• Blogtog

জন্মদিনে কিশোর কুমারের ১০টি অজানা গল্প


নম্রতা সেন।

আজ ৪ অগাস্ট, আজকের দিনেই জন্ম হয় সেই বিশেষ মানুষটির যিনি একধারে যেরকম মহান গায়ক, অন্য দিকে অভিনেতা, একজন কৌতুক রসের ভাণ্ডার এবং সঙ্গীত পরিচালক। তাঁর গান আজও এই রিমেকের দুনিয়ায় সমান ভাবে তুমুল জনপ্রিয়। কথা বলছি আমাদের ভীষণ প্রিয় আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায় এর অর্থাৎ কিশোর কুমার। আজ তাঁকে স্মরণ করে কয়েকটা ছোট ছোট ঘটনা পাঠকদের জন্য রাখব যেগুলো একদা কিশোরে কুমারের মুখেই প্রচলিত ছিল।




  • বাবা কুঞ্জলালা গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন উকিল এবং সঙ্গীতের সঙ্গে তাঁর কোনওভাবেই কোনও যোগাযোগ ছিল না। মাসিক উপার্জন ছিল তিরিশটা টাকা।

  • মামা ধনঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র মানুষ যিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিশোর কুমার একবার বলেছিলেন গায়ক হতে গেলে যে প্রথাগত সঙ্গীতের তালিম থাকা উচিত সেটা তাঁর ছিল না, বরং তখনকার দিনের প্রখ্যাত গায়িকা সরস্বতী দেবীর থেকে সঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন দাদামনি অর্থাৎ অশোক কুমার।

  • ভীষণ ভাবে কে এল সাইগালের ভক্ত ছিলেন তিনি, এবং তাঁকেই সত্যিকারের গুরু বলে মনে করতেন।

  • পরসান ছবিতে বিদ্যাপতির চরিত্রটা তাঁর মামার আদলে তৈরি করা। লম্বা চুল, চোখে কাজল এবং সর্বক্ষণ পান চিবিয়ে যাওয়া সমস্তটাই তাঁর মামাকে দেখে তৈরি করেছিলেন।

  • পারিবারিক দিক দিয়ে পরবর্তী জীবনে লীনা চন্দ্রভড়করকে বিয়ে করে খুব সুখী হয়েছিলেন, তবে ওই বয়েসে আবার পিতৃত্বের স্বাদ পাবেন সেটা কখনোই ভাবতে পারেননি, পরে সুমিত, অমিত এবং লীনাকে নিয়ে চার জনের একটা সুখী পরিবার হয়ে উঠেছিল।



  • কিশোর কুমারকে লতা মঙ্গেশকার কিশোর দা বলে ডাকতেন কারণ কিশোর কুমার তাঁর থেকে বয়েসে বড়ো, কিশোর কুমার তখন মজা করে বলেছিলেন, উনি লতা মঙ্গেশকারের থেকে বড়ো তাও এক মাস চব্বিশ দিনের।

  • লন্ডনের একটি শো'তে লতা এবং কিশোর কুমারের যৌথ অনুষ্ঠান ছিল, সেখানকার প্রবক্তারা দুটি গান গাওয়ার তাঁদের অনুরোধ জানান, এক "আংরেজি মে কেহেতি হে কি i love you” এবং আর একটি "পাগ ঘুঙরু বাঁধ মিরা” কিন্তু এই দুটি গান করতেই লতা মঙ্গেশকার না করে দেন, কারণ প্রথম গান টি তে "ইডিয়ট” শব্দটি ব্যাবহার হয়েছে এবং দ্বিতীয় গানটিতে মীরাবয়াই কে তাছিল্ল্য করা হয়েছে। এর পরিবর্তে উনি ভজন গাইতে চেয়েছিলেন, যদিও সেই মুহূর্তে কিশোর কুমারের মনে সেরকম কোনও ভজন ছিলনা তবে সেদিন এস ডি বর্মণের "হরি নাম কা প্যালা” গানটি গেয়ে আপামর দর্শকের মন জিতে নিয়েছিলেন।



  • একবার ১৯৫৫ তে ফিল্মফেয়ার কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমার বলেছিলেন , অশোক কুমার তাঁকে এবং অনুপ কুমারকে ছবিতে অভিনয় করার জন্য নিরুৎসাহ করতেন, বলতেন "তোমরা একজোড়া গাধা"।

  • যখন দাদামনি বম্বে টকিসের পছন্দের নায়ক, তখন কিশোর কুমার নিতান্তই কলেজের ছাত্র।

  • “Chaim Topol” এর অন্ধ ভক্ত ছিলেন কিশোর কুমার। এবং সেই কিংবদন্তি শিল্পীর সাথে তাঁর একবার দেখা হওয়ারও সুযোগ হয়েছিল। তাঁর শো দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল কিশোর কুমারের এবং ব্যাক স্টেজে তাঁদের মধ্যে কথোপকথন ও হয়। Tapol তাঁকে তাঁর লেখা আত্মজীবনী উপহার স্বরূপ দেন, এবং কিশোর কুমার আর কিছু গানের রেকর্ডস তাঁকে উপহার স্বরূপ দেন।



কিশোর কুমারকে নিয়ে লিখতে বসলে তাঁর গল্পের ভাণ্ডার কখনোই শেষ হবে না। তাই আজ তাঁর দশ খানা অজানা ট্রিভিয়া আপনাদের জন্য রাখলাম আর বাকি গুলো আপনাদের জন্য তোলা রইল। আজ আমাদের মধ্যে থাকলে নব্বই এ পরতেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁকে তাঁর জন্মদিনের অশেষ শ্রদ্ধা এবং প্রণাম। জনমে জনমে এই শিল্পীকে যেন আমরা ফিরে ফিরে পাই।


পড়ুনঃ


  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.