এরকম পাখিপ্রেমী গ্রাম এই দেশে সচরাচর চোখে পরে না।



পাতানিক্কর গ্রামঃ


পাতানিক্কর

অশিক্ষার হার যে দেশে সবচেয়ে বেশী সেখানকারই কেরালার পাতানিক্কড় গ্রামে শিক্ষিতের হার একশো শতাংশ। হ্যাঁ। গ্রামের লোকসংখ্যা ১৭, ৫৬৩। সবাই শিক্ষিত। আরও আশ্চর্যের, এই গ্রামে শহুরে মানের কোনও বিদ্যালয় নেই। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি স্কুল খোলা হয়েছে। শুধু শিক্ষিত থাকার মানসিকতাতেই শিক্ষিত হয়েছেন এখানকার বাচ্চা-বুড়ো! এরকম মানসিকতাকে কুর্নিশ জানাই।।



শানি শিংনাপুরে:


শানি শিংনাপুরে

এই গ্রামের কোনও বাড়িতেই কোন দরজা নেই,মহারাষ্ট্রের শানি শিংনাপুর ভারতের সবচেয়ে নিরাপদ গ্রাম। এতই নিরাপদ যে, এ গ্রামের অধিকাংশ বাসাবাড়িতেই কোন দরজা নেই। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও গ্রামটিকে নিয়ে বিভিন্ন মজাদার গল্প ছাপা হয়েছে। অন্য এক দিক দিয়েও এ গ্রামটি রেকর্ড করেছে। ভারতের (মনে হয় বিশ্বেরও) একমাত্র দরজাহীন ব্যাংকের শাখা (উইসিও) এই গ্রামেই।


পড়ুনঃ নাঙ্গা পর্বত: বহু বছর ধরে এই পর্বত ছিল অভিযাত্রী দের কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মতন



এরকম পাঁচটি কিছু অনন্য গ্রামের খবর আমরা উদ্ধার করেছি, দেশের সার্বিক বিকাশ উন্নয়নএর কথা ভেবে যদি সমস্ত গ্রামেই এরকম চিন্তাধারার চেতনা হয় তাহলে আমাদের জীবনযাপনের মাত্রায় অনেক বদল ঘটবে যা বিশ্বদরবারে নজির হয়ে থাকবে.

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.