• Blogtog

বিশ্ব ক্রিকেটের মজাদার ঘটনাবলী

সৌম্যদীপ মৈত্র

ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। কদিন আগেই শুরু হয়েছে বিশ্বক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অর্থাৎ পঞ্চাশ ওভারের(ওডিআই) বারোতম বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে ক্রিকেটের ধাত্রীভূমি ইংল্যান্ডের মাটিতেই। বিশ্বকাপ মানেই প্রতিটি দলের মর্যাদার লড়াই এবং মরণপণ যুদ্ধ। সেই রণক্ষেত্রের মাটিতে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে চায়না কোনো প্রতিপক্ষই।অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেই ঘটে যায় বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটারদের কিছু ইগোর ঘটনা থেকে কিছু মজার ব্যাপারস্যাপারও।আসুন দেখে নিই সেরকম কিছু উল্লেখযোগ্য কিছু ক্রিকেটীয় ঘটনা। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের আসর বসেছিলো ভারতীয় উপমহাদেশে।গ্রূপস্টেজের বাধা পার করে নকআউট কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ ভারত এবং পাকিস্তান।রাজনৈতিক উত্তাপের সাথে ক্রিকেটীয় উত্তাপ মিশে ফুটতে থাকে ব্যাঙ্গালোরের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম।দিনরাতের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভারত করে ২৮৭ রান।জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার আমির সোহেল এবং সঈদ আনোয়ার শুরু করেন ব্যাটিং তান্ডব।পাক ওপেনারদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রিকোয়ার্ড রানরেট হু হু করে নামতে থাকে।চিন্তার ভাঁজ ফুটে ওঠে ভারতীয় অধিনায়ক আজহারউদ্দিনের চোখ মুখে।আনোয়ার আউট হয়ে যাওয়ার পরে আরো সাহসী হয়ে ওঠেন পাক ওপেনার আমির সোহেল।কারণ তিনি জানতেন ইনজামাম মিয়াঁদাদ ইজাজ আহমেদ সেলিম মালিক সমৃদ্ধ পাক ব্যাটিং লাইন আপ যথেষ্ট লম্বা এবং শক্তিশালী।দ্রুত দলীয় একশো রানের গন্ডী পার হওয়ার পর আবার বল করতে আসেন ভারতীয় মিডিয়াম পেসার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ।ওভারের চতুর্থ বলে মিডঅফের ওপর দিয়ে সপাটে মারা আমির সোহেলের শট বিদ্যুৎগতিতে আছড়ে পরে বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডে।উদ্ধত আমির ব্যাট তুলে প্রসাদকে ইঙ্গিতে হয়তো বললেন "যাও বলটা কুড়িয়ে নিয়ে এসো,পরের বলটা আবার বাউন্ডারি মেরে ওখানেই পাঠাবো"।জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ গ্যালারি আমিরের এই অশোভনীয় আচরণে তেতে গেলো।সবথেকে বেশি আহত হলেন বোধহয় স্বয়ং ভেঙ্কটেশ প্রসাদ।কিছু না বলে নীরবে ফিরে গেলেন বোলিং লাইন আপে।শুরু করলেন পাঁচ নম্বর ডেলিভারির দৌড়।দুরুদুরু বুকে অপেক্ষমান জনতা দেখলো প্রসাদের অফকাটারে উড়ে চলে গেছে আমির সোহেলের স্ট্যাম্প।উত্তেজিত প্রসাদ মর্যাদার যুদ্ধে নিলেন বদলা,বিস্ময়াবিষ্ট আমিরকে পাল্টা ইঙ্গিত করে প্যাভিলিয়নের পথটা দেখিয়ে দিলেন।এই ডেলিভারির পরই ম্যাচে ফিরলো ভারত।