• Blogtog

মনখারাপের সকাল






চান্দ্রেয়ী বসু


আজ সকালে অনেকদিন বাদে ব্রেকফাস্টে ডিমের পোচ পেলাম। মনটা বেশ খুশিই হয়েছিলো। কিন্তু খেতে গিয়েই একটা কথা হঠাৎ মাথায় এলো। আর ভাবনাটা আসার পরই গা টা কেমন শিউরে উঠলো।

পোচ থেকে যথারীতি শান্তিনিকেতন এর কথাই আমার মনে পড়ে। ওখানে গিয়েই এই প্রতি সকালে পোচ খাওয়াটা একটা অতিঅবশ্যক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এবার সকালের খাওয়া মানেই মনে পড়লো "ইপিলের" আর "কাকার দোকানের" কথা আর ঠিক তখনই ভেবে উঠলাম, এই যে এত্তদিন ইউনিভার্সিটি বন্ধ, কোনো লোকজনই তেমন নেই ওই পুরো এলাকায় তাহলে এদের রোজের সংসার চলছে কি করে?! গোটা বিশ্বভারতী এখন বাড়ির চার দেওয়ালের ভেতর বন্দি , এদের রুজি রোজগার আদৌ কি কিছু হচ্ছে?! সেখান থেকেই খেয়াল এলো হোস্টেলের সামনে গাছের তলায় বসা সাইকেল ঠিক করা কাকুর কথা কিংবা কলেজের বাস স্ট্যান্ডের সামনেই ঠেলা গাড়ি করে আনা আখের রসের কাকুর কথা। এরা কি খাচ্ছে, কি করে চলছে এদের ঘর। এরা তো সবাই দিন আনি - দিন খাই শ্রেণীর লোক। আচ্ছা কি করছে এখন ফার্স্ট গেটের ফুচকাকাকু বা মোমোর দোকানের দাদা। ঝাঁপ বন্ধ আজ প্রায় এক মাসের ওপর। টোটো কাকুদেরও তো হাত খালি তারমানে এখন, বাইরে লোকই বা কোথায় এখন। এরম আরও হাজারো মানুষ, দোকান - পাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গোটা শান্তিনিকেতনে যা নির্ভর করে থাকে শুধু মাত্র ওখানকার ছাত্র ছাত্রী এবং ইউনিভার্সিটির লোকেদের ওপর। একটা বড়ো জিনিসের নিচে যে আরো কতগুলো ছোটো ঘর বাসা বাঁধে তা হয়তো সবাই জানেনা কিন্তু একটা ছোট্ট ধাক্কা ওই বড়ো জিনিসটা কে যতটা না নষ্ট করে তার থেকে কয়েকগুন বেশি তছনছ করে দেয় এই ছোটো - ছোটো বাড়ি ঘরগুলোকে । ওদের ঘর সত্যিই ভেঙে যায় আর কেউ কিচ্ছুটি বুঝতে পারেনা, চেষ্টাও করেনা।

মনটা খারাপ হয়ে গেলো। জানি আমি কিছুই করতে পারবোনা আর সেটা নিজেকে আরও অপারক মনে করাতে লাগলো। এদের কথা কি তাহলে কখনোই কেউ ভাববেনা?!


এসব ভাবতে ভাবতেই মায়ের ধাক্কা, "কিরে এতক্ষন লাগে নাকি খেতে"?। তাকিয়ে দেখি পোচ প্রায় ঠাণ্ডা। খেয়ে নিলাম চুপচাপ। হাতমুখ ধুতে ধুতে মনে মনে বললাম, এই অসুখ যত্ত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ হোক। মুক্তি চাই সবার। বাঁচার আরও একটা সুযোগ চাই আমাদের।


মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ তো সবেতেই থাকে, তবে মনোজ দা বা কাকার হাতের পোচটা কিন্তু সত্যিই খুউব মিস্ করছি। ফিরে যেতে চাই। আমি আমার রোজকার দোকানে, রোজকার জীবনে ফিরে যেতে চাই। যত্ত তাড়াতাড়ি সম্ভব।।



26 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.