চিরশত্রু পাকিস্তানকে ৩৯ রানে হারিয়ে ভারত উঠে গেলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ১৯৯৯ সালে পরের বিশ্বকাপের আসর বসলো এবারের মতোই সেই ইংল্যান্ডেই।গ্রূপস্টেজে ইংল্যান্ডের মাটিতে ধাক্কা খেতে খেতে কোনোরকমে টিকে থাকলো ভারত।সুপারসিক্সের লড়াইতে উঠতে গেলে জিততেই হবে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ।জয়সূর্য মুরলিধরন চামিন্দা ভাস সমৃদ্ধ সেই শ্রীলঙ্কা যারা গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলো প্রতি ম্যাচে প্রথম পনেরো ওভারে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করে।সেই শ্রীলঙ্কা যাদের কাছে ইডেনের সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনালে পর্যুদস্ত হয়ে শেষ হয়ে যায় কোটিকোটি ভারতবাসীর দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন।বৃষ্টিভেজা টনটনের পিচে প্রথমে ব্যাট করতে নামলো ভারত।শুরুতেই চামিন্দা ভাসের বলে আউট সদগোপান রমেশ।ইংল্যান্ডের মাটিতে তার নিজের ঐতিহ্য বজায় রেখে বল মোটামুটি দুই দিকেই মুভ করছে।রাহুল দ্রাবিড়কে সঙ্গী নিয়ে তিনি শুরু করলেন লঙ্কা প্রহার।মৃদু ভাবে রাহুল অনুরোধ করেছিলেন একটু দেখে খেলতে।কিন্তু কে শোনে কার কথা!! আজকে যে তিনি অপ্রতিরোধ্য। তিনি অর্থাৎ বাঙালির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সৌরভ গাঙ্গুলি। কাউকে রেয়াত করলেন না।বাঙালির ব্যাটিং তান্ডবে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো শ্রীলঙ্কার যাবতীয় বোলিং অ্যাটাক।চামিন্দা ভাসের মতো পেসারকে স্টেপ আউট করে লং অনের ওপর দিয়ে অবিশ্বাস্য ছয়,বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার মুথাইয়া মুরলিধরনের অবস্থা আরও শোচনীয়।তাকে স্টেপ আউট করে মিড অনের ওপর দিয়ে মারা মহারাজের মহারাজকীয় ছক্কা স্টেডিয়ামের বাইরে রাস্তায় গিয়ে পড়লো।ইংল্যান্ডের মাঠে আবির্ভাবের সেই ১৯৯৬ সালের লর্ডস টেন্টব্রিজের পর মাঠে বসা দর্শকদের পাশাপাশি গোটা ক্রিকেটবিশ্ব আবার চাক্ষুস করলো মহারাজের ব্যাটিং মাধুর্য।সেই ম্যাচে ১৭টা বাউন্ডারি আর ৭টা বিশাল ওভার বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো অপার্থিব ১৮৩ রানের ইনিংস আজো বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো ভারতীয়র করা সর্বোচ্চ স্কোর।সঙ্গী দ্রাবিড়কে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটের পার্টনারশিপে করেছিলেন তৎকালীন রেকর্ড ৩১৮ রান।প্রিন্স অফ ক্যালকাটা ১১৫ স্ট্রাইক রেটে করা এই ১৮৩ রানের ইনিংসে দলের নেট রানরেট বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতকে পৌঁছে দিয়েছিলেন নিরাপদ ৩৭৩ রানের গন্ডিতে। এবার আসি গড অফ ক্রিকেটের কথায়। যাকে ছাড়া ক্রিকেট নিজেই অসম্পূর্ণ।হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন ভদ্রলোকের নাম শচীন রমেশ তেন্ডুলকর।রেকর্ডের পর রেকর্ড করা সচিন মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপরে যতটা নিষ্ঠুর সেই মানুষই আবার বাইশ গজের বাইরে নিপাট ভদ্রলোক।কোনো বিতর্কে জড়ানো দুরে থাক ক্রিকেটের স্পিরিট বিরোধী কোনো কিছু করতেনই না। কিন্তু এই শচীনই একবার উত্তেজিত হয়ে গালাগাল করেছিলেন তারই নিজের সতীর্থকে। তাহলে একটু খুলেই বলি। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের আসর বসেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।কিউয়ি কোচ জন রাইটের তত্ত্বাবধানে বিশ্বকাপের গোড়া থেকেই ভারত কেমন যেনো নড়বড় করছে।অবশেষে এলো সেই মহা প্রতীক্ষিত পাকিস্তান ম্যাচ।বিশ্বকাপে এর আগে তিনবারের দেখা হওয়া ভারত প্রতিটা ম্যাচ জিতলেও এবার যেনো খেলা শুরু হওয়ার আগে কিছুটা ব্যাকফুটেই।সৌরভের নেতৃত্বে ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক বেশ চিন্তিত ওয়াসিম আক্রম ওয়াকার ইউনিস তৎকালীন বিশ্বের সেরা এক্সপ্রেস বোলার শোয়েব আখতারের পেস ব্যাটারি সামলানো নিয়ে।অনেক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো পাকিস্তান যদি প্রথমে ব্যাট করে তাহলে ম্যাচ জিততে গেলে সেঞ্চুরিয়নের ফাস্ট উইকেটে পাকিস্তানকে ২৪০ এর মধ্যে আটকে রাখতেই হবে।কিন্তু সেটা আর হলোনা।সেঞ্চুরি করে বেরিয়ে গেলেন বহু ভারত-পাক যুদ্ধের নায়ক সেই পাক ওপেনার সঈদ আনোয়ার।তার করা ঝকঝকে ১০১ এর ওপরে ভর করে পাকিস্তান পৌঁছে গেলো ২৭৩ রানের বেশ ভালো একটা স্কোরে। ইনিংস বিরতির মাঝে ক্যাপ্টেন সৌরভ ডাকলেন ছোট্ট গোল মিটিং,উদ্দেশ্য হলো রান তাড়া করার গেম প্ল্যানিং করা।সহবাগ দ্রাবিড় যুবরাজ সবাই উপস্থিত হলেও আসলেন না ভারতীয় দলের স্তম্ভ শচিন তেন্ডুলকর।সৌরভ তার কাছে গিয়ে আলাদা করে জানতে চাইলেন রান চেজিংয়ের প্ল্যানিং।জীবনে কখনো উঁচু গলায় কথা না বলা শচীন ক্যাপ্টেন সৌরভকে কাঁচা খিস্তি দিয়ে উঠলেন।হতভম্ব মহারাজ তার প্রিয় ছোটোবাবুর মুখে গালাগালি শোনার পাশাপাশি এই নির্দেশও পেলেন এক্ষুনি যেনো শচীনের জন্যে আইসক্রিম জোগাড় করে দেওয়া হয়।শচীনকে আর না ঘাঁটিয়ে বিনা বাক্যব্যয়ে পড়িমরি সৌরভ ছুটলেন আইসক্রিম জোগাড়ের জন্যে।অবশেষে আসলো আইসক্রিমের একটা গোটা বার,কানে হেডফোন গুঁজে নির্লিপ্ত চিত্তে একটা গোটা আইসক্রিম গলাধঃকরণ করে শচীন ব্যাট প্যাড হেলমেট পরে পাক ব্যাটারির মোকাবিলায় চললেন বাইশ গজের উদ্দেশ্যে।কেউ না বুঝলেও সৌরভ বুঝেছিলেন আজকে কিছু একটা ঘটতে চলেছে।মানে শচীন সুলভ স্পেশ্যাল ইনিংস দেখা যাবে।সেই বিশ্বকাপে প্রত্যেক ম্যাচে আরেক ওপেনার বীরেন্দ্র সহবাগ ইনিংস শুরু করতেন।কিন্তু এই ম্যাচে তিনি ভয়ে ভয়ে শচীন পাজিকে ইনিংস শুরু করতে অনুরোধ করেন তার কারণ এর পূর্বে তিনি বিখ্যাত পাক পেসার বাঁহাতি ওয়াসিম আক্রমকে কখনো খেলেননি।ক্রিকেট অনুরাগী মাত্রেই জানবেন চট করে কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান তার নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতে চান না।কারণ তাদের ওই নির্দিষ্ট পজিশনে সেট করে যাওয়ার পাশাপাশি কুসংস্কারের ব্যাপারও থাকে।কিন্তু শচীন সেদিন ছিলেন যেনো কল্পতরু।এককথায় রাজি হয়ে কিশোরের কালজয়ী গান "চলতে চলতে মেরে ইয়ে গীত ইয়াদ রাখনা,কভি আলবিদা না কহেনা" গুনগুন করতে শচীন চলে গেলেন গার্ড নিতে।এরপর শুরু হলো লিটল মাস্টারের পাকপেসারদের বধ।স্বয়ং আক্রম থেকে শুরু করে শোয়েব ওয়াকার কেউই রেহাই পেলেন না।স্কোয়ার কাট থেকে শুরু করে স্ট্রেট ড্রাইভ সব অনাবিলভাবে বেরিয়ে আসতে থাকলো ক্রিকেট ঈশ্বরের উইলো থেকে।শোয়েবের ঘাতক বাউন্সারকে আপারকাট করে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন গ্যালারিতে,খেললেন ম্যাচ উইনিং ৯৮ রানের অপার্থিব ইনিংস।শচীনের ইনিংসে ভর করে বিশ্বকাপে চারে চার করে প্রতিবারই জেতার ঐতিহ্য ধরে রাখলো ভারত।তখন ড্রেসিংরুমে ক্যাপ্টেন সৌরভ নিশ্চিন্ত হয়ে মুচকি হেসে ফাঁস করলেন মাস্টার ব্লাস্টারের আজকের ইনিংসের রহস্য। শেষ আরেকটা ব্যাপার না বলে পারছিনা সেটা হলো দেশের নীল জার্সীটা পরে ক্রিকেটাররা যখন মাঠে নামেন তখন সীমান্ত পাহারা দেওয়া সৈনিকদের সাথে তাদের বিশেষ তফাৎ থাকেনা।আবেগের সাথে দায়িত্ববোধ মিশে তারা দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যান। ২০১১ সালের ভারতে হওয়া বিশ্বকাপে আমরা এমনই এক দেশপ্রেমী যোদ্ধার সন্ধান পাই।যিনি নিজের শেষ ঘাম রক্ত নিংড়ে দিয়েছিলেন ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে।বিশ্বকাপ চলাকালীন হরভজন সিং একটা ম্যাচের মধ্যে জলপানের বিরতিতে লক্ষ করলেন যে মিডল অর্ডারে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং হঠাৎ করে বমি করছেন।বমির সঙ্গে উঠে আসছে কাঁচা রক্ত।ভয়ার্ত হরভজন সঙ্গে সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টকে জানাতে যান যে যুবরাজ অসুস্থ।কিন্তু মনের জোরে বলীয়ান যুবরাজ ভাজ্জির হাত চেপে বারণ করেন কাউকে কিছু না বলতে।"মুঝে ওয়ার্ল্ড কাপ জিৎনা হ্যায়",অনুরোধ রেখে হরভজন কাউকে বলেননি কিন্তু দেখেছিলেন অমানুষিক শারীরিক কষ্ট সহ্য করেও হাসিমুখের যুবরাজ এক্স ফ্যাক্টর হয়ে কিভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ জেতাচ্ছেন।ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে জেনেও যুবরাজ ফিরে আসেননি।অবিচল থেকেছেন নিজের দায়িত্ব এবং কর্তব্যে।তিনি জানতেন এই উইনিং কম্বিনেশন থেকে চলে গেলে টিম ইন্ডিয়া অসুবিধায় পড়বে।দেশবাসীর ২৮ বছর ধরে সযত্নে লালিত বিশ্বকাপ জয়ের অধরা স্বপ্ন ধাক্কা খাবে।ক্রিকেটীয় জীবনের প্রায় সব মুকুট অর্জন করা গুরুদেব শচীন তেন্ডুলকর নিজের শেষ বিশ্বকাপেও পাবেন না শৃঙ্গজয়ের আস্বাদ।তাই যুবরাজ ফিরে তাকাননি,পিছিয়ে আসেননি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে।ভঙ্গুর শরীরে ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত হয়েও দাঁতে দাঁত চিপে চালিয়ে গেছেন এই অসম মহাযুদ্ধ। অবশেষে ২রা মে ২০১১ বিশ্বজয়ের রাতে ওয়াংখেড়ের বুকে গর্বের তেরঙ্গা উড়িয়ে ক্ষান্ত হয়েছেন তিনি। আমরা ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের পাশাপাশি পেয়েছি মৃত্যুঞ্জয়ী এক যোদ্ধাকে।

45 views
  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Instagram

©2019 by Blogtog.